শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫

বাবাজী

সবাই বলে বাবাজী অল্প খায়। আমিও তাই দেখি। কিন্তু বাবাজী না খেয়ে স্বাস্থ্য এতো ভালো রাখেন কীভাবে?  সারা শরীরে শুধু মাংস আর মাংস। টুল মাংস মিনিমাম আশি কেজি তো হবেই। অনেক ভক্তপ্রাণ মুরিদও বলে বাবাজীর খেতে হয় না। বেশি খেলে আত্মা মারা যায় এমন ওয়াজ বাবাজীও করেন। ধরেই নিয়েছি জান্নাতের সাথে বাবাজীর সরাসরি যোগাযোগ আছে। জান্নাতী খাবার অল্প হলেও হাই প্রোটিন সমৃদ্ধ। আল্লার ফেরেশতা নিশ্চয় খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন মেশায় না।

আমারও ফরমালিনমুক্ত খাবার খেতে তীব্র ইচ্ছা। তাই বাবাজীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করলাম। তাঁর সাথে সাতদিন ছিলাম। আমার শরীরের মাংস দুই কেজি বেড়েছে।

তাহলে কী বাবাজী আমার জন্যও জান্নাতের রেস্টুরেন্টে খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন?

অবশ্য, কেন নয়!

দয়াল বাবা কেবলা কাবা!

তবে দয়াল বাবার জান্নাতের নাম সাধারণ মানুষের বিশ্বাস। দয়াল বাবা সরল মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে শরীরের মাংস বাড়ায়, বাড়ি- ঘরের জৌলুস বৃদ্ধি করে।
বাবাজী প্রতিদিন একটি গ্রাম সফর করেন। একটি গ্রামে বাবাজীর ভক্ত কম হলেও দুইশত। গ্রামের যে গরীব মানুষটি তিন বেলা ভালো করে খেতে পারে না, সেই মানুষটিও বাবাজীকে খালি হাতে ফেরত দেয় না। হাদিয়া হিসাবে নুন্যতম একশ টাকা হলেও বাবাজীর এ্যাকাউন্টে জমা রাখে। বাবাজী লাগবোনা লাগবোনা করে অন্য ভক্তদের কান খাড়া করে। কোনো কোনো ভক্ত বাবাজীকে দেখামাত্র গরুর সরাসরি দুধ উষ্ণ গরম করে বাবাজীর সামনে হাজির করে, আবার কোনো ভক্ত কচি মোরগকের রুস্ট  প্রস্তুত করে। বাবাজী তখন মৃদু হাসে আর বলে,

``পাগল, এই পাগলরা জাহান্নামে গেলে আগুন নিইব্যা যাইবো।"

 বাবাজী ভক্তের বাড়ি থেকে দোয়া না করে চলে আসতে পারেন কিন্তু কারো হাদিয়া, খাবার গ্রহণ না করে আসতে পারেন  না। কারণ ভক্তদের বোঝানো হয়েছে
বাবাজী খুশি থাকলে নবীজী খুশি, আর নবীজী খুশি থাকলে আল্লা খুশি।
বাবার এই আধ্যাত্মিক কর্ম দেখার পর আমি আর খুশিচক্রে নিজেকে আবর্তিত রাখতে পারিনি। তাতে হয়তো আমার জন্য জাহান্নামে একটি আগুনের রুমও বরাদ্দ হয়ে গেছে। আমারে দিয়া জাহান্নামের ফেরেশতারা বারবিকিউ বানাবে আর বাবাজী হয়তো আমার জন্য প্রার্থনা করবেন না। কারণ আমি তো তার জন্য হাদিয়া কিংবা খাবার মজুদ রাখতে পারি নি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন