বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

বিসময়

 চলছে ঘড়ি ঠিক ঠিক 

হাটছে বাতাস ঠিক দিক 

ঝড় এলে মানুষ পালাবে 

পালাবে কোথায় ঝড়ের দেশে 

আইন ঠিক সব ঠিক 

সব ঠিক আইন ঠিক

সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১

দুই লাইন

 আকাশে বরফ জমিনে বৃষ্টি 

আকাশে মৃত্যু জমিনে সৃষ্টি

এক লাইন

 জীবনের ফুটপাতে এসে মহাসড়কপথ শেষ হয়ে যায়

সামাদ ন্যাংটার মাজার জিয়ারত

 সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা প্রকৃতির অপার মহিমায় লালিত নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার প্রায় ত্রিশ হাজার লোকের আবাস ভূমি সল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ। পরিবার সংখ্যা ৫,১৭০ টি । গ্রামের সংখ্যা ৩ টি।মৌজার সংখ্যা ৪ টি। হাট/বাজার সংখ্যা ৪ টি।  ইব্রাহিমপুর মুক্তিযোদ্ধের বধ্যভূমি, ইব্রাহিমপুর সৈয়দ মোঃ  আঃ খালেক শাহ (রা) এর মাজার শরীফ এই ইউনিয়ন পরিষদের যেনো মোমবাতি রেখা। 


আমরা সল্লাবাদ গিয়েছি। উদ্দেশ্য সামাদ শা'র  মাজার পরিদর্শন। নেংটার মাজার হিসাবেও সল্লাবাদের এই মাজারটি পরিচিতি লাভ করেছে। আভিধানিকভাবে এটি সররাবাদ দক্ষীণ পাড়া আঃ ছমেদ লেংটার মাজার শরিফ নামে বেশ জনপ্রিয়। নেংটা মানে উলঙ্গ। অর্থাৎ ছামাদ সাহেব কাপড় পরিধান করতেন না। তার পীর জলিল শাহ। জলিল শা'র বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কালিগুচ্ছ। নেংটা কাউকে মুরিদ করতেন না। যারা তার কাছে আসতেন সবাই তার ভক্ত। নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, সিলেটসহ বাংলাদেশের অনেক জায়গায় তার ভক্ত রয়েছে। তিনি কেনো কাপড় পরিধান করতেন না তার বিলকুল উত্তর কেউ দিতে পারে না। তবে কেউ কেউ বলে তিনি নাকি বলতেন, তিনি নাকি কোনো মানুষ দেখেন না, তাই কার জন্যে তিনি কাপড় পরিধান করবেন। আসলেই তো, তিনি সাধু হবেন কি করে যখন সমাজ কলোনি তাকে মেনে নিতে হবে।  


আমরা কথা বলেছিলাম নেংটার মাজারের একনিষ্ঠ ভক্ত মিজান মিয়ার সাথে। তিনি মিজান বাবা নামে পরিচিত। জানতে পারি নেংটা খাবারের মধ্যে সিদ্ধিটাই (গাঁজা, সাধারণত মারিজুয়ানা, গঞ্জিকা, গাঞ্জা, সিদ্ধি ইত্যাদি নামে পরিচিত) খেতেন ভালো করে। তবে নেংটা আরাম করে খেতেন ঘুনপোকা। ঘুনপোকা খেতেন আর বলতেন যে তিনি যেনো  অমৃত খাচ্ছেন। কেচো খেতেও তিনি পছন্দ করতেন। 


মায়ের কথা রাখতে গিয়ে সামাদ পাগলা বিয়ে করে। পাগলা বউয়ের সাথে কি আচরন করে তা দেখতে ও শুনতে হুলার বেড়ার পাশে দাড়িয়ে থাকে পাগলার উৎসুক ভাবিরা। বাসর ঘরে ঢুকেই পাগলা বউকে 'মা' বলে সম্বোধন করে। কিছু সময় বউয়ের সাথে কথা বলে শাহাদাত আঙুল দিয়ে বউয়ের পেটে একটা গুতা মারে। তাতেই তার এক সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু সন্তান তার বাচেনি। বউয়ের সাথে আর কোনো যোগাযোগ রাখেনি নেংটা পাগলা। 


পাগলা গুরসিল্লা দিতেন। গুর মানে কবরস্থান। অর্থাৎ পাগলা কবরের ভেতরে কখনো একচল্লিশ দিন কখনো ষোল দিন কখনো দশ দিন একটানা অবস্থান করতেন। গুরসিল্লা কালে তার খাবার ছিলো দুধ আর গাজা। এখনো সিল্লা দেয়ার কবরটা তার মাজারের পাশে নির্দেশনা রূপে অবস্থান করছে। আমিও দশ মিনিটের একটি সিল্লা দিয়েছি বাবার গুরসিল্লা দেয়ার কবরটাতে। নবী ভাই কবরের ভেতরে গিয়ে এক মিনিট অবস্থান করতে পারেননি। কারন ভাইয়ের সাফোকেশন হচ্ছিল। এ্যারিক, সৈকত, সুমন এন্টমের প্রবলতর কোনো প্রবলেম হয়নি গুরের ভেতরে অবস্থান করতে। কবরের ভেতরে অবস্থান কালে একধরনের বিশেষ প্রশান্তি মনেপ্রানে ঢেউ খেলে যাচ্ছিল আমার।


প্রশ্ন আসতে পারে নেংটা বা সামাদ পাগলা বা সিদ্ধিখোর এই নির্লিপ্ত পাগলার কাছে মানুষ কেনো নিজেকে সমর্পণ করে দিতো। উত্তর অনেকভাবে দেয়া যেতে পারে। তবে সত্য কথা এই যে ক্রনিক ট্রমায় আক্রান্ত মানুষদের জন্যে তিনি  ছিলেন একজন প্রাকৃতিক চিকিৎসক। সামাদ পাগলা আগুনের পূজা করতো। প্রতি সন্ধ্যায় সে আগুনে প্রচুর কাঠলাকড়িকে ছাই করে দিতো। মিজান বাবা ও এলাকার অন্যান্যদের কাছ থেকে জানতে পারি অসুস্থ বাচ্চাদের নিয়ে তিনি পানির নিচে ডুব মারতেন। জলের নিচে কিছুক্ষণ থেকে আবার তিনি বের হয়ে আসতেন। বাচ্চা সুস্থ হয়ে যেতো। 


খালিয়াকান্দি খাল, সররাবাদখাল,  নিলক্ষীয়াখাল, সররাবাদ গজারিয়াবড় বিল, বড়কাজী বাড়ীবিল, ইব্রাহিমপুর বড় বিল, নিলক্ষীয়া বিল,পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী এই সল্লাবাদ ইউনিয়নকে জলদুগ্ধস্তন দান করেছে। বাংলাদেশ মানেই নদীমাতৃকা পললভূমি দয়িতা। এই জলধারা আর মাজারধারার মধ্যে কোথাও যেনো একটি গভীর তীক্ষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এবং আমরা দেখতে পাই অধিকাংশ মাজার, তপস্যা মন্দির জলধারার কাছাকাছি। 


বাংলার অধিকাংশ জলধারা এখন শুকিয়ে যাচ্ছে। এটা অবশ্যই হতাশার কথা। মাজারের পাশে চায়ের দোকানে বসে স্থানীয় এক কৃষকের সাথে কথা বলে কিছুটা আশা খুজে পাই। যখন কৃষকের সাথে কথা বলছি সৈকত আর ইশহাক এ্যারিক গ্যাছে বাবার মাজারে দোয়া চায়তে। পরে সৈকতের কাছ থেকে শুনতে পেয়েছি এ্যারিক প্রায় ত্রিশ মিনিটের মোনাজাতে আল্লার কাছে নেংটা বাবার জন্যে দোয়া করেছে, আমাদের সবার জন্যে দোয়া করেছে। এ্যারিক যখন মোনাজাত করছে তখন তার চোখ দিয়ে জলের একটি ধারা নেংটা বাবার মাজারের ফ্লুরের সাথে মিশে যায়। আর আমি আর সুমন এন্টম মিশে যাই কৃষকের আখ চাষের গল্পের সাথে। নবী ভাই চায়ের দোকানের বেঞ্চে ঘুমের সাথে মিশে গ্যাছে। কৃষক শুনায় গত বছর আখ চাষ করে তার আশি হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এই বছর(২১-২২) এক লাখ টাকার উপরে লাভ হবে বলে সল্লাবাদের এই ইয়াং কৃষক আশা করছে। আশার কথা শুনতে ভালোই লাগে। কারন আশাই একমাত্র জীবনের কার্যকরী ভ্যাক্সিন। 


মুক্তিযুদ্ধ এবং সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখায় আইভি রহমানকে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার-২০০৯ (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়৷ জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাস, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তোরন ও নামফলক আইভি রহমানের নামে নামাঙ্কিত হয়েছে। আইভি রহমানের  সম্মানার্থে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে ভৈরব স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে শহীদ আইভি রহমান পৌর ষ্টেডিয়াম রাখা হয়। আইভি রহমান (৭ জুলাই ১৯৪৪ - ২৪ আগস্ট ২০০৪) বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী ছিলেন। তার পুরো নাম জেবুন্নাহার আইভি। জীবদ্দশায়  তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য। 

নাজমুল হাসান পাপন (৩১ মে, ১৯৬১) আইভি রহমানের ছেলে। কালিকাপ্রসাদ যেমন কালির প্রসাদ তেমনি নাজমুল হাসান পাপন এই সামাদ নেংটার প্রসাদ। এই তথ্য আমরা আগে জানতাম না। এই মাজারে এসে জানতে পারি। এই মাজারে এসে জানতে পারি মাজারের সবচেয়ে বড় ডেগচীটা উপহার হিসাবে দিয়েছেন আইভি রহমান। 


আইভি রহমান শহীদ হয়েছেন। আইভি রহমান বেচে থাকলে এই মাজারে আরও উন্নতি ও সমৃদ্ধি হতো বলে মনে করে মাজারঘেষা ভক্তরা। কিন্তু মাজারে যে নেংটা বাবা শুয়ে আছেন তিনি কী ভক্তদের মতো উন্নতি ও সমৃদ্ধি সিরিজের গহবরের তলে তাল মেশাতে চান!?


এখানে ভক্ত আর সাধুদের মধ্যে পার্থক্য। আবার শাহ আব্দুল করীম বলেছেন ভক্তের অধীন হওয়ার জন্যে" ভক্তের অধীন/ হও চিরদিন/থাকো ভক্তের অন্তরে", কিন্তু ভক্ত চায় দুনিয়া আর সাধু চায় দুনিয়াবিমুখীতা। এই দ্বন্দ্ব সামনে রেখে পৃথিবী ও তার রহস্য নিয়ে যখন ভাবছি তখন দেখি আকাশে শাবান মাসের পূর্নপুর্নিমা। গাছের ফাক দিয়ে পাতারং জোছনা স্বল্প স্বল্প থেকে অধিক হয়ে উঠার দৃশ্যগল্প জীবনের খাতায় জন্ম দেয় নতুন কিছু বর্নের। এই নতুন বর্ন নতুন বাক্য নির্মান করবে। এই নতুন বাক্য হয়তো পৃথিবী ও তার রহস্যের নতুন উপলব্ধি জাগ্রত করবে জীবনের সবুজ পাতায়। এরই নাম জীবন। আমরা বাড়ি যাচ্ছি। প্রত্যেককে বাড়ি যেতে হয়।

বাংলাভূমি

 নও লাল নও সবুজ 

সহজ সরল মিষ্টি লাজুক 

নও লাল নও সবুজ

ভোগে অবুঝ প্রেমে গম্বুজ

নও লাল নও সবুজ 

ভাসছে জলে কথার কাগজ 

তীর এখন তীর এখনো 

দূর বহুদূর 

বাড়ছে বয়স কমছে কাজ 

চোখে সুখ মুখে লাজ 

সাজের উপর বাড়ছে সাজ 

রাষ্ট্রবাংলা দেশটি আজ 

পাখির চোখে উড়াল ভাজ 

ন লাজ ন সবুজ 

নও লাল নও সবুজ 

জাগবে তরুন জাগবে অবুঝ 

দেখবে তুমি 

দেখ পৃথিবী 

রঙে মাতাল 

প্রেমে স্বর্গ স্বর্গপাতাল 

সবুজঢাকা 

শ্যামলপাতা

রাষ্ট্রবাংলা বাংলাভূমি