মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০১৪

তারানির ডাক্তার

রাত আসে, চলেও যায়। তারাচানের কাছে রাত  আসতে সময় লাগে, খুব সময় লাগে। সারাটা দিন কাটে রাতের দিকে চেয়ে চেয়ে।
জন্মমাত্র একটি ছেলেশিশুর মনে সাজানো থাকে এক কোমল পৃথিবী। এই পৃথিবীতে থাকে একটি নারী শিশুর সেট আপ। মিস্টি বৃষ্টিতে কিছু কিচিরমিচির পাখি গোল্লাছুট খেলে। তারাচানের দিনময় মনে সেই নারী শিশুটিও গোল্লাছুট খেলে। কেবল রাতেই  রাজা-রাণীর ওয়াজ চলে । অনেক রহস্যের জগৎ আবিষ্কৃত হয়। জামাই মিয়া পরীর ওয়াজ করে। যে পরীকে সঙ্গে নিয়ে তারাচান জন্মগ্রহণ করেছে, সেই পরীর ওয়াজ।  তাকে ঘিরে বসে থাকে লিপা আফা, মুলাম হা, তারাচান। মাঝে মাঝে লালু এসে জড়িত হয়। সারারাত মুগ্ধ হয়ে পরীর ওয়াজ শোনে তারা। জামাই মিয়া যাত্রার ঢঙে সরবরাহ করে কথারমালা।রাত ফুরিয়ে যায়। কানে আসে এক বিদেশী সুর --
আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউয়ু
জামাই মিয়া ওয়াজ থামিয়ে দেয়। কিন্তু শিশুমন শোনতেই চায় --
কাহা আরেকটু কও, ফরিডা কী ফুলের বাগে ঐ লাইতে আইছিন?
কাহা আর বলে না। তারে যে সহালে কামে যাইতে অইবো। অতৃপ্ত মন নিয়ে ঘুমাতে যায় তারাচান। হাজারো বছরের পুরনো ঘুম।

আজ তারাচান পরীকে দেখে। কিন্তু এই পরীর পেছনে পাখা নেই। পাখা আছে পরীর মনে। যে পাখা দিয়ে পরী উড়ে বেড়ায় আকাশে বাতাসে। উড়ে বেড়ায় স্বপ্নের রঙিন দেশে। চোখ মিলে খোঁজতে থাকে এক নায়ককে, যে তাকে বুঝবে --
হুনেন, দোহানে যে ডাক্তারটা বঅ, হে আমারে ছেকা দিছে,
-কেমনে
হেরে আমার মনে দরছিন, কিনতু হে নাকি বিবাহিত, শুধু বিবাহিত, হের জি ফোলাও আছে

তারাচান মুগ্ধ হয়ে পরীর কাছ থেকে পরীর কিস্সা শোনে। ছোট্ট কালের পরীর সাথে তাকে মেলানোর চেষ্টা করে। মিলে না। কিন্তু অমিলটাও কেন যেন মিল হয়ে দাড়ায়। নদীর ঢেউ আর কূলের মাঝে যে সম্পর্ক সেই সম্পর্কে এগিয়ে যায় তারাচান -তারানি যেন তিস্তা আর ইছামতী নদী, নদীর জোয়ার! 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন