শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬

বহুতি

সূর্য বিদায় নেয়ার সাথে সাথে আমার মনের প্রশান্তির দরজা খুলে যায়। যতই রাত হতে থাকে ততই আমার মনের আনন্দ বাড়তে থাকে। আনন্দমনে ঘুমাতে যাই।

ঘুম থেকে উঠেই দেখি সেই সূর্য যাকে পেঁচা সহ্য করতে পারে না ``পেঁচা রাষ্ট্র করে দেয় পেলে কোন ছুতা, জান না আমার সঙ্গে সূর্যের শত্রুতা "। পেঁচার সাথে আমার অনেক অমিল তারপরও একটি মিল অনেক অমিলকে পরাজিত করে দেয়।

ছোট্ট কালে খুব রাতে ঘুম ভেঙে যেতো, তখন রাত আমার কাছে কোনো প্রিয়তা ফুল নয় যার গন্ধে নিজেকে সুখ দিতে পারতাম, তখন পেঁচাডাকে কেমন যেন ভয় জাগানিয়া সুর। আম্মাকে তখন আরো আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরতাম। তখন থেকেই আম্মার বুক আমার জন্য নিরাপদ আশ্রয়। সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নেয়, আম্মার মুখ তখন আগের চেয়েও শক্তিশালীভাবে আমাকে রক্ষা করার জন্য আমার উপস্থিতির সামনে চলে আসে।

আম্মা বলতেন পেঁচাটির নাম হুতুম পেঁচা, ডাহুক পেঁচা ডাকতেই ভালো লাগতো আমার। ভালোলাগার যে কত অদল বদল হলো আমার, আরো কত যে হবে....

সূর্যসকালে গাডায় গিয়ে দেখি ভয় জাগানিয়া পেঁচা  ভয়ঙ্কর গম্ভীর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমিও তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম, আমাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকতো সূর্য। তখন সূর্য আমার প্রিয় বন্ধু। কারন সূর্য ওঠা মানে আর ঘরের ভেতর থাকতে হবে না, আমরা সবাই যারা রাজা আছি ব্যাটবল নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম আমাদের রাজত্বে।

সূর্যের পুরোটা সময় আমরা খেলা নিয়ে মেতে থাকতাম, তাম্বু লাল হয়ে আসা মানে আরেকটি রাত, আরেকটি পেঁচার ডাক, ভয়ার্ত মনে আম্মাকে খুব করে জড়িয়ে ধরা।

আম্মা থাকে গ্রামের বাড়ি, আমি ঢাকা শহরে, মাঝে মাঝে আম্মার দেখা পাই কিন্তু ডাহুক পেঁচার দেখা আর মিলে না।

কয়েকদিন আগে বালু নদীর খাল থেকে পূর্ব বাড্ডা কবরস্থানের দিকে যাচ্ছি,  এমন সময় দেখি আমার সেই ছোট্ট কালের ডাহুক পেঁচা আর তাকে ঘিরে আছে কাকের কা কা, দুইশত ষাট ডিগ্রি এ্যাঙ্গেলে সে ঘাড় এদিক ওদিক করছে, কিন্তু কাকের কা কা যথেষ্ট নাছোড়, কাকের কাছে অবশেষে জীবন দিতে হলো আমার শৈশবের ভয় জাগানিয়া একমাত্র পেঁচাটিকে, তাও আবার কবরস্থানের মানুষগ্রাসী মাটির উপরে ....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন