বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৫

পুজো

পুজো দেখতে বের হলাম। আবহাওয়া স্বাস্থ্যকর। আকাশের চাঁদ নদীর স্রোতের মতো বাঁকা। রাত তাই নরম তুলার মতো আরামদায়ক বাতাস হয়ে মস্তিষ্কের এক দিগন্ত থেকে অজানা দিগন্তে।

পুজো দেখতে বের হলাম কথাটি সামাজিক সত্য। বাস্তব সত্য সুন্দর মানুষ দেখতে বের হলাম। সনাতনী মানুষ চোখের বাতায়নে শীতল হাওয়া-বাতাস নিয়ে আসে।

সনাতনী মানুষ এতো সুন্দর হয় কেন?

সুন্দর বলতে আমি যা বুঝি তা হলো সজীবতা, তাদেরকে সজীব দেখায় কারন  তাদের খাবারের ম্যানুয়েল। তাদের খাবার সরাসরি প্রকৃতির সাথে জড়িত। ফলে প্রকৃতির শ্যামল শোভা তাদের চেহারায় প্রবেশ করে। তাইতো শিল্পীর আঁকা প্রতিমার চেয়ে অনেক প্রতিমাময় চোখের সামনের কিছু মুখ।

প্রতিমাময় কিছু মুখ দেখার জন্যই পুজামণ্ডপে আমি। দুর্গার সামনে মাথা নত করে প্রণাম করছি। চোখ মেলে দেখি প্রসাদ। প্রসাদ খেয়ে বেশ তৃপ্তি পেলাম। মাজারের খিচুড়িও বেশ তৃপ্তিদায়ক। মসজিদের জিলাপির নাম শুনলেই জিহ্বায় জল চলে আসে। একটু পরে গান শুরু হয়। চমৎকার হিন্দি গান। আবার হিন্দি গানের সুর নকল করে বাংলা গান। গানের কথাগুলো কানে লেগে আছে--

রসগোল্লা রসে টলটল

আমি তখন দুর্গার দিকে তাকাই। কোথাও কোনো রস দেখতে পাই না।
তাহলে রস কোথায়?
হ্যাঁ, রস আমাদের মনে। মনে রস নিয়ে সবাই চরম মাস্তিতে ব্যস্ত। দেখলাম দুর্গার  পা থেকে মিউজিক বের হয়ে আসছে। আর্য-অনার্য দ্বন্দ্বে নারী হয়ে ওঠেছিল পুজোর উপকরণ, প্রথমবারের মতো  স্থাপিত হয়েছিল পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব।
কিন্তু দুর্গার পায়ের নিচে আলো-আঁধারি মিউজিক আসলো কী করে?

এখানে হয়তো কোনো অমানবিক অজ্ঞতা লুকায়িত!

কড়া মিউজিকের শব্দে প্রস্থান করতে বাধ্য হলাম। যখন পুজামণ্ডপ থেকে অনেক দূরে তখন উপলব্ধি করতে পারি কানে শুনতে পাচ্ছি না। কড়া মিউজিক আমার শ্রবণে বাঁধ দিয়েছে।

সমস্যা নেই, দুর্গা দর্শনে এমন দুই একবার শ্রবণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হতেই পারে। আবার সমস্যা দূর হয়ে যাবে( দুর্গা দুর্গতিনাশিনী) , আবার প্রতিমা দর্শনে বের হবো, আবার থেকে আবার,
এইভাবেই ভুলের পর ভুল সাজিয়ে তৈরি হয় আমার সমাজ।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন