বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪

রাজনগরের বেটি ল

কোপাই নদী।
খোয়াই নদী। তোমার জলে চমৎকার নুড়ি!
বাঁশপাতার সজীবতা তোমার জলে,
তোমার জল কত শান্ত, সিগ্ধ, সমাহিত, প্রাগৈতিহাসিক, প্রাজ্ঞ!তোমার জল অভিমানী সুন্দর , ঝড়প্রবণ মনোহর।
তোমার জলে স্নান করবো বলে জন্মের পর গতরে জল লেপন করিনি। তোমার জলে তৃষ্ণা মেটাবো বলে মানুষের পৃথিবী বদল করেছি, হয়েছি চাতকপৃথিবীর বাসিন্দা।

বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়,

বিশ্বাস রাখি ভালো আছো,

তোমার নির্মিত দেয়ালচিত্রে কপালকুন্ডলার দেখা পেলুম। লালমাটির কপালকুন্ডলা। কোনো কথা বলে না, কথা না-বলায় যেন অনেক কথা, কথা না-বলায় যেন গীতব্যথা।

আমি কী তবে পথিক ,পথহারা পিথাগোরাস?

 জন্মবছর থেকে এখনো হাঁটছি তোমার কপালকুন্ডলাকে চোখে রেখে, মনে ধারণ করে। আমি তো হতে পারতাম সফরসঙ্গীর পদাঙ্ক অনুসরণে সচারচর পুরুষ। সবকিছু ছেড়ে বনলতার কাছে করেছি নিজেকে সমর্পণ, উদ্যানলতার আশা করেনিতো কোনোকালে।

বলো তো বিনোদবিহারী,

কপালকুন্ডলা কেন এতো লাস্যময়ী, হাসির আড়ালে কেন তার মেঘের মতো দূরত্বমৈথুন?
আমি তো সেই সকাল থেকে বসে আছি সাঁওতালী মনে, মনের বিছানা পেতে।

শনিবারের হাঁট,

তোমার বাড়িতে যাবার নেমন্তন্ন আসে ইনবক্সের খামে। তোমার গাছের ঢালে ঢালে দুত্রুয়েল বাজনা, তোমাতে  মানুষের সরল আনাগোনা, সরল টানে কিনে কেউ কানামাছি-বৌছি।  তোমার সরব আঙ্গিনায় আসব, আসবে সে।
কিন্তু সে তো চলে গেছে পৌষমেলার গভীরে, চলে গেছে দেশীয় পিঠাঘরে, বন্যনিয়ম যেখানে শরম নিয়ে চলে। নন্দলাল বসুর কলাভবন দেখেছি তো বহুবার, তাইতো প্রশ্ন জাগেনি নারীর যোনিএলাকা ঘোড়ার দখলে কেন।
বন্য হতে যদি এতো ভয় কেন তবে দয়িতার গীতাপাঠ? নটিমূর্তি দাঁড়িয়ে আছে, বসে থাকা তার স্বভাবের জেলখানা, আমরা তো রেগে যায়, রাগারাগির ব্যাকরণ জানিনা, মানিনা।
তবু রাখাল হব,বিশ্বাস রাখি তুইও রাখালী,

রাজনগরের  বেটি ল
বলনা স্বাদ না মিটি ল

উৎসব উৎসের কথা বলে। রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করেছিলেন আমাদের চিরচেনা উৎসবগুলো খুব বেশী সাম্প্রদায়িক চেতনায় আবৃত। তাই তিনি মোড়কচেতন থেকে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন ঋতুউৎসব চালু করেন। বসন্ত উৎসব তারই মধ্যে একটি। উনিশ শত কুড়ি সালে বসন্ত উৎসবের একটি প্রাথমিক সূচনা আমরা দেখতে পাই। আজ কিন্তু বসন্ত উৎসব বেশ বড় পরিসরে আমাদের সামনে ধরা দেয়। বসন্ত যখন আসতে শুরু করে ( আজি জাগ্রত বসন্ত দ্বারে) তখন আম্রকুঞ্জ, শালবীথি, বকুলবীথি আনন্দ ধ্বনির স্ফুলিঙ্গ উড়াতে থাকে, আশ্রমবাসীর জীবনে, মনন চর্চায় আসে নব সাজের প্লাবন।
আজ শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব। আজ তোমার চোখে- মুখে বাসন্তী সাজ। সজ্জিত তোমাকে চঞ্চল হরিণীর মতো দেখায়, তাইতো বুভুক্ষ বাঘের দৃষ্টি তোমার শিল্পরীতির প্রকৃষ্ট এলাকায়। আমি সাদা পাঞ্জাবি পড়ে তোমার সঙ্গী হওয়ার কথা, হওয়ার কথা অসংখ্য লোকের স্রোতে ফেনায়িত ঢেউ। কিন্তু হলো কোথায়, কত ``হওয়া"  হয়ে উঠে না,
স্বাদ আর সাধ্যের মাঝখানে ঝুলে থাকে মধ্যবিত্ত জীবন!
সারাদিন তুমি আনন্দের জলে স্নান করলে। রাতে ফোন করে আনন্দের আংশিক পর্ব সম্প্রচার করলে ইথারের কাছে। অথচ ইথার তোমার অদৃশ্য নাটকও আমার কাছে রোজ টিলিকাস্ট করে পূর্ণ অবয়বে। আমি তো এমনই, খবরের পেছনের খবরও রাখি।
অনেক কিছু জেনেও শিশু হতে খুব আয়েশবোধ করি।
কেন বল তো?
শিশুরা উত্তর দিতে জানে, উত্তর তৈরি করতে জানেনা।
সূর্যের আলোতে ছাতিম ছায়া যখন অঙ্গার হয়ে জ্বলে তখন আমি শিশু, আবার রাতের আঁধারে ছাতিম শরীরে যখন টুইংকেল টুইংকেল জোনাক জ্বলে তখনো ভেতরের শিশুটিকে জাগ্রত রাখি। শিশুর পোশাকে আমি জীবনের গান গাই,আমার জীবনকে ফুটিয়ে তুলি তোমার পথচলায়।
 পথচলায় তো আমাদের ঠিকানা, আমাদের শান্তির নীড়, প্রশান্তির আস্তানা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন