রবিবার, ৯ জুন, ২০২৪

আমি তারে ন জিগাই

 কার সাথে থাকে সে কার সাথে যায় 

আমি কি তারে জিগাই


আমি কি তারে জিগাই 

কার সাথে বসে সে রোজ কফি খায়


কার উঠোনে সে প্রতিদিনের আলো 

কার চোখ সে কাবা রঙের কালো 

কার মনে সে সবচেয়ে ভালো

কে করে গল্প তার সাথে লাউ সবজি আলু  

কার সাথে হেসে খেলে তার দিন কেটে যায় 

আমি তো তারে ন জিগাই


আমি তার গাছ হয়ে ফল দিতে চাই 

ছায়া হয়ে তাপ দেয়া রোদকে থামাই

বর্ষায় তার পাশে বর্ষালি ছাতায় 

ভরা চুল হয়ে বাচি তার উদাম মাথায়


কার সাথে মেতে উঠে আদিম খেলায় 

রাত বৃষ্টি থরথর শরীর বেলায়

ফুলের উপর নামে ঘুম টিনের চালায় 

আমি তারে ন জিগাই 

আমি তারে ন জিগাই


হাতচুড়ি বেজে উঠে কোন রাতে লেগে 

তার মন নেচে চলে কোন আকাশ মেঘে 

তার চুলের ঘ্রাণ পেয়ে কে উঠে জেগে

তার শরীর সবুজ পায় কোন আবেগে 

না জিগাই 

ন জিগাই 

আমি তাহাকে


সূর্যোদয়ের স্বপ্ন হয়ে থাকি তার পাশে

সবুজে অবুঝ হয়ে জমে থাকি ঘাসে 

ঢেউয়ের তীর হয়ে হাসি উল্লাসে

শনিবার, ৮ জুন, ২০২৪

ভালোবাসি পুরোপুরি

 ভালো বাসাবাসি— পুরাতন কথা

এসো আমরা নতুন হই 

শরীরের পিরামিডে গল্পের নদী  

শিশুর হাতে জমা রাখা নতুন বই 

গল্পের মাটিতে রোপণ করি আশা 

পাতার সবুজে বানাই কপোত-কপোতী বাসা 

ফসলের স্রোতে ভেসে আসা হাসি অনাবিল চাষা 

চোখে রাখি পাগলা নদী 

ঠোঁটের নালায় তিতাসের জল

পানা দুজন ভেসে যাই যাযাবর দল 

ভেসে ভেসে যাই 

হেসে হেসে পাতার ঘরে সবুজ সাজাই 

রোদে তাপে বৃষ্টি

মনেধরা সৃষ্টি 

নতুনে নতুনে আরও নতুন হই 

না বলি অবলা কথা

গাছের শেকড়ের গভীর ব্যথা 

দেখাজন্ম যথাতথা

বোঝাপড়া হোক ভালো 

শরীরের স্রোতে ডুবে থাকি— পানকৌড়ি আলো

শনিবার, ১ জুন, ২০২৪

রাধা তুমি কৃষ্ণমনে

 অলঙ্কার তোমার অঙ্গে 

কলঙ্ক তোমার সঙ্গে 

কৃষ্ণ তোমার প্রানে

তুমি প্রিয় সুর কৃষ্ণের গানে

রাধা তুমি পৃথিবী

পৃথিবীর তিনভাগের জল

পৃথিবীর তুমি বৃক্ষ 

বৃক্ষের তুমি পরিপক্ক ফল 

কলঙ্ক চাঁদে

কলঙ্ক তোমার কাধে

কৃষ্ণের বাশি তোমার কবজ 

এমন নেই কোনো ফাদ যা তোমারে বাধে


তাহলে?


চলো দেহস্নানে যাই প্রভাতে 

মাখুক তারা কলঙ্ক দেশবাংলার সভাতে

সুযোগ করে বসতে দিও

 ক্ষয়ে যেতে চাই

ক্ষয়ে যেতে আসছি 

কোন রোদের তাপে ক্ষয়ে যাবো 

তা নিয়ে ভাবছি 

বরফ নদী বাষ্প হয়ে 

পৃথিবীতে থাকছি 

কল্পনায় গল্প হয়ে 

কথাজলে ভাসছি 

পাতার সাথে পাতানি আছে 

তা জেনে আসছি

পাতার ভেতর জন্ম আমার 

সবুজ আমি দিনে দিনে বাড়ছি 

আমার ভেতর একলা আমি 

একের ঘরে হাটছি 

হাটতে হাটতে সাগর তীরে 

বালুর বাসা বাধছি 

সুযোগ হলে 

দেখে যেও 

আমার ভেতর তোমার ছবি 

খুব যতনে জলিম করে

নিয়ন রঙে আকছি

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

হে পুত্র আমার

 যারা অবিশ্বাসী তাদেরকে আমি শ্রদ্ধা করি— যাদের বিশ্বাস করার ক্ষমতা নেই তাদের জন্যে আমার করুনা হয়। মানুষ এক উদ্ভুত পাখি যারা বৃষ্টি এলে ঘর ভাঙে: রোদে চায় বৃষ্টি— নিজের ক্ষমতা ভুলে অন্যের অক্ষমতা নিয়ে আড্ডাগরম— চা ঠান্ডা হয়ে গেলেও সমস্যা নেই।


যারা চোখ বন্ধ করে আমাকে দেখতে পাই স্পষ্ট— আমি তাদের নরম মনে পৃথিবীর সমস্ত শান্তির স্পর্শ দেখতে পাই এবং শান্তি শ্রান্তি প্রশান্তি ফিল করি তাদের সঙ্গে— আর যারা খোলা চোখে আমাকে ঝাপসা দেখে তাদের অঙ্গে আমি রাখি না সবুজ পাতার দাগ— উত্তাল সাগরের তলদেশের মতো আমি আরও আরও তলে যেতে যেতে রচনা করি নিরুত্তাপ উদাসীন জলসীমা।


পুত্র আমার: তুমি সদা সবর্দা মুক্ত: তোমাকে মুক্তি দেয়ার ক্ষমতা যেনো কোনো বন্দী আত্মা লাভ করতে সক্ষম না হয় সেইদিকে তুমি সচেতন থাকবে— ভাঙা নৌকা নিয়ে মানুষ এখন সিন্দাবাদের যাত্রা হতে চায় অথচ তাদের আত্মা শ্রাবণ মাসের আকাশের মতো অমীমাংসিত— তাই তাদের হীনমন্যতার মনধারিত প্রবাহ থেকে দূরে থেকো— আকাশ মেঘলা হলেও একা হাটবে— তোমার কোনো ভয় নেই— সত্যবতী নদীর কোনো ভয় নেই— সাহসী তলোয়ারের কোনো বিকল্প হয় না।


হে পুত্র শুনে রাখো: যা বলবে তা করবে— যা বলবে না তাও করবে— যা করবে তা শেষ পর্যন্ত করবে— শেষ বলে কোনো কথা নেই— শুরু বলে কোনো হারিকেন আলো নেই— তোমার ইচ্ছারেখা এই গ্রহগ্রহনের অনিবার্য সীমানা— হয় সান্ত নয় অনন্ত!


যখন কোনো সুন্দর আত্মা সুন্দর এক যাত্রা পথ বেছে  নিবে তখন অসুন্দর আত্মা তাকে নিয়ে গল্প বানাবে— হয় সত্য নয় মিথ্যা— সুন্দর আত্মা তখনো তার যাত্রা সুন্দর উপায়ে বয়ে যাবে— বয়ে যেতে যেতে দেখবে ঝর্ণার পাশে অপেক্ষা করছে জীবনের শ্রেষ্ঠ চাওয়া, পাওয়া হয়ে— পাওয়ার আকাশে তখন আরও নীরব হয়ে কৃষি করে যেতে ভালোবাসি আমি— প্লিজ আমাকে ভালোবাসতে বাধ্য করবেন না।

বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪

প্রিয় অপ্রকাশিত

 আমাদের বাড়িতে একটি আম গাছ আছে। মিষ্টি মধুর আম গাছ। আম্মা বলে আম গাছটি তিনি রোপণ করেছেন। আমি বলি রোপণ করেছি আমি। মিষ্টি আম বলে কথা। টক আম হলে দায় নেয়ার পক্ষে এমন মিষ্টি মধুর তর্ক হতো না। যাক, একটি মিষ্টি মধুর আম গাছ আছে এটাই সত্য। সারা বছর আম গাছটি নিয়ে আমাদের কোনো হুল্লোড় থাকে না। জ্যৈষ্ঠ মাস আসতে না আসতেই শুরু হয় আম গাছটি নিয়ে হুল্লোড়। প্রায় দেড় মাস আমাদের রাত আর দিন একই রকম। ফল মাস বলে কথা। গাছ থেকে আম পড়লো যেনো, গাছ থেকে পড়বে যেনো আম— এই বলে বলে আমাদের বাড়ে ব্যস্ততা— আবার কমে তাড়াহুড়ো  হালকা হালকা!


প্রিয় 

তুমি আমাদের প্রিয় আম গাছটির মতো জ্যৈষ্ঠ মাস হতে পারো না!?


যখন কাঠফাটা রোদে কাশফুল ঘাসফড়িং সব অস্থির হয়ে উঠে তখন পৃথিবীতে নামে শ্রাবণ মাস— নদীতে জল কানায় কানায়।সবাই ফিরে পায় প্রানের স্বস্তি।


প্রিয়

তুমি গরমের দিনে শ্রাবণ মাস হতে পারো না!?


বনে রাতে বেড়াতে গিয়ে দেখি পাতার ফাকে চাঁদ উঠেছে ভরা শরীরের সাজানো জোছনায়। চোখে ভরে উঠে থইথই জোছনায়— জোছনাপরী নামে চোখে নৃত্য করে পালাক্রমে।


প্রিয়

তুমি বনের ঐ পাতার ফাকের জোছনাপরী হতে পারো না!?


তৃষ্ণা পেলে আকুল মনে ব্যাকুল হয়ে জল খুজে সবার মন। জল আসে অবশেষে তৃষ্ণা মেটায়।আবার আমরা ভুলে যায় জলের অবদান— জলবায়ু আর জল নিয়ে কোনো কথা মনে থাকে না জমা। তাতে স্যার জল সুন্দরীও মাইন্ড করে না। 


প্রিয়

তুমি আমাদের অনিবার্য জল সুন্দরী হয়ে উঠতে পারো না!?


তুমি হয়ে উঠতে পারো ঘুম প্রয়োজনে 

তুমি হয়ে উঠতে পারো আকাশ আয়োজনে 

হয়ে উঠতে পারো সাহায্য জনে জনে 

হয়ে উঠতে পারো চাহিদা যোগানে 

তুমি হয়ে উঠতে পারো ফুল ❀ বাগানে 

হয়ে উঠতে পারো সোনালি ফলস ভরাট উঠানে 


না! তুমি তা না হয়ে হলে প্রেমিকা সংবাদে সম্মেলনে। 

বউ হলে চব্বিশ ঘন্টার বহনে বহনে

বহন করে যেতে হয় 

একবার তোমারে 

একবার আমারে

একবার তোমারে 

আরেকবার আমারে 

তোমারে আমারে 

আমারে তোমারে 

কে বলেছে তোমাকে—

প্রতিদিন সূর্য হয়ে উঠতে আমার দুনিয়ায়

তুমি প্রিয় 

সামান্য দেনা হও সামান্য পাওনায়

আলো হও ভোর রাতে অন্ধকারের আয়নায় 

আমি না হয় পাখির সকাল তোমার কামনায়

রবিবার, ১২ মে, ২০২৪

মৃত্যু সংবাদ

 তোমার মনে যখন ভেসে উঠি 

বেচে যাই আমি 

তোমার মনে যখন ডুবে যাই 

মরে যাই আবার 

আজরাইল তো অনেক দূরে 

নাই মৃত্যু ভয় 

ভয় জাগে তোমাকে হারাবার 

তোমার দৃষ্টিতে জন্মেছি বহুবার 

জন্ম দেয়ার পরেও তুমি তাকাওনি 

তাকাওনি এই আমার দিকে মাত্র একটিবার 

এই কাফের মরেছে তোমার প্রেমে

তোমার মনে পৌঁছেনি তখনো 

এখনো পৌঁছেনি আমার মৃত্যু সংবাদ