শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

কে বলেছে মিথ্যা বলি না

কে বলেছে আমি মিথ্যা বলি না?

তুমি এসো। এসো একবার। 

এসে আমার চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করো,
"কেমন আছ?"

আমি হাসতে হাসতে বলে দেব,
"ভালো আছি।"

সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ইসাবেলা প্রেম

হারিয়ে যেও না— আলো থেকে অন্ধকারে 

যেও না পালিয়ে— অন্ধকার থেকে আলোতে 

বসে থাকো— লেবুগাছের ছায়ার মতো 

দাড়িয়ে থাকো শাড়ি আর নদীর ভেতর

তোমার স্পর্শে শাড়ী হয়ে উঠে যুবতী নদী

নদীস্পর্শ মানুষকে করে তুলে ভুজশির রক্তপদী 


কালো চুল অদেখা মুখ তোমার 

নৌকার হালকা আদর 

দৃষ্টিদরে কাছে ডেকে নাও আমায় 

আমার শরীরে এখনো হয়নি রোপণ ইসাবেলা প্রেম

প্রেমের  দৃষ্টিরোপচারা

হয়নি রোপণ দৃষ্টিরোপকামচারা


তাকালে জেগে উঠি যদি আবার 

কখন যেনো জেগে উঠেছিলাম দৃষ্টিতে মনে নেই 

জেগে উঠলে দারুণ কিছু ঘটে যেতে পারে 

জন্ম হতে পারে প্রাকৃতিক আমাজন 

তাকাও মোহিনী শাড়িধারী— আচলে আচলে অতন্দ্রিত প্রহর 

তাকালে খুন হয়ে গেলে আমি 

তোমার হৃদয়ে কবর দিও দেহ মোবারক 

তোমার অধরা শরীরে জন্ম নিবে জিয়ারত মাজার 

আড়াল তুমি

তবু জাগে তোমার নিতম্বভূমি 

রক্তে আমার জেগে উঠে কামনার ভোর 

জোয়ার জাগে মেরুদণ্ডনদী বেয়ে আদিম দেহগোষ্টী 

সাদা শাড়ি সোয়া পাখি মাথার ভেতরে জাগে মিলনষষ্ঠী 

তাকাও তবে একবার 

তাকিয়ে আছি  তোমার দিকে প্রিয়তমা নদীর পাড়

তুমি কেবল ইশারা

তুমি কেনো আসো বারবার— চুল আর চোখ নিয়ে 

তুমি কেনো আসো বারবার— ঠোঁট আর নীরবতা নিয়ে

হয়ে গেলে তোমার 

হয়ে গেলে আমার 

গোপনে গোপনে মনের কারবার

বদলে যাবে নদীপথ 

বদলে যাবে কক্ষপথ তারার 

না বলি তোমাকে 

না বলো তুমি আমায়

তোমার আমার দেখা হবে

বসা হবে মনকথায় 

দেহের সাথে দেহের ওয়াজ হবে

ওয়াজ হবে সারাক্ষণ সো কল্ড সমাজের জানাযায়

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

পেশাদার উদাস

পাতার গ্রাম— সবুজ আর সবুজ। ডালপালা রোদের মতো জোছনার মতো নীরব শব্দের মতো মেলে ধরেছে নিজের বাহু— সেখানে আমার বাড়ি— একা একা থাকি। ঐ যে মানুষের গ্রাম সেখানে ভালো লাগে না আমার— ব্রেইনের ভেতর গরম লাগে— মানুষ তারা কারা যারা গরম আনে ঘাম আনে চিন্তায় আচরণে।


বিষাক্ত দৃষ্টি বিষধর কথা বাষ্পের মতো ধুলো হয়ে কিংবা আরও আরও মাইক্রো পার্টিকেল হয়ে মিশে গেছে সমাজের ফুসফুসের ভেতর থেকে ভেতরে। দমবন্ধ লাগে।


মহামানবরোগ মহানরোগ ভালো লাগে না আমার। আমার ভেতর আরও আরও ডুব দিতে চাই— গাছ বৃক্ষ লতা পাতা নদী জল পাহাড় আকাশ মেঘের ভেতর। কালো রঙের পাখনা থেকে খসে পড়া পালকের গল্পে শীতনিদ্রা রাত হয়ে ডাক হয়ে শব্দ হয়ে বাতাসের সাথে পাড়ি দিতে চাই নির্জনতার অরবিট। 


গান হয়ে থাকতে চাই অনেক অনেক দিন— নৃত্য হয়ে ভাসতে চাই অনেক অনেক বছর— প্রেমিকার তীব্র আলিঙ্গন হয়ে বাচতে চাই অনেক অনেক যুগ— প্রিয় শব্দাবলির সাগরে সাতারে সাতারে থাকতে চাই অনেক অনেক শতাব্দী। শতাব্দীর ভেতর ট্যাবলেট হয়ে ঢুকে যেতে চাই মহাকালের মহিমায়— মহান নয়— মহৎ কোনো এক আলোর চোখে স্পেক্ট্রামলিঙ্গন আলিঙ্গনে— পেশাদার উদাস সুরে।

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

আব্বা

বালুর মধ্যে যতই জল পড়ুক 

কোথায় যেনো যায় তারা 

যেনো শরীর লুকানো শামুক 

শামুক আবার ফিরে আসে চোখে 

এখন যখন তখন 

বালুজল তো আসে না আর ফিরে 

আমার বাবার মতোন

রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

সবাই ভোগী তিনিই কেবল যোগী

 — আম্মু, চলো আমরা বাইরে যাই। 

— না, মা। আমরা বাইরে যাবো না। 

— কেনো আম্মু? 

— বাইরে আমরা নিরাপদ না, মা! 

— আম্মু কেনো নিরাপদ না? 

— বাইরে ভয়ঙ্কর স্বার্থপর লোক বাস করে? 

— আম্মু, কাল দুপুরে আব্বু তোমাকে স্বার্থপর বলেছিল না? 

— অই চুপ কর, তর বাপ একটা বিজলা স্বার্থপর।  

— আম্মু বিজলা কি? 

— বিজলা অইলো তর মাথা— বুঝা লাগবো না, ঘুমা।

শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

একটু পরে ট্রেন

 — সারারাত জার্নি আজ। 

— কই যাবেন?

—ফেনী ফিরবো। একটু পর ট্রেন।


— আজকের চাঁদ সুন্দর। সুন্দর চাঁদ আর ট্রেন— চমৎকার। খুবই ভালো জার্নি হবে।


— চমৎকার হবার কারণ নাই।  শোভন টিকেট তার উপর একা।


— আপনি একা নন। আপনার সাথে আমাদের আশীর্বাদ আছে ত। যার সাথে আশীর্বাদ থাকে মাটিকে সে স্বর্গলোক  করে তুলে।


— বাংলা সাহিত্যে পড়েছেন না?


— হুম। Blessing is a strong ever bullet proof bin.


এসব সাহিত্য টাহিত্য নিয়ে যত কম ঘাটাঘাটি করবেন তত ভাল থাকবেন বিলিভ মি। এই সাহিত্যে পড়ে আমার জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেল। স্থূল চিন্তার মানুষের ভিড় দমবন্ধ লাগে।


—সত্য বলেছেন। সঠিক বলেছেন। When life is thought, thought is dangerous. We look for before and after and pine for what is not.


— দুনিয়াদারি ভাল লাগে না! অসহ্য! 


— জানেন আমার কাছে পৃথিবীর কোনো মিনিং নেই তারপর মিনিং খুজঁতে থাকি।


— মিনিং খুঁজে লাভ নেই। 


— একটি শিশির কনা হয়তো মিনিং হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে যাবে।

— শুভকামনা।


আরেকটি কথা, সাহিত্যের কারনেই মানুষ কেবল আমার কাছে মানুষ নয় ভিন্ন কিছুর ছায়া, সাহিত্যের কারনেই মানুষকে ভালোবাসতে পারি, শ্রদ্ধা করতে পারি।


— আমিও একসময় তাই ভাবতাম। তবে শিশির কণা না এসে রীতিমতো জলোচ্ছ্বাস এসেছে আর ভেঙেচুড়ে দিয়ে গেছে সব মাঠঘাট প্রান্তর।


— Things fall apart—  অনেক ভাঙনের পর এক সৃষ্টি।


— Yes things fall apart and centre will not hold anymore. 


— Every center hold for certainly center and center is almost margin. আনন্দের সীমান্তে গেলে মানুষের জ্ঞান থাকে না, কষ্টের সীমান্তে গেলে মানুষের জ্ঞান থাকে না, মানুষ মধ্যবর্তী ফলবতী ফলভোগী গাছ।


—কোন সীমান্তই নেই আমার ধারেকাছে। অদ্ভূত আঁধার এক। 


— জানেন অন্ধকারই একমাত্র চরিত্রবান। 

— কি জানি! 


— ফেনী পৌঁছে যাবেন চারটায়?


— ট্রেন তো আসলো না এখনো। লেইট। 


— ট্রেনের নাম কী?

— উদয়ন। 

— কী সুন্দর নাম!

— হু। বাংলাদেশের সব ট্রেনের নামই কম বেশি সুন্দর শুধু কালনী ছাড়া। 

— হা হা হা। 


— 😐। কেমন একটা কালনাগিনী ভাব আছে। 

— কেন মা কালী ভাব নেই?


— ট্রেন আসছে।  ট্রেনে উঠে কথা বলছি। 


— ঠিক আছে। 


— অতঃপর ট্রেন আসিলো।  আর আমি চাপিয়া বসিলাম। 


— সাথের মহিলা কী ফেনীই যাবেন? 


—সাথে মহিলা কি করে নিশ্চিত হলেন?


— যেহেতু চাপিয়া বসিলেন। 

— 😃। 

— অ। 

— তাহলে সাথে কে?


— সাথে  একজন মহিলাই। অপরিচিতা। 


—অপরিচিতা কারো কাছ থেকে কিছু খাবেন না কিন্তু। 

— হু। 

— আপনার বাড়ি কোথায়?

— ব্রাক্ষণবাড়িয়া এবং পৃথিবী, পৃথিবী আমার বাড়ি।