রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

সুরসঙ্গে

 সন্ধ্যাবেলা হাঁটতে বের হয়েছিলাম। ফেরার পথে হঠাৎ একটি ছোট্ট অগোছালো ঘর থেকে ভেসে এলো মৃদু অথচ অপূর্ব গোছানো সুর। কৌতূহল আমাকে টেনে নিয়ে গেল সেই ঘরের সামনে। তারপর ঘরের ভেতর। 


ভেতরে ঢুকে যেন অন্য এক জগতে পৌঁছে গেলাম। ছোট্ট ঘর, সামান্য আয়োজন— কিন্তু সুরের কোনো অভাব নেই। কয়েকজন মানুষ অন্ধকারে মিটমিট আলোর মতো বসে গান করছে, সুরের সাধনা করছে। সেখানে নেই কোনো জাঁকজমক, নেই কোনো মঞ্চ; আছে শুধু গান, ভালোবাসা আর একাগ্রতা।


এই ছোট্ট ঘরেই এক 'পাগল' মানুষ তাঁর মাকে নিয়ে বসবাস করেন— দিনের পর দিন সুরের সাধনা করে চলেছেন— এবং লিখে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।  তিনি নিজেই গান লেখেন, নিজেই সুর করেন, নিজেই গান গেয়ে শোনান। আশপাশের অনেক আধুনিক, গ্রামীণ শিল্পী ও সুরপাগল মানুষও এখানে আসেন। এই নিভৃত ঘরটি যেন তাদের ছোট্ট একটি সুরের বিদ্যালয়।


আজ যে গানটি সবচেয়ে বেশি হৃদয় ছুঁয়ে গেল, তার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি—


"হৃদয় কেন বুঝে না,


তারে মন দিও না।

যে জন প্রেম বুঝে না,

তারে ভালোবাসো না..."


এই গানটি শুধু প্রেমের গান নয়— মানুষের হৃদয়কে চিনে নেওয়ার একটি গভীর শিক্ষা। ভালোবাসা কখনো একতরফা আবেগের নাম নয়— এটি বোঝাপড়া, সম্মান, দায়িত্ব আর অনুভূতির সমন্বয়। যে মানুষ ভালোবাসার মূল্য বোঝে না, তার কাছে নিজের মন সমর্পণ করা মানে নিজের কষ্টকে নিজের হাতেই ডেকে আনা। লোকজ ভাষার সরল কথাগুলোর ভেতরে তাই জীবনের বড় এক সত্য লুকিয়ে আছে—ভালোবাসা পাওয়ার আগে মানুষটিকে চিনতে শিখতে হয়। কারন সত্যিকারের প্রেম হৃদয়কে ভাঙে না— বরং তাকে আশ্রয় দেয়। লাইলী মজনুর কথা এখানে এসেছে প্রেমে শতভাগ নিমজ্জিত থাকা প্রসঙ্গে।


"আশি তোলায় সের হলে,

চল্লিশ সেরে বুঝায় মণ।

এক রতি কম হইলে,

পাইবে না প্রেমিকের মন।

মন দিয়ে যে পেতে হয় মন,

জানে প্রেমিক কয়জনা।"


লোকজ ভাষার এই কয়েকটি পঙ্‌ক্তির ভেতরেই লুকিয়ে আছে ভালোবাসার গভীর দর্শন। সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো অর্ধেক আন্তরিকতায় পূর্ণতা পায় না। যেমন ওজনে সামান্য ঘাটতি থাকলে পূর্ণ ওজন হয় না, তেমনি ভালোবাসায় সামান্য কৃত্রিমতা, স্বার্থ কিংবা অবহেলাও সম্পর্ককে অসম্পূর্ণ করে দেয়। মানুষের মন জয় করতে হলে আগে নিজের মন খুলে দিতে হয়। কারণ মনের বিনিময় মনেই হয়— অভিনয়ে নয়, আন্তরিকতায়। এই সত্য সবাই বোঝে না; কেবল সত্যিকারের প্রেমিকরাই বোঝে যে ভালোবাসা পাওয়ার একমাত্র পথ হলো নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে শেখা।


বড় বড় স্টুডিও, দামী যন্ত্র কিংবা আলোঝলমলে মঞ্চই যে শিল্পের জন্ম দেয়— তা নয়। কখনো কখনো একটি ছোট্ট অগোছালো ঘরেই জন্ম নেয় সবচেয়ে নির্মল সুর, সবচেয়ে সত্যিকারের শিল্প।


এমন মানুষদের জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। তাঁদের সাধনা একদিন আরও অনেক দূর পৌঁছাক।


৩ জুলাই ২০২৬

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

মায়াস্নান

পেতে চায়লে চান্দের দেখা

দলহীন তুমি হও একা

দল তো স্রোতে মায়ার দালাল

মায়া সিনানে হও হালাল


শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

কে বলেছে মিথ্যা বলি না

কে বলেছে আমি মিথ্যা বলি না?

তুমি এসো। এসো একবার। 

এসে আমার চোখে চোখ রেখে জিজ্ঞেস করো,
"কেমন আছ?"

আমি হাসতে হাসতে বলে দেব,
"ভালো আছি।"

সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

ইসাবেলা প্রেম

হারিয়ে যেও না— আলো থেকে অন্ধকারে 

যেও না পালিয়ে— অন্ধকার থেকে আলোতে 

বসে থাকো— লেবুগাছের ছায়ার মতো 

দাড়িয়ে থাকো শাড়ি আর নদীর ভেতর

তোমার স্পর্শে শাড়ী হয়ে উঠে যুবতী নদী

নদীস্পর্শ মানুষকে করে তুলে ভুজশির রক্তপদী 


কালো চুল অদেখা মুখ তোমার 

নৌকার হালকা আদর 

দৃষ্টিদরে কাছে ডেকে নাও আমায় 

আমার শরীরে এখনো হয়নি রোপণ ইসাবেলা প্রেম

প্রেমের  দৃষ্টিরোপচারা

হয়নি রোপণ দৃষ্টিরোপকামচারা


তাকালে জেগে উঠি যদি আবার 

কখন যেনো জেগে উঠেছিলাম দৃষ্টিতে মনে নেই 

জেগে উঠলে দারুণ কিছু ঘটে যেতে পারে 

জন্ম হতে পারে প্রাকৃতিক আমাজন 

তাকাও মোহিনী শাড়িধারী— আচলে আচলে অতন্দ্রিত প্রহর 

তাকালে খুন হয়ে গেলে আমি 

তোমার হৃদয়ে কবর দিও দেহ মোবারক 

তোমার অধরা শরীরে জন্ম নিবে জিয়ারত মাজার 

আড়াল তুমি

তবু জাগে তোমার নিতম্বভূমি 

রক্তে আমার জেগে উঠে কামনার ভোর 

জোয়ার জাগে মেরুদণ্ডনদী বেয়ে আদিম দেহগোষ্টী 

সাদা শাড়ি সোয়া পাখি মাথার ভেতরে জাগে মিলনষষ্ঠী 

তাকাও তবে একবার 

তাকিয়ে আছি  তোমার দিকে প্রিয়তমা নদীর পাড়

তুমি কেবল ইশারা

তুমি কেনো আসো বারবার— চুল আর চোখ নিয়ে 

তুমি কেনো আসো বারবার— ঠোঁট আর নীরবতা নিয়ে

হয়ে গেলে তোমার 

হয়ে গেলে আমার 

গোপনে গোপনে মনের কারবার

বদলে যাবে নদীপথ 

বদলে যাবে কক্ষপথ তারার 

না বলি তোমাকে 

না বলো তুমি আমায়

তোমার আমার দেখা হবে

বসা হবে মনকথায় 

দেহের সাথে দেহের ওয়াজ হবে

ওয়াজ হবে সারাক্ষণ সো কল্ড সমাজের জানাযায়

শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

পেশাদার উদাস

পাতার গ্রাম— সবুজ আর সবুজ। ডালপালা রোদের মতো জোছনার মতো নীরব শব্দের মতো মেলে ধরেছে নিজের বাহু— সেখানে আমার বাড়ি— একা একা থাকি। ঐ যে মানুষের গ্রাম সেখানে ভালো লাগে না আমার— ব্রেইনের ভেতর গরম লাগে— মানুষ তারা কারা যারা গরম আনে ঘাম আনে চিন্তায় আচরণে।


বিষাক্ত দৃষ্টি বিষধর কথা বাষ্পের মতো ধুলো হয়ে কিংবা আরও আরও মাইক্রো পার্টিকেল হয়ে মিশে গেছে সমাজের ফুসফুসের ভেতর থেকে ভেতরে। দমবন্ধ লাগে।


মহামানবরোগ মহানরোগ ভালো লাগে না আমার। আমার ভেতর আরও আরও ডুব দিতে চাই— গাছ বৃক্ষ লতা পাতা নদী জল পাহাড় আকাশ মেঘের ভেতর। কালো রঙের পাখনা থেকে খসে পড়া পালকের গল্পে শীতনিদ্রা রাত হয়ে ডাক হয়ে শব্দ হয়ে বাতাসের সাথে পাড়ি দিতে চাই নির্জনতার অরবিট। 


গান হয়ে থাকতে চাই অনেক অনেক দিন— নৃত্য হয়ে ভাসতে চাই অনেক অনেক বছর— প্রেমিকার তীব্র আলিঙ্গন হয়ে বাচতে চাই অনেক অনেক যুগ— প্রিয় শব্দাবলির সাগরে সাতারে সাতারে থাকতে চাই অনেক অনেক শতাব্দী। শতাব্দীর ভেতর ট্যাবলেট হয়ে ঢুকে যেতে চাই মহাকালের মহিমায়— মহান নয়— মহৎ কোনো এক আলোর চোখে স্পেক্ট্রামলিঙ্গন আলিঙ্গনে— পেশাদার উদাস সুরে।

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

আব্বা

বালুর মধ্যে যতই জল পড়ুক 

কোথায় যেনো যায় তারা 

যেনো শরীর লুকানো শামুক 

শামুক আবার ফিরে আসে চোখে 

এখন যখন তখন 

বালুজল তো আসে না আর ফিরে 

আমার বাবার মতোন