ভাবছো তুমি ফুল ফোটাবে
গাছ ফোটাবে ফুলে
ভাবনা গ্যাছে গন্ধ হয়ে
বৃক্ষ গ্যাছে নুয়ে
ভাবতে থাকো যেমন তেমন
হাসতে থাকো মনে
বৃক্ষ ঠিকই ফুল ফোটাবে শুকিয়ে যাওয়া বনে
ভাবছো তুমি ফুল ফোটাবে
গাছ ফোটাবে ফুলে
ভাবনা গ্যাছে গন্ধ হয়ে
বৃক্ষ গ্যাছে নুয়ে
ভাবতে থাকো যেমন তেমন
হাসতে থাকো মনে
বৃক্ষ ঠিকই ফুল ফোটাবে শুকিয়ে যাওয়া বনে
কলাপাতা গো দেহভরা তোমার সবুজ শিশুর মতো সরল
ঘোমটাধরে আসে তোমার জোছনা তরল আকাশ
হালকা লয়ে ভাসতে থাকে তোমার শরীর বাতাস
চোখকাম খুব ডুবে যায় নিকাহিনা বুনো ডেউড়ি চাষ
আরও ভেতর
আরও গভীর
ইচ্ছাজলের ঢেউ
তীরের লাগাল পেয়েও হারাই বসতি নৌকাছেও
একটু একটু
আস্তে আস্তে— সবুজক্ষুধা লাগে
একটু একটু
আস্তে আস্তে— সবুজক্ষুধা বাড়ে
বেড়ে যখন কমে আসে ক্লান্তি লাগে খুব
ক্ষুধাজল শুকিয়ে গেলে চেতনাবাহী লোভ
লোভে লাভে জীবন চলে পঞ্চরসের বাজার
কলাপাতা গো সারা অঙ্গে তোমার প্রিয় মনটানা বাহার
সুযোগ করে রঙবাহারে আমায় নিও হয়ে প্রাচীন উদার
আমাকে ভুল বুঝবেন না!
আমি একটা কথা বলি— পৃথিবী হঠাৎ বদলে যাবে!
পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে যাবে আরেকপ্রান্তে— মানুষ কোনো আইন মানবে না— মানবে না কোনো বিচার ব্যবস্থা সরকার।
আমাকে ভুল বুঝবেন না!
আমি একটা কথা বলি— দলে দলে মানুষ বলে উঠবে সুশাসন সুশাসন এবং সুশাসন— সবচেয়ে নিরীহ মানুষটাকে বানানো হবে রাজা সততার মাপকাঠিতে— যারা শক্তির চর্চা করে তারা পালাবে এবং পালাতে থাকবে।
আমাকে ভুল বুঝবেন না!
আমি একটা কথা বলি— পৃথিবীর মানুষ সব কাটাতার ভেঙে দিবে— মানচিত্রের বুক থেকে মুছে যাবে মানুষের চলাচলে টেনে দেওয়া নিষেধের দাগ। নিজেদের ভালোলাগার ভিত্তিতে নির্মাণ হবে বসবাস ব্যবস্থা— চলিত বন্দোবস্ত বাতিল হয়ে যাবে— পৃথিবীর কোনায় কোনায় আগুন জ্বলবে— ঘর পোড়ানোর আগুন নয়, মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের সাজানো দীর্ঘ ইতিহাসকে দগ্ধ করার আগুন— পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নির্মাণ হবে সম্পূর্ণ নতুন ব্রিজ।
আমাকে ভুল বুঝবেন না!
আমি একটা কথা বলতে চাই— নদী থেকে নেমে আসবে প্রান— প্রান থেকে নেমে আসবে উচ্ছ্বাস— উচ্ছ্বাস থেকে নেমে আসবে মানুষের সাথে মানুষের মিশে যাওয়ার আকুলিবিকুলি,
এক দুর্নিবার আকুলতা— এই আকুলতা থেকে জন্ম নিবে সারা পৃথিবীর একটি পতাকা একটিই পতাকা — মানুষ!
আমাকে ভুল বুঝবেন না— আমি একটা কথা বলে ফেললাম!
মানুষকে লড়তে হয় রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে
মানুষকে লড়তে হয় নিজের অভ্যাসের বিরুদ্ধে
অপরিসীম চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে
অনেকে তাকে রিপু বলে
মানুষকে লড়তে হয় রিপুর কূলভাঙা আবেদনের বিরুদ্ধে
মানুষকে লড়তে হয় ঘরে
লড়তে হয় বাইরে
লড়তে হয় আকাশপথের বাতাসি প্লাবনে
লড়তে হয় সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে
মানুষকে লড়তে হয় মত ও আদর্শে
অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা শিংওয়ালা ভূতের বিরুদ্ধে
মানুষকে লড়তে হয় শব্দ ও নীরবতার বিরুদ্ধে
মানুষকে লড়তে হয় ঠিক তারই মতো—
ঠিক তারই মতো বলতে
একটু কম বা বেশি আরেকজন মানুষের বিরুদ্ধে
তবু মানুষ হাসে
ভালোবেসে প্রেমিকের চোখে রোপণ করে বেলি ফুল—প্রেমিকের শরীরে মেখে দেয় ছাতিম ফুলের বাগান— গন্ধে, সৌন্দর্যে মানুষ হয়ে ওঠে উত্তাল, উদাম,সুগন্ধি, স্বাস্থ্যকর।
মানুষ— এক আশ্চর্য অন্ধকার যার শরীর থেকে পড়তে থাকেদিনে দিনে এক আশ্চর্য আলো।
অন্ধকারে মানুষ শরীর রাখে
আলোতে রোপণ করে খাদ্য।
মানুষ চলে যাবে জেনেও থেকে যায়
এমনভাবে থেকে যায়—
যেন আর কোনোদিন সে ফিরবে না ঘরে।
ভাবছো আকাশটা এমনই থাকবে— থাকবে না।
মনে করছো নদীটা এমন করেই বয়ে যাবে— যাবে না।
মানুষের অতনু চাওয়া সবুজ গাছের কাছে এসে হার মানে— নদীর জল শুকিয়ে যায়— আবার আসে। সূর্যের তাপ বাড়ে— আবার কমে। শীত আসলে কুয়াশা বাড়ে— আবার কমে যায় ফুলের ঘ্রাণ। ছাতিম ফুলের আশ্রয় ভোরের কথা বলে। ভোর তো হবেই— কার সাথে হবে সেটাই ম্যাটার করে।
ডালিম পাকলে কাকের কি— মানুষের অনেক কিছু।
ব্যথার চক্রব্যূহ বুকের পাশে ঘুরাফেরা করে— এমন না করতেই থাকবে— তাও থেমে যাবে প্রশান্তির সাগরে এসে।
বিড়াল খুব আস্তে আস্তে হাটে— বাঘ হাটে আরও আস্তে— হরিণ এবং ইদুর এই কথা মানবে না এবং মানবে না।
মান্যবর আপনি— সকাল হলে দলবদ্ধ পিপড়ার বিদ্যালয়ে খানিক পাঠ নিতে যাওয়া আমি এক প্রানি— প্রান থাকলেই প্রানি হয়— সাহস আসে সততা থেকে— তারা বলে সততাই বল— আমি বলি সততার আস্থায় পুরো কায়ানাত অবিচল।
শব্দকে ডেকে বলো কোলাহল করোনা
গোপনে গোপন হলে জাগে প্রার্থনা
আরও গভীর অন্ধকারে ডাকতে হবে রাধা
জোছনাও কেমন বেরসিক দেখো রাধাপথে বাধা
শরীরের কাপড় অতি আপন তাও বিপত্নীক
দেহের পূজা দেহেই চলে গতি আহ্নিক