শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

মানুষকে লড়তে হয়

 মানুষকে লড়তে হয় রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে

মানুষকে লড়তে হয় নিজের অভ্যাসের বিরুদ্ধে

অপরিসীম চাওয়া-পাওয়ার বিরুদ্ধে 

অনেকে তাকে রিপু বলে

মানুষকে লড়তে হয় রিপুর কূলভাঙা আবেদনের বিরুদ্ধে 

মানুষকে লড়তে হয় ঘরে

লড়তে হয় বাইরে

লড়তে হয় আকাশপথের বাতাসি প্লাবনে

লড়তে হয় সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে

মানুষকে লড়তে হয় মত ও আদর্শে

অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা শিংওয়ালা ভূতের বিরুদ্ধে 


মানুষকে লড়তে হয় শব্দ ও নীরবতার বিরুদ্ধে

মানুষকে লড়তে হয় ঠিক তারই মতো—

ঠিক তারই মতো বলতে

একটু কম বা বেশি আরেকজন মানুষের বিরুদ্ধে


তবু মানুষ হাসে

ভালোবেসে প্রেমিকের চোখে রোপণ করে বেলি ফুল— প্রেমিকের শরীরে মেখে দেয় ছাতিম ফুলের বাগান— গন্ধে, সৌন্দর্যে মানুষ হয়ে ওঠে উত্তাল, উদাম, সুগন্ধি, স্বাস্থ্যকর।


মানুষ— এক আশ্চর্য অন্ধকার যার শরীর থেকে পড়তে থাকে দিনে দিনে এক আশ্চর্য আলো।


অন্ধকারে মানুষ শরীর রাখে

আলোতে রোপণ করে খাদ্য।

মানুষ চলে যাবে জেনেও থেকে যায়

এমনভাবে থেকে যায়—

যেন আর কোনোদিন সে ফিরবে না ঘরে।

বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

যেমন ভাবছেন তিনি

ভাবছো আকাশটা এমনই থাকবে— থাকবে না। 

মনে করছো নদীটা এমন করেই বয়ে যাবে— যাবে না।

মানুষের অতনু চাওয়া সবুজ গাছের কাছে এসে হার মানে— নদীর জল শুকিয়ে যায়— আবার আসে। সূর্যের তাপ বাড়ে— আবার কমে। শীত আসলে কুয়াশা বাড়ে— আবার কমে যায় ফুলের ঘ্রাণ। ছাতিম ফুলের আশ্রয় ভোরের কথা বলে। ভোর তো হবেই— কার সাথে হবে সেটাই ম্যাটার করে।


ডালিম পাকলে কাকের কি— মানুষের অনেক কিছু।

ব্যথার চক্রব্যূহ বুকের পাশে ঘুরাফেরা করে— এমন না করতেই থাকবে—  তাও থেমে যাবে প্রশান্তির সাগরে এসে।


বিড়াল খুব আস্তে আস্তে হাটে— বাঘ হাটে আরও আস্তে— হরিণ এবং ইদুর এই কথা মানবে না এবং মানবে না।


মান্যবর আপনি— সকাল হলে দলবদ্ধ পিপড়ার বিদ্যালয়ে খানিক পাঠ নিতে যাওয়া আমি এক প্রানি— প্রান থাকলেই প্রানি হয়— সাহস আসে সততা থেকে— তারা বলে সততাই বল— আমি বলি সততার আস্থায় পুরো কায়ানাত অবিচল।

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

প্রার্থনা

 শব্দকে ডেকে বলো কোলাহল করোনা 

 গোপনে গোপন হলে জাগে প্রার্থনা

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আরও গভীর মনবসনে

 


আরও গভীর অন্ধকারে ডাকতে হবে রাধা

জোছনাও কেমন বেরসিক দেখো রাধাপথে বাধা

শরীরের কাপড় অতি আপন তাও বিপত্নীক 

দেহের পূজা দেহেই চলে গতি আহ্নিক 

হঠাৎ মেঘ

মেঘ যখন অহংকারে আকাশ হয়ে দাঁড়ায়

সূর্য তখন একই রকম নিজের আপন পাড়ায়

মেঘ যখন মরতে মরতে মাটির নিচে যায়

সূর্য তখন আগের মতোই নিজের কর্মে ঠায়

মেঘের আছে আসা-যাওয়া সূর্যের শুধু কাজ

ক্ষণিক যারা আকাশ ঢাকে টেকে না তাদের সাজ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জলফুলের বাগান

রেজা আসতে চায়নি। তাকে আনা হয়েছে। অথবা আনানো হয়েছে। এই বাংলার এই বাংলাদেশের পরিবার কাঠামো তাকে এই পৃথিবীতে নিয়ে আসছে। মলফত খান প্রতিদিন শেষ রাতে তার আল্লার কাছে অনেক দোয়া প্রার্থনা করতেন। প্রতিদিন মানে প্রতিদিন। আল্লার কাছে মলফত খানের একটিই চাওয়া— হে আল্লা! আমার মনুরে একটা পুত দেও।


মলফত খান হজ্জ করতে গেলেন। কাবা শরীফের পাথরে চুমু দিয়ে এমন কান্না শুরু করলেন— আকাশ বাতাস কম্পিত হয়ে উঠলো। কোনোভাবে মলফত খানকে সরানো যাচ্ছিল না। অবশেষে দায়িত্বরত পুলিশ লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন মলফত খানের পায়ে। তাও সরাতে পারছেন না— চোখের পানি এবং হৃদয়ের আর্জি যেনো দুনিয়া থেকে সরে গিয়ে খোদার আরশ মহল্লায় ঠাই নিলো। হজ থেকে ফিরে আসার পর মানুষ ঘিরে ধরলেন মলফত খানকে। আশির দশকে হজ করতে যাওয়া অনেক দামি ব্যাপার। লটারির মাধ্যমে কয়েকজনকে নির্ধারণ করা হতো হজের জন্যে। টাকা থাকলেই হজে যাওয়া যেতো না— ভাগ্যের দারুণ সহযোগিতার প্রয়োজন পড়তো। এতো এতো মানুষের ভীড়ে হাজী মলফত খান প্রথমে ডাকলেন তার বড় মেয়েকে— মনোয়ারা বেগমকে। আমার মনু কই? কই আমার মনু? 


মনু জলচোখে লজ্জা লজ্জা ভঙ্গিতে ছুটে গেলেন হাজী মলফত খানের কাছে। মারে আল্লার ঘরে তুমার পুতের লাইগগা দুয়া করে আইছি, তুমার পুত অইবো, তুমারে আল্লা একটা পুত দিব। তারপর আবার কান্না শুরু হয়ে গেলো হাজী মলফত খানের আধাপাকা ঘরে। ঘরভর্তি মানুষ। সবার চোখে জল। ঠিক জল নয়— জলফুলের বাগান।

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্ব তোমার গান

বৃষ্টি এলো 

সৃষ্টি এলো 

এলো ফসলের মাঠ

কৃষকের মুখে হাসি এলো 

ভরে উঠলো পরান ঘাট। 

বাড়ির কাছে জল এলো 

সাথে এলো মাছ 

ফুলে ফলে ভরে উঠলো চিরচেনা গাছ। 

মায়ের মুখে হাসি এলো 

হেসে উঠলো বাবা 

প্রকৃতির কানে দুলছে দেখো লাল রক্ত জবা। 

এমন জল-প্রকৃতির সুষম বাহার 

কোথায় আছে বলো 

বাংলায় আছে বাংলায় আছে 

তোমায় বলা হলো 

বিশ্ব দেখো বাংলা দেখো 

রেখো বাংলার মান 

বাংলা তোমার কথাসুর বিশ্ব তোমার গান।