শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জলফুলের বাগান

রেজা আসতে চায়নি। তাকে আনা হয়েছে। অথবা আনানো হয়েছে। এই বাংলার এই বাংলাদেশের পরিবার কাঠামো তাকে এই পৃথিবীতে নিয়ে আসছে। মলফত খান প্রতিদিন শেষ রাতে তার আল্লার কাছে অনেক দোয়া প্রার্থনা করতেন। প্রতিদিন মানে প্রতিদিন। আল্লার কাছে মলফত খানের একটিই চাওয়া— হে আল্লা! আমার মনুরে একটা পুত দেও।


মলফত খান হজ্জ করতে গেলেন। কাবা শরীফের পাথরে চুমু দিয়ে এমন কান্না শুরু করলেন— আকাশ বাতাস কম্পিত হয়ে উঠলো। কোনোভাবে মলফত খানকে সরানো যাচ্ছিল না। অবশেষে দায়িত্বরত পুলিশ লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন মলফত খানের পায়ে। তাও সরাতে পারছেন না— চোখের পানি এবং হৃদয়ের আর্জি যেনো দুনিয়া থেকে সরে গিয়ে খোদার আরশ মহল্লায় ঠাই নিলো। হজ থেকে ফিরে আসার পর মানুষ ঘিরে ধরলেন মলফত খানকে। আশির দশকে হজ করতে যাওয়া অনেক দামি ব্যাপার। লটারির মাধ্যমে কয়েকজনকে নির্ধারণ করা হতো হজের জন্যে। টাকা থাকলেই হজে যাওয়া যেতো না— ভাগ্যের দারুণ সহযোগিতার প্রয়োজন পড়তো। এতো এতো মানুষের ভীড়ে হাজী মলফত খান প্রথমে ডাকলেন তার বড় মেয়েকে— মনোয়ারা বেগমকে। আমার মনু কই? কই আমার মনু? 


মনু জলচোখে লজ্জা লজ্জা ভঙ্গিতে ছুটে গেলেন হাজী মলফত খানের কাছে। মারে আল্লার ঘরে তুমার পুতের লাইগগা দুয়া করে আইছি, তুমার পুত অইবো, তুমারে আল্লা একটা পুত দিব। তারপর আবার কান্না শুরু হয়ে গেলো হাজী মলফত খানের আধাপাকা ঘরে। ঘরভর্তি মানুষ। সবার চোখে জল। ঠিক জল নয়— জলফুলের বাগান।

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্ব তোমার গান

বৃষ্টি এলো 

সৃষ্টি এলো 

এলো ফসলের মাঠ

কৃষকের মুখে হাসি এলো 

ভরে উঠলো পরান ঘাট। 

বাড়ির কাছে জল এলো 

সাথে এলো মাছ 

ফুলে ফলে ভরে উঠলো চিরচেনা গাছ। 

মায়ের মুখে হাসি এলো 

হেসে উঠলো বাবা 

প্রকৃতির কানে দুলছে দেখো লাল রক্ত জবা। 

এমন জল-প্রকৃতির সুষম বাহার 

কোথায় আছে বলো 

বাংলায় আছে বাংলায় আছে 

তোমায় বলা হলো 

বিশ্ব দেখো বাংলা দেখো 

রেখো বাংলার মান 

বাংলা তোমার কথাসুর বিশ্ব তোমার গান।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

গনিতের দুনিয়া

গরুর গাড়িতে ইঞ্জিন— ইঞ্জিন চলছে— গরুও চলছে 

অসাধারণ বাংলা— অসাধারণ বাংলাদেশ 

অবসাদ মেঘ— অবসাদ বৃষ্টি

দক্ষ কৃষক—সুস্থ বীজ— উর্বর মাটি 

হাল চাষ হচ্ছে ইঞ্জিনে— গরুতে চাষ হচ্ছে মাংস 

বালুর মহলে ওয়াজের আয়োজন 

বাশির সুর এবং সুতরাং কথা


জল থেকে পালালো মাছ 

মাছ থেকে পালালো স্বাদ এবং পুষ্টি 

খাবারের আয়োজন থেমে নেই

থেমে নেই বিদ্যার আয়োজন 

লজ্জাকে ঢাকা হচ্ছে অজুহাতের শাক দিয়ে

ভাত খেতে বসে নিত্য সুবিধার বোঝাপড়া

সুবিধা উড়াল দিলে পড়ে থাকে মায়া 

তারা যেনো সুবিধা খেয়ে মোটা করে তাজা করে কায়া


লুডু খেলার আয়োজন আড্ডায় আড্ডায় 

আপেল কেনো গাছ থেকে পড়ে—

এইসব অযথা চিন্তা করে না তারা 

জোছনা গিলে খেয়ে ভালো থাকার অভ্যাস


একটা কানা উডছেন— উড

উডছেন একটা ছক্কা— উড 

বোনাস জীবন

বোনাসে বোনাসে কাটছে সময়


একা ভালো থাকা যায়?

যায় অথবা যায় না 

যায় না— এই কথা সত্য 


আসুন মোনাজাত করি— জিলাপি আর জিলাপি আকি প্রার্থনার পথ ধরে— আলো নেমে আসুক কাতারে কাতার। 

এক কাতারে সব অজ্ঞতা দাড়ালে— সোবহানাল্লাহ বলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। উপায়ের পথ ধরে উপরে উঠি আর নিচে নামি— এই তো কাজ গনিতের দুনিয়ায়।


ভালো থেকো যারা ভালো থাকতে চায়না তাদের নিয়ে। 

ভালো আছি যারা ভালো থাকতে চায় তাদের নিয়ে। 

আদারিং অবশেষে করতেই হলো কলমিলতার জলাত্যয় শরীর ধরে— এইভাবেই ভালো থাকতে হয় মাস্টার, ঠিক এমন করে থাকতে হয় ভালো।

বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

পাল্টানো পৃথিবী

পৃথিবী পাল্টে যাবে

এই পৃথিবী এমন করে থাকবে না জানি 

পাল্টাতে পাল্টাতে আজকের তুমি আজকের আমি

সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

রমারব কন্যা আমার

তাকে কখনো মুগ্ধ করতে যেও না পুত্র আমার যে তোমার প্রতি অলরেডি মুগ্ধ হয়ে আছে— তার প্রতি বরং সরল হও মেঘ থেকে নেমে আসা জলের মতো। তাকে কখনো মুগ্ধ করতে যেও না পুত্র আমার যে তোমার প্রতি মুগ্ধ হয় নাই এখনো— তার সাথে তুমি বরং আড্ডায় বসো, কফি খাও একসঙ্গে— একসঙ্গে দীর্ঘ যাত্রায় বের হবে না নিশ্চয়ই। 


দীর্ঘযাত্রা করো কেবল নিজের সাথে— পাতা পরে যাওয়া গাছের দিকে মনভরে তাকাও আর আস্তে আস্তে শ্বাস নাও এবং ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ো— শ্বাস নেওয়া এবং শ্বাস ছাড়ার মাঝখানের সময়টা হলো পৃথিবীর সাথে তোমার সম্পর্ক। 


শুনো আমার সন্তান— নিজেকে ভালোবাসার মতো অপরাধ আর হয় না— নিজেকে ঘৃণা করার মতো অপরাধ আর হয় না— অপরাধ না করার প্রবনতা এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপরাধ। তাই বলছি— যখন জেনে যাবে চোখ মুখ নাক কান দিয়ে এই পৃথিবী তোমার মধ্যে প্রবেশ করে— তখন আশা করি বুঝতে পারবে তুমি আর তোমার আয়োজিত পৃথিবী এক না— তখন যেনো এক হয়ে একাকার হয়ে যেতো পারো নিজের সাথে এই প্রার্থনা আমার তোমার প্রতি হে আমার সন্তান। 


হে আমার অনিন্দ্য সন্তান— জীবন চলার পথে এমন হতে পারে যে নদীর তীর এসে তীব্র অভিযোগ দিচ্ছে তোমার কাছে জলের বিরুদ্ধে— এমন হতে পারে যে নদীর জল এসে তোমাকে  শোনাচ্ছে তার স্বাভাবিক বেচে থাকার স্বাভাবিক সত্যকথা— তখন তুমি কার পক্ষে যাবে? ঠিক তখন তুমি নদীকে এবং নদীর জলকে তোমার পক্ষে চলে আসতে বলবে— যে তোমার পক্ষে চলে আসবে তুমি তার পক্ষ নিবে। যদি দুজনই তোমার পক্ষে আসে তাহলে তুমি রাত ও দিনের মতো দুজনের হয়ে যাবে— মাঝে মাঝে চন্দ্রগ্রহণ কিংবা সূর্যগ্রহণ হবে— মাঝে মাঝে জোয়ার কিংবা ভাটা হবে— তাদের নিয়তি তাদের মধ্যে বন্টন করে দিবে কেবল হে অনিন্দ্য কন্যা আমার।


হে রমারব কন্যা আমার জেনে রেখো— অন্ধকার মানে আলোর অনুপস্থিতি নয়— বলতে চাচ্ছি অন্ধকার আলোর বিপরীত শব্দ নয়— অন্ধকার ইজ অন্ধকার— যেমন কালো ইজ কালো— কালো কখনো সাদার বিপরীত শব্দ নয়— বিপরীত শব্দ একটা রাজনীতি— একটা পক্ষ শাসক আর আরেকটা পক্ষ শোষিত হওয়ার রাজনীতি।


তোমাকে তিনটি শব্দ শোনাচ্ছি— রিজিলিয়েন্স, কমপ্যাশন এবং ডিলিজেন্স— এই তিনটি শব্দই ইংরেজি— একদিন এরা গভীরভাবে বাংলা ভাষার নাগরিক হবে— তুমি এদেরকে মনে মননে ধারন করতে শিখো— রিজিলিয়েন্স মানে এমন এক ক্ষমতা যা রক্তবীজের মতো জন্মের কথা বলে, যা পরাজিত হতে হতে ঘুরে দাড়ানোর শক্তির কথা বলে— ডিলিজেন্স মানে অধ্যবসায়— এমন এক অধ্যবসায় যার প্রতিটি ধাপে থাকে আন্তরিকতার নব নব সাজ— কমপ্যাশন মানে সহানুভূতি এবং সহমর্মিতার মিশ্রিত অবয়ব।  


তুমি অবশ্যই মানুষের বিপদ থেকে শিক্ষা নিবে— নতুবা তোমার বিপদ থেকে শিক্ষা নিবে মানুষ— তুমি প্রথমে মানুষ হবে, তারপর আকাশ থেকে নিজেকে আলাদা করার বিদ্যা রপ্ত করে নিও হে পুত্র আমার।

শিয়াল খেকো

এক দেশে এক মুরগী ছিলো। তার একমাত্র খাবার ছিলো শিয়াল। এক দেশে এক শিয়াল ছিলো। তার প্রিয় খাবার ছিলো মুরগী— অন্য খাবারও সে খেতো কিন্তু প্রিয় এবং মজার খাবার ছিলো মুরগী। মুরগীটি কেবলই শিয়াল খেয়ে বেচে থাকতো। 


একদিন সেই শিয়াল এবং সেই মুরগির দেখা হয়ে গেলো— শিয়াল মুরগীটিকে দেখামাত্র ভাবছে— বাহ! আজকে মজা করে এই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মুরগিটিকে খাওয়া যাবে। আর মুরগিটি ভাবছে— বহুদিন পর খাবার পেলাম। 


তারপর মুরগিটি শিয়ালটিকে খেয়ে ফেললো!

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

জুলাই তুমি

 জুলাই তুমি জলের মতো নিচের দিকে নামো 

   লোভবাজার খুব সহজে ঘোলা জলে আনো

     সত্য তখন তলিয়ে থাকে কাদার স্তরে স্তরে

        স্বচ্ছ নদী খোঁজে মানুষ অন্ধকারের পরে