রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বোম্বাই এয়ারপোর্ট

সাদা গোলাপের ওপর বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা পড়লে মনে হয় পৃথিবী আজ খুব আস্তে কথা বলছে 🌧️🤍— নিষ্পাপ পাপড়ির গায়ে জল জমে থাকে, মুক্তোর মতো নয়— যেন নীরব প্রার্থনার অশ্রু। সে বৃষ্টি শুধু ফুলকে ভেজায় না, ভিজিয়ে দেয় তাকিয়ে থাকা মনটাকেও— কিছু না–বলা স্মৃতি, কিছু অদৃশ্য ভালোবাসা। কিছু সৌন্দর্য ব্যাখ্যা চায় না, শুধু নীরবে ছুঁয়ে যায়। 🌹


বাচ্চাটির বয়স ছয় কি সাত হবে। বই পড়ছে। বইটিকে মনে হচ্ছে সাদা গোলাপ এবং বাচ্চাটিকে মনে হচ্ছে সেই সাদা গোলাপের উপর অর্পিত প্রথম বৃষ্টির জল। বোম্বাই এয়ারপোর্টে এমন সুন্দর মনমাতানো দৃশ্য দেখে জার্নির ক্লান্তি যেনো বাগানবাড়িতে বিশ্রাম নিতে গ্যাছে। এয়ারপোর্ট দেখছি আর শক্তিশালী হচ্ছি। সে মনোযোগ দিয়ে বই পড়ছে। এখনকার সময়ের বাচ্চাদের এতো মনোযোগ দিয়ে বই পড়তে দেখা যায় না— দেখা যায় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত সারাক্ষণ।


বোম্বাই এয়ারপোর্ট খুবই সুন্দর গোছানো। এই পর্যন্ত যত এয়ারপোর্ট আমি দেখেছি কোনো এয়ারপোর্টে এমন উন্মুক্ত বইবিক্রি সেন্টার দেখিনি। সেই বইবিক্রির সেন্টার থেকে ডলার দিয়ে দুটি বই কিনেছি।


একটি বইয়ের নাম Butter, জাপানি লেখক Asako Yuzuki-র একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যা ২০১৭ সালে জাপানে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এবং ২০২৪ সালে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। ইংরেজি অনুবাদটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং Waterstones Book of the Year 2024 নির্বাচিত হয়েছে একটি উল্লেখযোগ্য পুরস্কার হিসেবে।


“Butter” বইটি বাস্তব জীবনের “কনকাতসু কিলার” মামলার দ্বারা অনুপ্রাণিত, যিনি তার তিনজন প্রেমিককে বিষাক্ত খাবারের মাধ্যমে হত্যা করেছিলেন। গল্পে দেখা যায়, এক সাংবাদিক ক্রমে এই দোষী সাব্যস্ত হত্যাকাণ্ডকারীর প্রতি আসক্ত হয়ে ওঠে, যিনি তার ঘরে বানানো খাবারের মাধ্যমে ভিকটিমদের আকর্ষণ করতেন। Laura Wilson (দ্য গার্ডিয়ান) লিখেছেন—

“এটি বন্ধুত্ব, সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ আনন্দ এবং সমাজের নারীদের প্রতি অতি দ্বন্দ্বপূর্ণ প্রত্যাশা নিয়ে ভাবান্বিত এবং আশ্চর্যজনকভাবে মনোমুগ্ধকর এক দৃষ্টিভঙ্গি।”


বই দুটি রেস্ট হাউজে রেখে আবার এয়ারপোর্টে হাটতে থাকি। মোবারক ভাই নিজের মতো হেটে হেটে দেখছে এয়ারপোর্ট— তিনি ডলার খরচ করতে নারাজ— তাই তিনি কোনো রেস্টহাউজ ভাড়া নেননি— আমি নিয়েছি— তাতে আমার ত্রিশ ডলার খরচ করতে হয়েছে— তারপরও শান্তি। কারণ হেটে হেটে ক্লান্ত হলে সেখানে গিয়ে চা খাই কফি খাই বিছানায় একটু গতর লাগাই, আবার হাটি আর দেখি— চোখ যেনো সরতে চায় না। 


বোম্বাই এয়ারপোর্টে প্রতিদিন প্রায় একহাজার ফ্লাইট উঠানামা করে, প্রায় দেড় লাখ যাত্রী আসা যাওয়া করে।  ভোরে আমাদের ফ্লাইট— এয়ার ইন্ডিয়া। বাংলাদেশ যাবো। বোম্বাই ট্রানজিট। শ্রীলঙ্কা যাওয়ার সময় ট্রানজিট পড়ে দিল্লিতে। সারারাত দিল্লিতে বসা ছিলাম— আমি আর হাবিব।  আমরা বসে বসে মানুষের আসাযাওয়া দেখি— কত রকমের মানুষ অথচ প্রায় একই রকমের পোশাক। পুজিবাজার মানুষকে এক সংস্কৃতিতে নিয়ে আসার চেষ্টায় ব্যস্ত— তাতে ব্যবসা করতে সুবিধা। বোম্বাই এয়ারপোর্টে কিন্তু মানুষের দিকে আমার দৃষ্টিযোগ কম— অধিক দৃষ্টিযোগ বোম্বাই এয়ারপোর্টের সাজসজ্জার দিকে— এখানে বহুমাত্রিক খাবার দোকানের সক্রিয় অবস্থান। কোনো খাবারের দিকে আমার ক্ষুধাদৃষ্টি যাচ্ছে না কিন্তু চোখের দৃষ্টি তো আরোপিত থাকছেই।  ত্রিশ ডলারের ভেতরে পর্যাপ্ত খাবার সেবা দিয়েছে আমাকে রেস্টহাউজ। রেস্টহাউজ বলতে তাবুর ⛺ মতো ছোটো ছোটো ঘর— একজন থাকতে পারে একটি তাবুতে।  আমার তাবুর পাশেই জঙ্গল— তাবুর জানালা দিয়ে তাকালেই দেখা যায় সেই জঙ্গল— মানুষের বানানো জঙ্গল— ইট সিমেন্টের পেটের ভেতর এক প্রাকৃতিক জঙ্গল— তালা হিসাব করলে আমার তাবুটি তিন তালায় হবে— তালারে আধুনিক সময়ের মানুষ  আবার ফ্লোর বলে। 


ফোর্থ ফ্লোরে গিয়েছিলাম স্পা নিতে। কিন্তু স্পা সেন্টার বন্ধ। কারন কয়েকদিন আগে স্পা সেন্টারে একজন মানুষের মৃত শরীর পড়ে থাকে। সেই থেকে স্পা সেন্টারটি বন্ধ ❎! বোম্বাই এয়ারপোর্টে সারারাত সব দোকান ওপেন থাকে— থাকার হোটেলে রাত বারোটার পর সাধারণত কোনো সিট কিংবা রুম পাওয়া যায় না— হোটেলে প্রতি রুমের জন্য গুনতে হয় একশো থেকে একশো ত্রিশ ডলার— তবে তাবুতে ⛺ সারারাত সারাদিন সিট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।


আজকে তাবুর দায়িত্বে যে ছেলেটা রয়েছে সে খুবই ভালো মানুষ। অল্প সময়ের মধ্যে সে আমার ঘরের মানুষ হয়ে যায়। কারন সে একজন কবি। তার অনেকগুলো কবিতা শুনি— উর্দুতে হিন্দিতে। মির্জা গালিবের প্রভাব তার কবিতায় স্পষ্ট। এতো ব্যস্ততার মাঝেও যে কবিমন আছে তার সেইজন্য তাকে সাধুবাদ জানাই এবং আফালের মাছ বইটি উপহার হিসাবে দেই তাকে। সে আমাকে তার পুরো ঠিকানা লিখে দেয় এবং বোম্বাই আসলে তার বাড়িতে থাকার অনুরোধ জানায়।  আমি আপ্লুত হই তার নেমন্তন্ন পেয়ে। আমিও তাকে বাংলাদেশে এসে আমাকে ধন্যযোগ করার প্রস্তাব পেশ করি। আশা করি সে বাংলাদেশে আসবে একদিন।


ছেলেটার নাম রোহিত এবং বোম্বাই এয়ারপোর্টের কাগজি নাম ছত্রপতি শিবাজি মহারাজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আমার রেস্ট নেয়ার  সুন্দর ব্যবস্থার আয়োজনকারী ম্যানেজমেন্টের নাম  AVserve Circle। এটি crossword বুকস্টলের সাথে। AVserve Circle এ থাকার জন্যে যেটিকে আমি তাবু বলছি তারা সেটিকে বলে স্লিপিং পট।


রোহিত আমার সাথে খুবই সুন্দর একটি আচরণ করেছে। স্লিপিং পটে আমার থাকার সময় চারঘন্টা। অথচ সে আমাকে বলেছে— স্যার, আপনার ফ্লাইটের আগ পর্যন্ত আপনি রেস্ট নেন এখানে, আমি ম্যানেজ করে নিচ্ছি, আপনার ফ্লাইটের সময় আমি আপনাকে ডেকে দিবো।  আমার ফ্লাইট ছয়টায়।  ঠিকই সে পাচটা ত্রিশ মিনিটে আমাকে ডেকে দেয়। কর্পোরেট জগৎ এমন সুন্দর আচরণ করে না— করে অর্থের বিনিময়ে কিন্তু রোহিত অর্থের বাইরে এসে আমার সাথে মানবিক আচরণ করে যেটা তার মর্যাদা আমার কাছে অনেকগুন বৃদ্ধি করে যা অর্থের মাধ্যমে অর্জন করা যায় না।  


✈️ বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—Bandaranaike International Airport (BIA)— যার অবস্থান 📍কাটুনায়েকে, কলম্বোর কাছে— সেখান থেকে আমাদের উড়োজাহাজ ফ্লাই করে চারটার সময়। আমরা বোম্বাই এয়ারপোর্টে পৌছি ছয়টা কুড়ি মিনিটে। বোর্ডিং  পাসে অনেক সময় লাগে।  আমাদের সাথে বোর্ডিং পাস করে ইন্দোনেশিয়ার বিরাট এক কাফেলা।  তারা মক্কায় যাবে— মানে তারা হাজী হওয়ার নিয়তে বাড়ি থেকে বের হয়েছে।


ইনশাআল্লাহ হাজী  হালিমা নামে একজন ইন্দোনেশিয়ান মেয়ে আমার দেশ জানতে চায়— আমার দেশ বাংলাদেশ শুনে জানতে চায় আমি মুসলমান কিনা— আমি তাকে বলি— I  grew up in a Muslim family; still, I am learning what it means to be a Muslim. হালিমা আমার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টি বিনিয়োগ করে। আমি হালিমার মুগ্ধ দৃষ্টির মাঝে হজ্জের আনন্দ দেখতে পাই এবং দৃষ্টিবৃষ্টি চলাকালীন সময়ে তাকে বলি— Convey my heartfelt, soul-deep salam to the Compassionate One of Madinah. হালিমা মাথা নাড়ে— ঠিক তখনই ইমিগ্রেশন পুলিশ আমাকে নড়তে বলে। আমিও নড়েচড়ে আমার ব্যাগপত্র মেশিনে রাখি। মেশিন চেকিং কমপ্লিট হওয়ার পর প্রায় দুইঘন্টার অপেক্ষাক্লান্তি যেনো নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো বোম্বাই এয়ারপোর্টের অবয়ব দেখে— এককথায় দারুণ এবং অসাধারণ। দিল্লি এয়ারপোর্টের মতো এই এয়ারপোর্টটি এতো ব্যস্ত না— টিপটপ গোছানো— জায়গায় জায়গায় গার্ডেন— প্রকৃতির ছোয়া। দোকান আছে। তবে দোকানের কারনে বস্তিময় হয়ে যায়নি— পর্যাপ্ত ফাকা জায়গা— ফ্লোরে আলো পড়ে চিকচিক করছে— মাথার উপরে যে রোফ তাতে ফুলময় ❀ কারুকাজ। হঠাৎ চোখে আসে একটি নান্দনিক স্টল— সদ গুরুর গুরুত্বপূর্ণ কথামালা নিয়ে ব্যানারকর্ম— ছবিকর্ম বলা যায় অর্থাৎ তিনার বিভিন্ন মোশনের ছবি— ছবির নিচে তিনার দার্শনিক কথাবার্তা।  দাড়িয়ে দাড়িয়ে সবগুলো কথা পড়ি— ভালো লাগলো বেশ—

Diversity is a strength.

It has arisen in this culture out of richness, not out of divide.


Grace is subtle.

Unless you are alert you will miss it.


বেশভূষার বাহাদুরি নাই ছত্রপতি শিবাজি মহারাজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিন্তু বেশভূষার অলঙ্কার আছে— সেই অলঙ্কারের আবার শিল্পমান আছে বোল্ড করে বলার মতো। বলার মতো একটি রাত যাপিত হলো ছত্রপতি শিবাজি মহারাজা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু কেমনে বলমু যা লেগে আছে চোখের মন্দিরে মনের অন্দরে— তাকে তো প্রার্থনায় কেবল পাওয়া যায়— পাওয়া যায় না তারে নির্মিত ভাষায়।

জলজয়



ফুলের সাথে আছি প্রিয়

ভুলের সাথে নয়

যতই করো জল ঘোলা 

জলের হবে জয় ✌

মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সখীচার


হলে তুমি সখীচার

লালা আমার মরবেই

থাকে না তার

থাকে না তার উপায় তবে একমুঠোও বাচার

নীলাপ্রিয় নীল শাড়ি চোখে উঠে রোদ

মনজলে কেপে কেপে উঠে বোদ বোদ

আলাবোলা কামবনে ঝড় আসে ঝড় আসে

আসে আসে তুফান

বড় হওয়া সোনা ফসল— পাকা ধানে মই

স্বপ্ন তো ছিলোই

স্বপ্ন তো থাকেই মজা করে খাওয়ার কাঁঠালি ধানের খই 

  কামজোয়ার পথ চিনে না— কানার কানা 

    জোয়ারে জোয়ারে ডুবায় ফসল শুনে না মানা 

      কামজ্বর কামজ্বর অতুল সাগর 

        চাবুক মেরে বলি তারে থামো থামো 

         কামডর কামডর কামড় মারে 

          থামানো যায় না— যায় না তারে 

            শুনো ওরে মন আমার ওহে মন মিয়া 

              ধরো তারে আদরে ধরো মায়া দিয়া

                বান্দো দেহ সোহাগে সোহাগ নিয়া 

                  সন্ধি করে সময়ে বসাও সময়বিয়া 

                    লাগাও হিয়া তবে হিয়ার সাথে হিয়া

সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

বিপদফুলের কলি



লালের সাথে তুমি আছো

আছো নীলের সাথে 

সাদার সাথেও সুড়সুড়িটা চলে মাঝরাতে 

কালোর সাথে দেখা হলে মুচকি মুচকি হাসো

বলো দেখি আসলে তুমি কারে ভালোবাসো

বলবে তুমি 'বিপদে আছি'— ম্যানেজ করে চলি 

তুমি আসলে 'বিপদে রাখো' বিপদফুলের কলি

শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

সন্ধ্যাচোখ



এইমাত্র দেখা গেলো দূরে 

আবার চলে গেলো আরও আরও দূরে 

চোখ থেকে চোখে 

চোখের সীমানা পেরিয়ে 

অপেক্ষায় বসে আছি আমি বেকুয়ার বিলে

হে অতিথি— ওহে অতিথি পাখি 

এখানে আছেনি—আছে নাকি কোনো 

তোমার শামুকমদে পরিযায়ী সাকি? 

তোমার পাখা মানে না কোনো পাসপোর্ট ভিসা

তোমার মন জানে পৃথিবীর পরতে পরতে তুমি 

পৃথিবীর পরতে পরতে আছে তোমার অধিকার হিস্যা

দেশ শব্দটি— এক বাকুয়াস কথা 

সংবিধান অভিধান— বানোয়াট সুবিধা 

তোমার কাছে পৃথিবী মানে মুসাফিরঘর 

সফরে সফরে আওয়াজ করো

বর্ডারভাঙার গান করো বর্ডারবাজ মগজের ভেতর 

হে অতিথি— ওহে অতিথি পাখি 

আমার সাথে দেখা দিবে নাকি

আমিও তোমার মতো মুসাফির

উড়ে উড়ে নড়ে চড়ে ভ্রমণ আকি

এই পৃথিবী আমার 

আমি এই পৃথিবীর 

বর্ডার টডার মিথ্যা ফেলাসি ফেইক শিয়াল ফাকি

তোমার পা সত্য গতি চন মন 

তোমার ঠোঁট জানে প্রয়োজন 

তোমার ঠোঁটের কথা অনিবার্য হবে 

এবং অনিবার্য হলো 

কুয়াশার টেবিলে রোদের আদরে বসি চলো 

বসি চলো পৃথিবীর বুকে 

ধান গাছের ফাকে শামুকের সাথে 

জলের গতরে ভেসে থাকা শ্যাওলা মাছের হাতে

চলো বসি— হে অতিথি পাখি 

চোখের ভেতর একটা লাল নীল হলুদ সন্ধ্যাচোখ রাখি

রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

আ ফা লে র মা ছ

 ০১

ধর্মের মর্মকথা যার মনে ধর্মের তর্ককথা তার মুখে আসে না।


০২

যাকে নিয়ে উপহাস করবেন আজ— কাল তার সামনে এমন নতজানু হয়ে দাড়াতে হবে আপনি হাসতে পারবেন না— আপনাকে তখন মনে হবে ডাঙায় ভাসা পাতিহাঁস।


০৩

Mutual respect যেখানে থাকে না সেখানে self respect থাকাটা অনিবার্য— আগুন জ্বালাতে গেলে প্রথমে একটি দিয়াশলাই কাঠিকে জ্বলতে হয়— self respect যখন তার মাত্রা অতিক্রম করে তখন mutual respect আগুন হয়ে জ্বলতে থাকে।


০৪

বিপদের সময় যে আশ্রয় খুজে তার মানসিকতা আশ্রয় নির্ভর হয়ে যায়— বিপদ ফেইস করতে হয় যেমন করে ফেইস করতে হয় আনন্দ— যিনি ফেইস করতে শিখেন তিনিই হয়ে উঠেন আশ্রয়দাতা। 


০৫

সুবিধার হাতে অসুবিধা থাপ্পড় খেলে বুঝতে হবে প্রতিশোধ প্রতিহিংসার বাজার গরম।


০৬

ঢেউ আসলে নদী ভাঙে কিন্তু জল পালায় না। 


০৭

যতবার আপনি নিজের সুবিধার কথা চিন্তা করে রাজনীতি করবেন ততবারই আপনি রাজনৈতিকভাবে অসুবিধায় পড়বেন— রাজনীতিকে যারা খেলা মনে করে তারাই জনগনকে নিয়ে জুয়াখেলা শুরু করে— রাজনীতি খেলা নয়— সাধনা— জনগণ কেবল ভোটের একটি সংখ্যা নয়— উপাসনা!


০৮

ইদুর দৌড়াচ্ছে— বিড়াল দৌড়াচ্ছে তার পিছুপিছু— খেলা জমেছে বেশ— ইদুর দৌড়াচ্ছে তার প্রান বাচানোর জন্যে— বলেন তো কার জয় ✌ হবে!?  জ্বি — আপনি ঠিক ধরেছেন— জয় হবে আপনার— আপনি মানে জনগণ।


০৯

একই কোরান পরে কেউ হয় পথপ্রাপ্ত আবার কেউ হয় পথচ্যুত— আপনি নিশ্চয়ই এমন সংবিধান বানাতে যাচ্ছেন না যা সবাইকে পথে নিয়ে আসবে— আগে তোরা মানুষ হ! আলোতে বালু পড়লে আলো বালু হয়ে যায় না— আলো ইজ আলো, বালু ইজ বালু।


১০

আপনি সত্যকে খুজছেন? দুনিয়ার সমগ্র বইপত্র তন্নতন্ন করে খুজছেন সত্যকে? পাচ্ছেন না? একজন মজলুমের পক্ষে কথা বলেন— দেখবেন সত্য আপনাকে খুজছে। 


সত্যের দেখা পেয়ে গেলে পাচতলা লাগবে না— গাছতলা হবে আপনার জন্যে অনিবার্য শান্তির আস্তানা।


১১

অনেক সরকারি কর্মচারী আজকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শোকে মুহ্যমান হয়ে ফেইসবুকে কোনো পোস্ট দিবে না— পাছে তাদের চাকরিটা চলে যায়! হয়তো চাকরি বাচানোর জন্যে প্রতি বছর পনেরো আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিজের পিতা মনে করে ফেইসবুকে শোকময়ী পোস্ট দিতেন— আসলে তাদের পিতার নাম চাকরি অর্ফে পার্সোনাল সুবিধা। যারা নিজের চাকরি বাচানোর জন্যে মিথ্যার সাথে আপোষ করতে পারে, তারা অধিক সুবিধা পেলে নিজের পতাকা বিক্রি করতে এক সেকেন্ডও ভাববে না। 


ভয় পাচ্ছেন!  মনে রাখবেন, আপনার ভয়ও ব্যক্তিগত— আপনার টেবিল, আপনার চেয়ার, আপনার চুলের মতোই ব্যক্তিগত।


১২

আমরা আসলে নেতার রাজনীতি করি— জনগণের রাজনীতি নেতা করেন না!!


১৩

মোটা বুদ্ধির দল কেবল একতার বলে ক্ষমতা হাতে পেলেও মোটাদাগে ক্ষমতা তাদেরকে নিয়ে বান্দরবাদাম খেলা খেলে।


১৪

আপনি টাকা জমাচ্ছেন? এই দিক দিয়ে আপনার জমানো সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে! আপনার জন্যে টাকা— টাকার জন্যে আপনি না— এবার সিদ্ধান্ত নেন, ইন্দুর রাখবেন, না মারবেন।


১৫

টিভিতে আপনারা যাদেরকে দেখেন বড় বড় ভালো ভালো কথা বলে তারা কিন্তু বড় মাপের না— তারা একেবারেই টিভি মাপের ☺। 


১৬

এখন মানুষ মিশে থাকে— মিলে থাকে না— এখনকার মানুষের পক্ষে মিলেমিশে থাকা তো আরও সম্ভব না— কারন মানুষ শুভাকাঙ্ক্ষী আর সহ্য করছে না— মানুষ এখন সমর্থনকাঙ্ক্ষী— ফলে অন্ধকার ভেদ করে আলোর নামে অন্ধকার বিক্রি করছে সো কল্ড আলোর সন্তানেরা। 


১৭

ভালোবাসা একটি ক্ষমতার নাম— এই সহজ কথাটি যাদের মগজে ঢুকে না— তাদের মগজ পড়ে আছে অন্য কোথাও অন্য কোনো জালে ☁। 


১৮

Begad, truth always shines in the end. Hello, my dear, please keep in mind that a blunt truth is better than a polished lie. So I let you know: do not befoul your character with dishonesty—keep it pure. And do not belaud people blindly; appreciate with reason. Why do you bewitch others with lies? please try to  inspire them with truth— the bit may control a horse, but self-control guides a man. 


১৯

লবনের সাগরে ভেসে থাকলেও বেচে থাকতে হবে মিষ্টি পানি পান করেই। 


২০

তিনি এমন কিছু কাউকে দেন না যার ভার সে বহন করতে পারে না। তিনি এমন কষ্ট কাউকে দেন না যা সে সহ্য করতে পারে না। খেলোয়াড় আর দর্শক হওয়া ব্যতীত আমরা কেবল আবশ্যিক ছায়া!


২১

সামষ্টিক প্রশ্নে সৎ লোক নেই— আছে কেবল ভীরু আর ব্যক্তিগত লোক। যারা সততার ভান ধরে আছে তারা বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণকথা কথায় কথায় বলে নিজেদের সুবিধামতো— তারা হযরত মোহাম্মদ ﷺ মহানুভবতার কথা বলে খন্ডিত আকারে অথচ তাদের জীবন তাদেরই ঘরকে কেন্দ্র করে নির্মিত বাহির— আর সেই সব নুরময় আত্মাদের জীবন ছিলো বাহিরকে কেন্দ্র করে নির্মিত মহাকাব্য মহাকাল। তারা চেগুয়েভারার কথা বলে— আসলে তারা গুয়েভারার জনপ্রিয়তা ধরে টানে— গুয়েভারার সংগ্রামকে নয়। 


গাছকে কেন্দ্র করে যেমন পরগাছা বাচে— তেমনি সংগ্রামী মহান আত্মাদের উপর ভর করে বেচে আছে অসম্ভব অযথা পরগাছা মানুষ— আর গাছেরা পরগাছার ডামাডোলে ঢেকে আছে সময়ের আশ্রয়ে।


২২

জনগণকে যারাই বোকা ভেবেছে তারাই ভোগে চলে গ্যাছে! 


২৩

তারা কেবল মরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখায় অথচ মরেই আছি! 


২৪

শকুন সারা জীবন গরুর মৃত্যু কামনা করেছে— গরুর বিনাশ হয়নি কিন্তু শকুনের বিনাশ হয়ে গ্যাছে— আর গরু পেয়েছে আগের চেয়েও উন্নত জীবন। 


২৫

এখানে শ্রদ্ধা মানে দাসত্ব— আর স্নেহ মানে ভবিষ্যতের আলাতুল প্রয়োজন। এখানে প্রেম মানে বিরহ। এখানে বিপ্লব মানে ব্যক্তিগত বিরোধ— ধর্ম মানে সুবিধা পাওয়ার ন্যাক্কারজনক সুযোগ। আর মানুষ? মানুষ এখানে পন্যের মতো উঠানামা করা দরদাম। এই গ্রহে রাজনীতি পার্লারের ভেতরঘরে সাজানো সাজনীতি। এখানে কালচারাল রেভুলোশনের সম্ভাবনাকে পাশ কাটিয়ে আলসারাল রেভুলোশন ঘটে গ্যাছে।


চলো প্রিয় এক কাপ পরচর্চা খাই— আর নিজেদের দশ কাপ আবর্জনা ঢেকে রাখি ঠান্ডা হওয়ার আশায়।


২৬

একমাত্র সরল পথে আছে মুক্তি— কায়দায় আছে যুক্তি— যুক্তিতে মুক্তি নাই জনাব। 


২৭

ব্যথা থাকলে মাথা তো লাগবেই। 


২৮

তিনি যে গোপনে গোপনে আমার ফেইসবুকে আইসা আমার কর্মকাণ্ড দেইখা চলে যেতেন তা আমি টের পাই— ইদানিং ইনি আর আসছেন না। কারণ তিনি জেনে গ্যাছেন ফেইসবুক আমারে ডলার দেয়— ইনি একবার আমার ফেইসবুকে আসলে এক সেন্ট হলেও আমার একাউন্টে জমা হয়ে যাবে— তা তিনার সহ্য হচ্ছে না। 


হে আমার প্রিয় গোপন পরশ্রীকাতর বন্ধু— পাখি আকাশে উড়ে  নিজের ডানায়— আপনিও ডানা লাগান, আপনিও আকাশে উড়তে পারবেন। পরশ্রীকাতরতা কিংবা হিংসা উড়ার ডানাকে দুর্বল করে দেয়।


২৯

গৃধ্রকূট পর্বতে বুদ্ধের ওপর দেবদত্ত পাথর গড়িয়ে দেন। পাথর সরাসরি আঘাত না করলেও তার ভাঙা টুকরো বুদ্ধের পায়ে আঘাত করে,  রক্ত বের হয়।


দেবদত্তের কারনে বুদ্ধের শান্ত অবিচল চিত্ত অস্থির হয়নি— বরং তিনি শান্ত অবিচল চিত্তময় থাকার নতুন এক উপায় আবিষ্কার করেন নিশ্চয়ই। 


পথের কাটা পথিকের হাটা থামাতে পারে না— পথিককে জুতা আবিষ্কারে উৎসাহিত করে মাত্র।


৩০

এমন কী কখনো হয়েছে যে ফ্যান ঘুরছে কিন্তু শরীর ঠান্ডা হচ্ছে না? অবশ্যই হয়েছে। কারন প্রকৃতিতে এতো গরম যে ফ্যান সেই গরম ভেদ করে শীতল বাতাস আনতে পারছে না। দুনিয়া নামক ঘরে রহমত ঘুরবে কিন্তু কর্মে রহমত না আনতে পারলে হৃদয়ে শান্তি পাবেন না— দুনিয়া নামক ঘরে বিপদ ঘুরবে কিন্তু কর্মে রহমত প্রতিষ্ঠা করতে পারলে মনে অশান্তি আসতে পারবে না।


রহমত কী?


নিজের জন্যে যা ভালো মনে করেন অপরের জন্যে তা নিশ্চিত করতে সংগ্রাম করার সক্রিয় মানসিকতা।


৩১

আমি তাকে শিশুর মতো ভালোবাসি। আর সে আমাকে জ্ঞানীর মতো বিবেচনা করে। ভালো বাসতে বাসতে আমি আরো শিশু হয়ে যাই। আর সে হয়ে যায় কিতাবুল মুফতি। হযরত মুফতি আমাকে ফতুয়া দেয় আমি নাকি কাফের। 

কসম খোদার এই কাফেরের হৃদয়ে প্রেমের যে খুশবু তা বালাকাত-মান্দে তন্নতন্ন করেও খুঁজে পাাওয়া যাবে না। 


সেও জয় হল, আমিও জয়ী


সে জেনেছে সূর্য একটি আলোকপিণ্ড, আর আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি সূর্য এক ছায়ার অপভ্রংশ।


৩২

নেতার চরন ধরে বসে থাকলে হবে না— নেতার আচরণ থেকে শিক্ষা নিতে হবে রেজা ভাই— নেতার মৌখিক ভক্তের অভাব না হবে জানি— নেতার আদর্শের কর্মী দরকার।


আমার পাশে বসে তিনজন ইয়াং ওল্ডম্যান "মুজিব: একটি জাতির রূপকার" সিনেমাটা দেখেন। তিনারা প্রায় ত্রিশ বছর পর সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে আসেন। মাহাবুব ভাই সর্বশেষ 'পদ্মানদীর মাঝি' সিনেমার হলে দেখেছিলেন। 'ভাই' বললাম কারন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ছাত্র।


মাহাবুব ভাই মুজিব বাহিনির সদস্য ছিলেন। সিনেমার একপর্যায়ে অঝোরে কেদেছেন— যে কান্নার সামনে কোনো ক্যামেরা বা ম্যাকাপ নাই। তিনারা দেশের জন্যে রক্ত দিলেন! আর এখন দিচ্ছেন চোখের জল!!

আর কী চাও প্রিয় দেশ আমার!?


৩৩


দৃষ্টি বলের দিকেই রাখতে চাই, গ্যালারির দিকে নয়। কেউ কালে থাকতে পারে না যদি না কাল ব্যক্তিকে গ্রহন করে। আমার কাছে আমি একটি গুরুত্বপূর্ন শব্দ। এই আমির ভেতর আমরা শব্দটি নিহিত। তাই আমি যত বেশি আমি হয়ে ওঠবো ততই আমরার দেখা পাবো। 


আমার সমাজ, আমার খাবার এক আমি'র জন্ম দিয়েছে, সেই আমি'র মধ্যে কল্যানকর কিছু নেই। নির্মিত আমি'র গুরুত্ব পৃথিবীর জন্য জরুরী। বনজ পাতা থেকে যেমনভাবে প্রক্রিয়াকরন  করে ঔষধ আবিষ্কার  করতে হয় তেমনি আমিকে ফিল্টারিং করে নিজের খোঁজ পেতে হয়। নিজস্বতা আবিষ্কার ব্যক্তির অহংকার, পৃথিবীর সোনার ফসল। 


যে খেলোয়াড় বলের চেয়ে দর্শকদের প্রতি অধিক মনোযোগী তার আউট হবার সম্ভাবনা অধিক হবে তাই স্বাভাবিক। কাল এক গভীর ব্যাপার। গভীর হলেই কালের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন সম্ভব। কালের বন্ধু হলেই রথ দেখা সম্ভব আর সাথে কলা বিক্রির বিষয়টি তো আছেই।


৩৪

অন্ধকার রাতের জননী 

Dark is the mother only for the night 


৩৫


স্টার সিনেপ্লেক্সে ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার" (One Battle After Another) সিনেমাটি দেখছি। সিনেমা শুরু হওয়ার আগে পর্দায় বাংলাদেশের পতাকা পতপত করে উড়তে দেখে পতাকার সম্মানে আমরা উঠে দাড়ালাম। পতাকার সাথে বাজছে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত— আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি।


পতাকা পর্দা থেকে চলে যাওয়া মাত্র একজন দর্শক বলে উঠে— জয় বাংলা ✌!


আরেকজন দর্শক বলে উঠে— কে রে?


দর্শক সারি থেকে আরেকজন বলে উঠে— জিয়ার সৈনিক!


তারপর আর কোনো শব্দ নাই— তারপর সুন্দর গোছানো হলরুমে সুন্দর গোছানো নীরবতা নেমে আসে। 


সিনেমা শেষ হলে আমি ভাবতে থাকি পল টমাস অ্যান্ডারসনের পরিচালনায় এবং লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, টেয়ানা টেলর, রেজিনা হল, শেন পেন ও বেনিও ডেল টোরোর মতো তারকাদের অভিনীত এই  সিনেমায় বিপ্লব কত মিহি আলোর মতো হিহিহি করে হাসতে থাকে সময়ের আয়নায়— আর আমাদের সময় কার ঘরে যেনো গভীর রাতে ঘুমাতে যাই শরীর বেচার ধান্দায়!!


৩৬


নদীতে পানি শুকাতে আরম্ভ করলে সব মাছ পালাতে আরম্ভ করে কিন্তু মাছ জানে না তখন তাদের পালানোর আর সুযোগ নাই। 


৩৭


মানুষ সুন্দর করে বাচার জন্যে অসুন্দর আচরণ করে— অসুন্দর আচরণের জন্যে মানুষ সুন্দর করে বাচতে পারে না!


৩৮


আপনি কর্নেল তাহেরের পথে হাটলেন না, ভালো কথা— যে কর্নেল তাহের আপনার বন্দীদশা দূর করে হাটতে সহযোগিতা করলেন তাকে কেনো হত্যা করলেন!? 


বিপ্লব মানে কৃতজ্ঞতা— মাটির প্রতি: বাতাসের প্রতি: প্রকৃতির প্রতি: আপনাকে যে সহযোগিতা করবে তার প্রতি।


সংহতি মানে একতার শক্তি

সংহতি মানে মিত্রের সংহার নয়— কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতি।


৩৯


সম্পর্কে মিথ্যাকথা বিষের মতো কাজ করে— ধীরে ধীরে না— একেবারে সম্পর্কের মৃত্যু রচনা করে!


৪০


সোজা আঙুল 

ঘিআঙুল 

পাছায় আঙুল 

অথচ আমরা শুনেছি ইসলামের দ্যা প্রোফেট সোজা আঙুল দিয়ে চাদকে দিখন্ডিত করেছেন এবং কোরানের আল্লা বলেছেন সোজা পথে চলার কথা— ঘি তুলতে যারা আঙুল বাকা করতে চান তারা ঘিকে অনেক মূল্যবান মনে করেন—মনে করতে পারেন না তিনার আঙুল কত শক্তিশালী।


৪১


তিনি যাকে ডেকে নেন— তিনি তাকে ঢেকেও রাখেন— ঢেকে রাখেন কথার রোদ থেকে: ঢেকে রাখেন প্রশংসার তুফান থেকে: ঢেকে রাখেন ছায়ার মায়া থেকে।


তিনি তাকে প্রকাশ করেন কাশমুক্ত সময়ে— সময়ের মুকুট দিয়ে!


৪২

জ্ঞান যেখানে জীবিত, মারফত (معرفَة) সেখানে মৃত— মারফত যেখানে জীবিত, জ্ঞান সেখানে মৃত— জ্ঞানের চোখে সৃষ্টি দেখা যায় আর মারফতের চোখে দেখা যায় স্রষ্টা!


৪৩


শীতের রোদে একটি নরম আলো আছে— যেনো প্রিয়তমার আণুবীক্ষণিক আঙুল— হালকা ছোয়ায় হৃদয়ে নিয়ে আসে বিটার কোল্ড— কাপতে কাপতে জড়িয়ে ধরার উষ্ণ আনন্দ।


৪৪


তোমার সাথে কথা হয় না প্রিয়— কিন্তু তোমার জন্যে দোয়া থাকে অনিবার্য। তোমাকে দেখা হয়না বহুদিন— কিন্তু তোমার দেখার দৃষ্টি যেনো প্রসারিত হয় এই প্রার্থনা মনে আমার। দেখা হলে কথা হলে গলাতে গলা মিশিয়ে আড্ডা হলেই যত্ন নেয়া বলে না— যত্ম একটি গোপন বাতাস যা দেহত্যাগ করা প্রিয় আত্মার মতো চারপাশে ঘুরঘুর করে অবিরাম অবিরত। 


৪৫


আগাছার সংখ্যা বেড়ে গেলে পশু মোটাতাজা হতে থাকে— মানুষের বাড়ে উপবাস!


৪৬


যা দিয়ে দেখছেন 'জগৎ মানুষ পৃথিবী' তাই মনে হবে— যা দেখছেন— তা, তা না!


৪৭


একটা সাপ জালে আটকে আছে— সেই সাপের আপনি উপকার করবেন। সেই সাপকে বাচাতে হবে। কারণ সেই সাপের অবদানও আপনার জীবনে আছে আপনার প্রকৃতিতে আছে। সাপকে বাচাতে গেলে সে আপনাকে ছোবল দিতে পারে। কারন আপনাকে অনুধাবন করার ক্ষমতা তার নেই। অথবা আপনার মতো মানুষ সাপের উপর এতো আক্রমণ করেছে যে সাপের কাছে মানুষের আরেক নাম আক্রমণ। 


কোনো প্রাণী আক্রমণ করে না নিজের প্রয়োজন ছাড়া— কোনো প্রাণী উপকার করে না নিজের প্রয়োজন ছাড়া! এই সমাজ এই সভ্যতা এই প্রকৃতি প্রয়োজনের সুতোয় বাঁধা এক ধারাবাহিক ধারা।


৪৮


নমরুদ অর্থ খোদাদ্রোহী— আর একটি অর্থ হলো বাঘিনী। আরব কিংবদন্তি অনুযায়ী নমরুদকে ছোটবেলায় এক বাঘিনী স্তন্যপান করায়— কথিত আছে ইডিপাসের মতো নমরুদ তার পিতাকে হত্যা করে নিজের মাকে বিয়ে করে।


নমরুদ যখন ইব্রাহিম নবীকে ধ্বংস করার জন্যে নিজের সমস্ত পরিকল্পনা নির্মাণ করছে তখন ছোট্ট একটি মশা নমরুদের বেচে থাকার পরিকল্পনা ধ্বংস করে দেয়।


মাই ডিয়ার পৃথিবীবাসী— নমরুদ এবং ইব্রাহিম নবীকে হিস্টোরিক্যাল ফ্যাক্ট ধরে মশাকে মেটাফর ভাবুন— হিসাব মিলে যাবে— চিন্তা করার হিসাব: কথা বলার হিসাব: কাজের হিসাব। 


৪৯


বড় জায়গায় বড় সমস্যা— হয়তোবা লুকায়িত। ছোট জায়গায় ছোট সমস্যা— হয়তোবা প্রকাশিত!


৫০


বাংলাদেশের গ্রামে আসলে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠিত হয়ে গ্যাছে— কেউ কাউরে বড় হতে দেয় না— টেনেটুনে হলেও নিচে নামায়— কেউ খাবে, কেউ খাবে না— তা হবে, তা হবে না।


৫১

তুমি আমার কি ক্ষতি করবে— আমি তো নিজেই আমার ক্ষতি করি! তুমি আমার কি উপকার করবে— তুমি তো তোমারই উপকার করে নিলে!!

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

ওথেলো নিয়ে কিছু কথা


“Yet she must die, else she’ll betray more men.

Nor scar that whiter skin of hers than snow.”


ভালোবাসা যখন সন্দেহে বিষাক্ত হয়— তখন ন্যায়ের ভাষাও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। ওথেলোর এই সংলাপে প্রেম, হিংসা আর আত্মপ্রবঞ্চনার ভয়াবহ সংঘর্ষ সক্রিয়— সে হত্যা করতে যাচ্ছে, তবু সৌন্দর্যে দাগ লাগাতে চায় না— তুষারের চেয়েও শুভ্র সুন্দর ডেসডিমোনার সৌন্দর্যে! শেকসপিয়ার দেখিয়েছেন,

সবচেয়ে বড় ক্ষতটি ত্বকে নয়— মানুষের বিবেকেই পড়ে।


সন্দেহ যখন জঙ্গল হয়ে ওঠে— তখন প্রশ্ন জাগে—কে ছিল পশু?দেসডিমোনা, নাকি ওথেলো নিজেই? ভুল বোঝাবুঝির জঙ্গলে ওথেলো বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিল— আর দেসডিমোনা হারিয়েছিল জীবন।


হয়তো পশু কেউ একজন ছিল না— পশু হয়ে উঠেছিল সেই সন্দেহটাই, যা ভালোবাসার পথ ভুলিয়ে দেয়।


"Nor scar that” is an example of elliptical structure where the auxiliary verb and subject are omitted. The full form would be “Nor will I scar that whiter skin of hers than snow.


Simile (উপমা)— whiter than snow. 

Symbolism (প্রতীক)— White skin → পবিত্রতা, নিষ্কলুষতা।

Scar → কলঙ্ক, পাপ, নৈতিক ক্ষতি। 


ওথেলো বলতে চায় যে সে ডেসডিমোনাকে হত্যা করলেও তার তুষারের মতো সাদা ত্বকে কোনো দাগ লাগাতে চায় না। এই সংলাপ ওথেলোর অন্তর্দ্বন্দ্ব ও তার ট্র্যাজিক মানসিকতা প্রকাশ করে— Tragic Irony (বেদনাময় বিদ্রূপ)। 


scar মানে দাগ বা চিহ্ন। scar যখন noun তখন তার অর্থ দাগ বা ক্ষতচিহ্ন। He has a scar on his hand— তার হাতে একটি দাগ আছে। scar যখন verb তখন তার অর্থ দাগ লাগানো / ক্ষত তৈরি করা— The accident scarred his face— দুর্ঘটনাটি তার মুখে দাগ ফেলে দিয়েছে। 


ওথেলো ডেসডিমোনার ঘরে ঢুকে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কাজটি এখনো করেনি— এই সময়েই ওথেলো নিজের সঙ্গে কথা বলছে (soliloquy) এবং বলে—


“Yet she must die, else she’ll betray more men.

Nor scar that whiter skin of hers than snow.”


ইয়াগোর কূটচাল বিশ্বাস করে ওথেলো মনে করে ডেসডিমোনা বিশ্বাসঘাতক। কথা সেটা না— কথা হলো প্রেম কিংবা ভালোবাসায় কিংবা বিশ্বাসে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি শক্তিশালী হলে প্রেম ভালোবাসা বিশ্বাস দুর্বল হয়ে যায় এমন না— প্রেম ভালোবাসা কিংবা বিশ্বাস দুর্বল ছিলো এমনটাই প্রমাণ করে।  ওথেলোর ভালোবাসা যে ডেসদিমনার ত্বকের প্রতি অগাধ ছিলো তাও কিন্তু তার নিজের সাথে নিজের কথোপকথনের স্রোতে ভেসে উঠে। ভেসে উঠে না পারস্পরিক বোঝাপড়ার স্রোতময়তা। পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে সম্পর্ক আছড়ে পড়ে যায় যাতনার ভাঙা সেতুতে যেটা শেকসপিয়ার ওথেলোর মনোক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর সামনে স্পষ্ট করে তুলেছেন।