রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

আশরাফুল মাখলুকাত

 — আসুন আমরা ধর্ম নিয়ে কথা বলি।


— তাহলে কি হবে?


— তাহলে টেবিল গরম থাকবে। টেবিলে খাবার সার্ভ না করলেও চলবে।


— আসুন অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র এই বিষয়ে কথা বলি।


— তাহলে কি হবে?


— তাহলে মানুষ ভাইরে নিয়া পইরা থাকবো— বাইরে কি দরকার, কি দরকার না— তা নিয়ে কোনো কথা হবে না।


— বাহ! আপনার মাথায় তো ব্যাপক বুদ্ধি!


— এইভাবে প্রসংশা করবেন। তাহলে প্রসংশা নির্ভর সোসাইটি নির্মাণ হবে এবং সোসাইটি একসময় নিন্দা বা সমালোচনা সহ্য করতে পারবে না।


— তাহলে কি হবে?


— তাহলে সমালোচনা করলেই গুম হবে, এ্যারেস্ট হবে, মারামারি হবে, রাষ্ট্র অস্থির হবে, জল ঘোলা হবে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে কতিপয় সুবিধারা।


— সুবিধারা ঘোলা জলে মাছ শিকার করলে কি হবে?


তাহলে যারা সুবিধা দেন তারা দিনে দিনে সুবিধাদের হাতে মারা পরবেন এবং একসময় সুবিধা প্রদানকারী যখন থাকবে না তখন সুবিধা গ্রহণকারী এবং গ্রহণকারী মারামারি করে শেষ হয়ে যাবে!


— তারপর? 

— তারপর মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত!?

১৪৩৩ বাংলা

মুন্নী আপার সঙ্গে আমার প্রথম আড্ডা— মাটি ক্যাফেতে। আজ। আজ শুক্রবার ১৪৩৩। আপা অসাধারণ লেখেন। অনেকের কাছে তিনি একজন প্রখর সাংবাদিক, কিন্তু আমার কাছে তিনি মূলত একজন লেখক। গল্প লিখেন, কবিতা লিখেন— আর তাঁর লেখায় ‘শিল্পের জন্য শিল্প’ তেমন গুরুত্ব পায় না; বরং জীবন আর ভাষার যাপনই সেখানে প্রধান হয়ে ওঠে।


শাহনাজ মুন্নী আপার কবিতায় আছে দৃশ্যায়নের ঝলক, সম্পর্কের এক সহজ, স্বচ্ছ প্রবাহ।


আমিন ভাইও আলাদা করে বলার মতো মানুষ— তিনি সুন্দরভাবে জীবনকে চর্চা করেন। তাঁর ভ্রমণসঙ্গ আমার ভীষণ ভালো লাগে। আমিন ভাই আর মুন্নী আপা ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন— এই যাত্রার সঙ্গেও যেন এক ধরনের গল্প জড়িয়ে আছে।

একবার এক দূতাবাসে মুন্নী আপা কবিতা পড়ছিলেন। আমি আর আমিন ভাই গিয়েছিলাম শ্রোতা হয়ে। কবিতা পাঠ বা আবৃত্তি  শেষ হওয়ার পর এক বিদেশি কবি বললেন, “একটা প্রেমের কবিতা পড়বেন?” মুন্নী আপা হেসে বললেন, “এতক্ষণ তো প্রেমের কবিতাই পড়লাম!”


তখন বুঝলাম— তাদের কাছে প্রেমের কবিতা মানে আরও খোলামেলা, আরও প্রকাশ্য কিছু। আমরা মজা পেয়েছিলাম— সেই মুহূর্তটা এখনো মনে আছে।


মেঘনা নদীর পাড়ে ছোট্ট একটা কফির দোকান—‘মাটি ক্যাফে’। উজ্জ্বল ভাই লন্ডন থেকে ফিরে এসে এটি গড়ে তুলেছেন। নরসিংদীতে যাত্রাবিরতির দিনে সেখানে জড়ো হলাম আমরা— মুন্নী আপা, সরকার আমিন ভাই, প্রথম আলোর নরসিংদী প্রতিনিধি প্রণব দা, আর আমি।


নীরব, নির্মল বাতাস আমাদের চুপ করে থাকতে দেয়নি— আমরা কথা বলেছি। সব আড্ডা মুখর হয় না— কিন্তু আজকের আড্ডাটা হয়েছিল।

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

ফুলবাহার

ফুল যখন ফুটতে চায়

ফুটতে দিও তাকে

রঙের ভেতর স্বপ্ন থাকে

গন্ধ লুকিয়ে ডাকে

কাঁটা হয়ে থেকো না আর মৃত্যুধরা হাতে

প্রতি শ্বাসে বেচে থাকো ঘাত-প্রতিঘাতে

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

জীবনের খালবিল

এক বছর আগের কথা। আমার চুল তখন বড়— ঝুটি বেঁধে রাখি। ভ্রমণে বের হয়েছি। কোনো এক গ্রাম এলাকায় ভ্রমণ করছি। রিকসাওয়ালা মামা খুবই মজার মানুষ। মামার সব কথা বেশ মজা লাগছিলো। রিকসা থেকে নেমে যাবো এমন সময় হঠাৎ করে তিনি মাটিতে শুয়ে গেলেন এবং আমার পায়ে চুম্বন করতে লাগলেন। আমি না সড়াতে পারছি পা, না সড়াতে পারছি রিকসাওয়ালা মামাকে। মানুষ জমে গ্যাছে। হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন! সে কি কান্না!  


অবশেষে উনাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে যাই। খাবার খেতে খেতে কাহিনি কী জানতে চাই।


— যখন আপনার কাছ থেকে ভাড়া নিতে যামু তখন আমার পীরের চেহারা ভাইসসা উঠছে আপনার মধ্যে। তারপর আমি কি করছি কিচ্ছু কইবাম পারুম না। 


মামা কইবাম না পারলেও, আমি ঠিকই কইবাম পারছি। পরের দিন সেলুনে গিয়ে সব চুলকে আল্লার রহমতে ইন্নালিল্লাহি করে দিছি।


আজকের ঘটনা। দুই হাজার ছাব্বিশ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকের ঘটনা। বাজারে যাচ্ছি। খাসির মাংস খেতে ইচ্ছে করছে— ঝালঝাল করে।  মাথায় টুপি।  হঠাৎ এক লোক— চিনি না জানি না— আমাকে দেখেই বুকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দেয়। ওরে দয়াল— একি অবস্থা। যাক, যেকোনো উপায়ে উনাকে নিয়ে চায়ের দোকানে যাই। চা খেতে খেতে কাহিনি কী জানতে চাই। 


— ভাই, গতকাল রাতে এক ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখি। গভীর এক গর্ত। গর্তে আগুন আর আগুন। আগুনে পড়ে যাচ্ছি। শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করছি। কিন্তু কোনোক্রমেই রক্ষা পাচ্ছি না— আগুনের দিকে যাচ্ছি তো যাচ্ছি। হঠাৎ একটি হাত আসে। এবং সেই হাত আমাকে রক্ষা করে। যে লোকটা আমাকে রক্ষা করে চেহারাটা হুবহু আপনার মতো। তাই আফনাকে দেখে আমার মাথা ঠিক রাখতে পারি নাই। আফনে মনে কিছু নিয়েন না ভাই। 


বাসায় আসি। বহুদিন নিজেরে আয়নায় দেখি নাই। আজকে দেখলাম। দেখি, চুল আবার বড় হয়ে গ্যাছে। টুপির নিচে বড় চুলে বেশ ভালো মানুষ  ভালো মানুষ একটা লুক আসছে।


গ্রাম এলাকায় একটা প্রবাদ আছে— আগে দর্শনধারী, পরে গুনবিচারী। আজকে থেকে প্রবাদ ঘুরে গেলো— আগে গুনবিচারী, পরে দর্শনধারী।