মুন্নী আপার সঙ্গে আমার প্রথম আড্ডা— মাটি ক্যাফেতে। আজ। আজ শুক্রবার ১৪৩৩। আপা অসাধারণ লেখেন। অনেকের কাছে তিনি একজন প্রখর সাংবাদিক, কিন্তু আমার কাছে তিনি মূলত একজন লেখক। গল্প লিখেন, কবিতা লিখেন— আর তাঁর লেখায় ‘শিল্পের জন্য শিল্প’ তেমন গুরুত্ব পায় না; বরং জীবন আর ভাষার যাপনই সেখানে প্রধান হয়ে ওঠে।
শাহনাজ মুন্নী আপার কবিতায় আছে দৃশ্যায়নের ঝলক, সম্পর্কের এক সহজ, স্বচ্ছ প্রবাহ।
আমিন ভাইও আলাদা করে বলার মতো মানুষ— তিনি সুন্দরভাবে জীবনকে চর্চা করেন। তাঁর ভ্রমণসঙ্গ আমার ভীষণ ভালো লাগে। আমিন ভাই আর মুন্নী আপা ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছেন— এই যাত্রার সঙ্গেও যেন এক ধরনের গল্প জড়িয়ে আছে।
একবার এক দূতাবাসে মুন্নী আপা কবিতা পড়ছিলেন। আমি আর আমিন ভাই গিয়েছিলাম শ্রোতা হয়ে। কবিতা পাঠ বা আবৃত্তি শেষ হওয়ার পর এক বিদেশি কবি বললেন, “একটা প্রেমের কবিতা পড়বেন?” মুন্নী আপা হেসে বললেন, “এতক্ষণ তো প্রেমের কবিতাই পড়লাম!”
তখন বুঝলাম— তাদের কাছে প্রেমের কবিতা মানে আরও খোলামেলা, আরও প্রকাশ্য কিছু। আমরা মজা পেয়েছিলাম— সেই মুহূর্তটা এখনো মনে আছে।
মেঘনা নদীর পাড়ে ছোট্ট একটা কফির দোকান—‘মাটি ক্যাফে’। উজ্জ্বল ভাই লন্ডন থেকে ফিরে এসে এটি গড়ে তুলেছেন। নরসিংদীতে যাত্রাবিরতির দিনে সেখানে জড়ো হলাম আমরা— মুন্নী আপা, সরকার আমিন ভাই, প্রথম আলোর নরসিংদী প্রতিনিধি প্রণব দা, আর আমি।
নীরব, নির্মল বাতাস আমাদের চুপ করে থাকতে দেয়নি— আমরা কথা বলেছি। সব আড্ডা মুখর হয় না— কিন্তু আজকের আড্ডাটা হয়েছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন