শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কন্যাসন্তান

দায় মানে কোনো কিছুর উপর অন্যের অধিকার। কন্যাসন্তান পিতা-মাতার কাছে এক প্রকার দায়। প্রতিটি কন্যাসন্তান দায় হয়ে জন্মগ্রহণ করে  যাহাদের শরীরে অদৃশ্যভাবে লেখা থাকে চাহিবার মাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবেন।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ডায়রি

এখন নিজের একটু প্রচার করবো, আত্মপ্রচারণা....

স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্র ঢাকার আবৃত্তি পরিবারে একটি পুরাতন ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। তারা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রযোজনা তৈরি করে থাকে।

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না
এই জল্লাদের উল্লাস মঞ্চ আমার দেশ না " এই শিরোনামে মাহাদী হাসানের নির্দেশনায় প্রায় দুই ঘণ্টা সময়কে সামনে রেখে একটি স্ক্রিপ্ট তৈরি করা হয়। তৈরি করা স্ক্রিপ্ট-এ আমার লেখা রংপুরে এক পাখি জন্মে " গানটি এবং তারানি সিরিজের কয়েকটি অংশ সংযুক্ত হয়। আমি তাতে বিশাল খুশি। আমার খুশি দেখে কে!

এখন আসি আসল কথায় ....

অনুষ্ঠান শেষে আমাকে মঞ্চে আহবান করা হলো। জানতে চাওয়া হলো আমার অনুভূতি।

আচ্ছা আপনারাই কন, আমার লেখা আবৃত্তি শিল্পীরা মুখস্থ করবে, আবৃত্তি করবে, আর আমি শুনবো,  আমি আনন্দে আনন্দে ফালা ফালা হয়ে যাওয়ার কথা না, আর যদি আনন্দে ফালা ফালা না অই তাইলে আমার মিছা ভাব নেয়া অইবো।

আমি যা কইছি ....

ছোট কালে দেখতাম আব্বা বাজার থেকে লাল শাক কিনে আনছে। টকটকে লাল শাক। আমার বোনেরা শাক বানাচ্ছে। ঠাকুরমা শাক কেটে কেটে আম্মার কাছে দিচ্ছে। আম্মা রান্না করে আমাকে খেতে ডাকছে। আর আমি লাল শাক পেয়ে মহা খুশি।
আমি জানি না আজ স্বরকল্পন পরিবার কার কাজটি করেছে-- আমার মায়ের?  আমার বাবার?  আমার বোনের? না আমার ঠাকুরমার!

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

স

সূর্য কি মেঘের প্রেমিক যার তাপে মেঘ ধীরে ধীরে নি:শেষ হয়ে যায়?

Is the cloud loveable beloved of the sun that amortizes the cloud slowly slowly? 

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

অন্ধ

অন্ধ ডাক্তার, অন্ধ কবিরাজ, অন্ধ ছাত্র, অন্ধ ব্যবসায়ী হতে পারে।
অন্ধ প্রেমিক?
অসম্ভব!
প্রেমিক হওয়ার জন্য উন্মুক্ত দুটি চোখ থাকা আবশ্যক। একটি চোখ হলেও চলবে না। কারণ প্রেমের মন্দিরে ডিসকাউন্ট চলে না। 

ভালোবাসতে গিয়ে

ভালোবাসতে গিয়ে মানুষ হয়ে ওঠি।
কোনো কালে মানুষ ছিলাম না।
মানুষের জন্য ঘর-সংসার, আদা-মরিচ, পেঁয়াজের ঘাটতি বাজার। বিশ্বায়নের মতো দৃষ্টিভঙ্গির বদল তোমাদের হতে পারে। আমার আপেল গাছের নিচে নিউটন বসা থাকে। কৃষ্ণের বাঁশি আমার ঠোঁটের অলঙ্কার। লিপজেল চামড়ায় আর নিরাপদ বোধ করি না। যে নিরাকার মানুষ আমার হৃদয় কামড়ে রাবার করেছিল তাহার সংবিধান গঙার স্রোতের মতো ভাসমান। আমি তো জলের নিচের এক ঝাঁক চিত্রকল্প স্রোতহীন ভাস্কর্যের মতো স্থির।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প

পরাজয় মানুষকে নিজের দিকে টেনে আনে আর জয় মানুষকে ভাসমান করে

মার্কেটিং

নগদে পন্য বিক্রি করা হলো পাঁচ হাজার টাকা এবং এর জন্য ভ্যাট ধার্য করা হলো পঞ্চাশ টাকা।

নগদান হিসাব ডেবিট
বিক্রয় হিসাব ক্রেডিট
ভ্যাট হিসাব ক্রেডিট

ভ্যাট হিসাবটি এখানে দায়। হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় দায় বৃদ্ধি ক্রেডিট। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের দায় বৃদ্ধি পেয়েছে তাই ভ্যাট হিসাবটি ক্রেডিট দেখানো হয়েছে।
হিসাববিজ্ঞানের এই সহজ হিসাবটিও জটিল করে বাংলাদেশের হিসাব বিজ্ঞানীরা। খুব গোপনে ভ্যাট হিসাবটি বিক্রয়ের সাথে এ্যাড করে ক্রেডিট দেখায় যার ফলে দায়টিও প্রতিষ্ঠানের আয় হিসাবে পরিগণিত হয়ে যায়।
আবার যিনি হিসাব বই অডিট করার জন্য আসেন তিনিও সন্তুষ্ট থাকেন যদি এমন এনকাউন্টার এন্ট্রি পাওয়া যায়। কারণ তাতেই তিনার পকেট ভারি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এমন আরো অনেক সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ।

এখানে টাকা উপার্জনের জন্য ব্যবসা করতে হয় না সব সময়। এতিমখানার নামেও ব্যবসা করা যায়। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কিন্তু লাভেমূলে গাদাগাদা।
প্রত্যেক পীরে কামেলের একটি এতিমখানা থাকে। ছদকার সমস্ত অর্থ, সরকারি অনুদান, বিদেশি অনুদানে এতিমখানার ফান্ড জমজমা। আবার মুরীদগনের বিশেষ অর্থদান তো আছেই। এতিমখানাতেও চলে হিসাবের কারচুপি। যে কর্ম দিবসে সরকারি লোক এতিমখানা পরিদর্শনে আসে সেই কর্ম দিবসে এতিমখানার এতিমদের সংখ্যা বেড়ে যায়। সরকারি পরিদর্শক যেনো এতিমখানার প্রতি বিশেষ নজর দেন সেই জন্য চলে বিশেষ অ্যাপায়ন। সরকারি লোক আল্লার বিশেষ বান্দাদের খেদমত বিশেষভাবে মনে রাখেন।

এইভাবে সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যদি সেবাখাত নামে কোনো খাত থাকে তবে সরকার সেবাখাতদারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কর কম নেন। কর কম দেয়ার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলে। কিন্তু সেবাখাতের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলে রমরমা ব্যবসা।

এইভাবেই বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীর নির্ভয়যোগ্য আশ্রয়স্থল।

ছোট কালে নিউজ পেপার নামে প্যারাগ্রাফ লিখতে হতো আমাদের। প্রশংসা বনাম প্রশংসা বাক্য দিয়ে আমরা শেষ করতাম নিউজ পেপার প্যারাগ্রাফ লেখা। আর আজকে দেখি নিউজ পেপার বের করা পরিপূর্ণ একটি মার্কেটিং প্লান। যেকোনো গ্রুপ অব কোম্পানির একটি জীবন্ত মিডিয়া থাকা আবশ্যক। কারণ তাতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরি হয়।

একদিনের কথা।

বাসে বসা। পাঞ্জাবি গায়ে, টুপি মাথায় এক দাড়িওয়ালা লোক বাসে ওঠলেন। ওঠেই তিনি মধুর কণ্ঠে সবাইকে সালাম দিলেন,

আল্লার পেয়ারা বান্দাদের একটু সুনজর কামনা করি। আল্লা ইনসানকে সৃষ্টি করেছেন ইনসানের  কল্যানের জন্য। ইনসানের কল্যানের চিন্তা যে ইনসান করে স্বয়ং আল্লা সেই ইনসানের জামিনদার হয়ে যান। মানুষের রোগ তিন হাজারেরও উপরে। ডাক্তার, বিজ্ঞানী আজও তা আবিষ্কার করতে পারে নাই। এই আল্লার আয়াত আপনাদের সমস্ত বালা মুছিবত দূর করে দিবে ইনশাল্লাহ।

তখনো লোকটির কথা কেউ শুনছে না। কারণ এমন কথা তারা অনেক শোনে থাকে। যখনি লোকটি বলে, আল্লার পেয়ারা বান্দারা এই আয়াতের জন্য কোনো প্রকার হাদিয়া দিতে হবে না তখনই সবার মনোযোগের দরজা সজাগ হয়ে গেল। তখন যাত্রীরা একে একে সবাই আল্লার আয়াত নিতে লাগলো। অনেকে আবার দুটি করে আল্লার আয়াত নিতে লাগলো।

এইখানে আয়াতের বরকত শেষ হতে পারতো কিন্তু হল না। কারণ হুজুরের অনেক ওয়াজ তখনো অসমাপ্ত। হুজুর আবার ওয়াজ শুরু করে --

আল্লাহতালার এই পবিত্র আয়াত একটি তাবিজের মধ্য দিয়ে ব্যবহার করতে হবে। তাবিজের মাল-মসলা হতে হবে রূপার এবং তামার। ঝমঝম কূপের পানির মধ্যে তাবিজটি তৈরি করার সাথে সাথে একদিন ডুবিয়ে রাখতে হবে, তারপর.... ।

খোদার কসম এইভাবে তাবিজ তৈরি করার পর যখন আল্লার এই পবিত্র আয়াত ব্যবহার করবেন তখন আপনার শরীরে মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো রোগ থাকবে না।
সবার প্রফুল্ল চেহারা তখন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।

তখন হুজুর আবার বলে চলল--

আপনাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমি নিজেই তাবিজ তৈরি করে এনেছি। তাবিজ তৈরি করতে আমার খরচ হয়েছে চল্লিশ টাকা। আপনাদের জন্য মাত্র বিশ টাকা, বিশ টাকা। এই পোশাকের ভেতরে যদি কোনো মানুষ থেকে থাকে কসম খোদার মৃত্যু ব্যতীত আপনাদের অন্য কোনো রোগ থাকবে না।

তখন প্রত্যেক ফাও-খাওয়া-সদস্য একটি করে তাবিজ নিতে বাধ্য। আর হুজুর তার ব্যবসা চমৎকারভাবে করে চলে গেলেন।
এইভাবেই বাংলাদেশ, বাংলাদেশের বিজনেস প্লান, বাংলাদেশের মার্কেটিং প্লান ( Marketing is nothing but a cheating where minimum input and maximum output is the main warble)।