চামড়া মাংসের পোশাকে
বেড়েছে যত জ্বালা
মনে তাই প্রেমের খরা
চোখে বিলাসি মালা
চামড়া মাংসের পোশাকে
বেড়েছে যত জ্বালা
মনে তাই প্রেমের খরা
চোখে বিলাসি মালা
আমার শরীরে জ্বর
তোমার মনেতে ডর
লোকে যেনো না বলে
তুমি আর আমি পর
এই যে ফুল ❀
বসে আছো পাতার তলে
চোখ দুটি বন্ধ করে
হাসো আবার উঠো নড়ে
কার ভাবনাঝড়ে?
ফেলে আসা দিন?
নাকি আসন্ন সময় অসীম?
ভালো লাগে দেখতে— ভাবো কিংবা কাদো
হাসো কিংবা রাগো
এই যে ফুল ❀
বসে একা পাতার ঘরে
হলুদ জামা গতর জুড়ে
চোখ দুটি বন্ধ করে
তোমার মন কার বাতাসে নড়ে?
মনসময়ে ডুবে যাওয়া আকাশ?
নাকি চোখে লাগা খুব সকালে প্রথম প্রেমের বাতাস?
ভালো লাগে দেখতে— নীরব কিংবা সরব
কিংবা জলভাসা তোমার কলরব
তুমি না থাকলেও এই আমি রাজা
তুমি ছিলে না তবুও মা আমার রেখেছে নাম রেজা
প্রিয়তমা আমার সবুজবীথি নিশিযাপন ওগো
আমাকে ফুলবাবু নয়— ফুটবল ভেবে
হেড মেরে পৌছে দিতে চাও গোলপোস্টে
দর্শকের হাততালি তোমাকে কনফিউজড করে
পরাজিত হও তুমি কৃষ্ণচূড়ার ফুলপাতা ছলে
আলো নয় বাতাস নয় আরও আরও মনোযোগ দরকার
ফুটবল যতটা গোল ততটা গোল নয় আমি
মানসিক সঞ্চয়
বিকালের হলুদ আলো
হঠাৎ সন্ধ্যা
বিকালের হলুদ আলো থেকে হঠাৎ সন্ধ্যা হয়ে গেলে
গোলকধাঁধা মেঘ ☁ বৃষ্টি ছেড়ে বাচে
জোয়ারে যা আসে ভাটায় তা ভেসে যায়
মাঠ ভিজে
ভিজে গেলে মাঠ পরে থাকে মার্জিত ঘাস গোলপোস্ট
ফুলপাতা শাড়ি লিপিবদ্ধ ঠোঁট বৃষ্টিজলে ভিজে গেলো
আমায় নিয়ে ঘরে ফিরো ফুলবাবু নয়— ফুটবল ভেবে
পা থেকে মাথা
মাথা থেকে পা
মাঝে মাঝে বুকে— তাও আশ্রিত মাটির গাছমতো নয়
গোলপোস্টে পৌঁছে দিতে পারলে সর্বার্থ জনম তোমার
সেইজন্য আমি প্রস্তুত— মূলত প্রস্তুত করা হয়েছে
তোমার পা থেকে যে ভাষা আমার দিকে তেড়ে আসে—
তাই আমার নিয়তি
তোমার মাথা থেকে যে কথা আমায় শেখানো হয়—
তাই আমার কর্ম
তোমার বুকে আমার জন্যে যতটুকু গন্ধ ফুটে—
তাই আমার প্রশান্তি
মাঝে মাঝে কেবল রাত নামে
অন্ধকারে চোখ বিছানা পাতলেও হাটা যায় না
হাটতে যে মনালো লাগে
লাগে আরও আরও মনোযোগ ক্যাফে
ফুটবল জানে—
তার দাড়ি চুল কথা চলে তোমার অন্তত ইচ্ছা লাফে
আশা নদীর পাড়ে বসে লিখি জীবনকথা
কৃষক আমি ফসল তুলে জয় করি সব ব্যথা
আষাঢ় শ্রাবণ বর্ষা আমার
জলজোয়ারে থাকি
কষ্ট পেলে মনের কথা গপ্পেসপ্পে আকি
তোমরা যারা কৃষক কেটে বানাও রাতের সুখ
শাষণ তাপে সূর্য গলে ভাঙে আমার বুক
মদের গ্লাসে মিছিল মিলন চলে এসিশোক
শ্রমিক আমি ঘামে কথা মর্মে আমার দুক
তোমার চোখে গাধা আমি মূল্যহীন এক লোক
ষড়ঋতুর কালেও আমি ফসলঋতুর মানুষ
তোমরা যারা উঁচু গলায় বাজাও পুতুল সুর
নও কৃষ্ণ
তোমরা আসল দুর্যোধনের হুশ
বেচে থাকলে বাচাও কৃষক বাচতে আমি চাই
রাজা হবে কর্মে কৃষক ভেদাভেদ তার নাই
বনফুলের একটি গল্প পড়লাম। রাত অনেক। দুইটা বাজে। বৃষ্টি তার আয়োজন করছে পৃথিবীতে নেমে আসার। আজকে সারাদিন দারুণ বৃষ্টি ছিলো। ও! একটি কথা বলা হয়নি— আজকের ইদের দিন। আজকে না ঠিক। ঠিক করে বললে গতকাল ইদের দিন ছিলো। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে মানুষ পশুকে রান্নার উপযোগী করে তুলেছে। টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে আমার মন আনন্দে নাচতে থাকে। সরকার আমিন ভাই সুন্দর করে বলেন একটি কথা— বৃষ্টি সৃষ্টির মদ!
বনফুলের যে গল্পটা পড়ি তার নাম "হিসাব"— পদ্মাবতী যার ডাকনাম পদি, রামচরণ, গল্পকথক 'হিসাব' গল্পের রক্তপ্রবাহ।
পদ্মাবতী দেখতে বেশ সুন্দর কিন্তু আর্থিকভাবে নির্ভরশীল। গল্পকথক পদিকে বলেছেন 'গরিবের মেয়ে'— ফলে পাড়াপড়শির ফরমাশ শুনাও পদির অনিবার্য কাজ। গল্পটা পদির বিয়ে হওয়া নাহওয়ার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।
গল্পে রামচরণ বিবাহিত পুরুষ— বেশ জাদরেল লোক— হাজারখানেক অথবা হাজার দেড়েক টাকা পাইনে পায় রাজসরকারের কোষাগার থেকে— চার ছেলে চার মেয়ে তার— আহারে! পরিবার পরিকল্পনা ছিল না তার জীবনে— অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাবাও পৃথিবীতে অধিক সন্তান আনার পক্ষে ছিলেন— ফলে বন্যাজলের মতো এই ভূখণ্ডে জনসংখ্যার প্লাবন বয়ে গেলো। আরেকটি কথা— রামচরণ পদ্মাবতীকে বিয়ে করে— রামচরনের সন্তানদের মা মারা যাওয়াতে রাম বাবুর এমন প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন।
আজ কিন্তু ১৫ আষাঢ় ১৪৩০। সকালে সূর্য দেখা যাওয়া মাত্র ১৬ আষাঢ় ১৪৩০ হয়ে যাবে। আষাঢ়-শ্রাবণ আসলে বাংলার কৃষকের আরাম করার মাস। আমি সেই অর্থে কৃষক না— তবে কৃষকের নাতি,কৃষকের সন্তান। ভালো করে বৃষ্টি পড়া শুরু হলে ঘুমটা দারুণ হতো— ইশ! বৃষ্টি আর ঘুম দারুণ ইয়ামি ইয়ামি ব্যাপার।
পদির বিয়ে হবে এমনটা আশা করিনি কেউ— কেউ আশা না করলেও আইসক্রিম গলে— তবে পদ্মাবতী কেনো ট্রেনের সাজানো কামড়ায় বসে অজ্ঞান হয়ে গেলো তা বিজ্ঞান বলতে পারে না। বিজ্ঞান যখন দুই আর দুই চার করবার চেষ্টায় ছিলেন তখন পদ্মাবতী ছোট্ট একটা মাদুলি পরে সেরে গেল হঠাৎ। ঘুমানোর আগে একটি গান মনে এসে গেলো—
ও মোর বানিয়া বন্ধু রে
একটা তাবিজ বানাইয়া দে।
একটা মাদুলি বানাইয়া দে।
ওরে মরিয়া গিয়াছে
বিয়ার সোয়ামী স্বপনে আইসে।।
খরগোশের মতো জোছনা সুন্দর বিড়ালের বাচ্চাটা এক লাফে আমার পাশে এসে বসলো এবং আমার চোখে চোখ রেখে বললো— মেও!