শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১৮

শয়তান সেদিন পড়ার টেবিলে বসেছিল

বাড়ি থেকে আমি কখনো পালাই নাই। যেহেতু আমি আমার গ্রামের একমাত্র শয়তান ছিলাম সেহেতু বাড়িপালানো আমার জন্য প্রায় স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু এই স্বাভাবিক ব্যাপারটা আমার হয় নাই।

এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার আগে আমি ঢাকাই গেছি মাত্র দুইবার। তাও আব্বার লগে।

একবার বাড়ি থেকে পালানোর উদ্দেশে আমি আর আমার বন্ধু জসীম আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আসি। কারো প্রতি রাগ করে বা কেউ আমাকে শাষন করেছে  এমন কোনো বিষয় ছিল না। কারন একটাই নায়ক হবো।

আমি ত ক্লাস টু থেকে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখি। তাই নায়ক হওয়ার বাসনাটা তখন মাথায় ঝেঁকে বসে। সিনেমায় নায়কেরা দেখতাম ছোট কালে পরিবার থেকে হারাইয়া যায় অথবা পরিবার থেকে পলাইয়া দূরে কোথাও চলে যায়।

আশুগঞ্জে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি। আমার বয়স তখন নয়। ট্রেন সিনেমাতে দেখেছি কিন্তু সরাসরি দেখি নাই। প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পরিকল্পনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি চায়ের দোকানে কাজ করবো। কারন আমার সেই ছোট্ট বয়সের অধিকাংশ নায়কেরা ছোট বয়সে চায়ের দোকানে অথবা ডে লেবারের কাজ করে।

দাঁড়িয়ে আছি প্লাটফর্মে, হঠাৎ দেখি সাইক্লোনের মতো একটা ট্রেন আইতাছে আমাদের দিকে। মাগো, সেই কী মহা গতি! ট্রেনের সেই গতি আর গর্জন দেখে এক দৌঁড়ে প্লাটফর্ম থেকে নেমে বাড়ির দিকে যাত্রা করি। বাড়িতে গিয়ে গোসল করে সুন্দর করে পড়ার টেবিলে বসি। পরিবারের সবাই অবাক "শয়তান পড়ার টেবিলে"।

ভাগ্যিস শয়তান সেদিন পড়ার টেবিলে বসেছিল নয়তো সে এতোদিনে পৃথিবী বিখ্যাত নায়ক হয়ে যেতো!

বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৮

বর্ডার হাট

মধুগ্রাম। ফেনী জেলার একটি গ্রাম। মধুগ্রামের পাশেই প্রতি মঙ্গলবার সীমান্তহাট বসে।

বাংলাদেশ তেল সাবান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের খাবারসামগ্রী কিনে। ভারত কিনে মাছ। বাংলাদেশের খাবারসামগ্রীর উপর ভারতের আগ্রহ নেই বললেই চলে। বর্ডার হাটের গেইট দিয়ে ইচ্ছা করলেই বাংলাদেশে ঢুকতে পারে ভারত।

ইউনুস বর্ডার হাটে চা বিক্রি করে। ভারতের শ্রীনগর তার বাড়ি। শ্রীনগর বর্ডার হাট তথা ছাগলনাইয়ার পাশের গ্রাম। ছাগলনাইয়া বাংলাদেশে, শ্রীনগর ভারতে। ইউনুস প্রায় পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া তার মামার বাড়ি ময়মনসিংহ বেড়াতে আসে। বাংলাদেশ কিন্তু ইচ্ছা করলেই বর্ডার হাটের গেইট দিয়ে ঢুকতে পারবে না ভারতে। কারন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট আইনপন্থী।

এই সীমান্তহাটটি আবার মিলন মেলা হিসাবেও কাজ করে। এপার ওপার আত্মীয়দের মিলন মেলা। কাঁটাতার দিয়ে স্পষ্ট চলমান মানুষ দেখা যাচ্ছিল রাস্তায়-- সাইকেল চালাচ্ছে। আর এই পাশ তথা বাংলাদেশের চলমান রাস্তায় চলছে বাইক। কাঁটাতার কত শক্তিশালী-- একজনকে বাইক চালাতে সহযোগিতা করছে, আরেকজনকে পরিবেশ বান্ধব সাইকেল চালাতে সহযোগিতা করছে।

সনাতন। বাচ্চা ছেলে। বয়স পাঁচ। সে তার মাসির সাথে বর্ডার গেইট দিয়ে ভারত ঢুকে যেতে চায়। বিএসএফ বাঁধা দেয়। সনাতন কান্নাকাটি করে। তাতেও বিএসএফের মন টলে না। সনাতন চিৎকার করে হাট কাঁপিয়ে তুলে। কিন্তু বিএসএফের মন কাঁপে না। কারন। সনাতন জানে না তার শিশুমনের সরল আকুতির চেয়ে কাঁটাতার অনেক শক্তিশালী কিন্তু বিএসএফ ঠিকই জানে!

মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১৮

মৌমিত্র

কবির ছায়া হলে কায়া পেয়ে যাবে মৌমিত্র
এই শহর অনেক বছর ধরে মারা যাচ্ছে
এই শহর শুদ্ধতার স্লোগানে আগরবাতি জ্বেলে জ্বেলে ভুল করে
এই শহরে কিছু মুখ হুবহু মানুষের মতো কিন্তু তারা মানুষ নয়
কবির কলমের চোখ মানুষ চিনে, কবির কলম তোমাকে নদীপথের কাব্যজোয়ার দেখাবে মৌমিত্র

রাত হলেই যারা ঘুমাতে যায়, রাত হলেই যারা সুপারিশ নামায় সই করে, রাত হলেই যারা শিয়াল বনে যায়-- কবি তাদের শব্দ দিয়ে চিনে, মৌমিত্র তুমি কবির সাথে থাকো, কবির শব্দের সাথে থাকো

দিনের পাখায় কোলাহল
রাতের ঘরে জল নেই
বাতাসে সেটেলাইট ভীড়

তাহলে কবিকে কোথায় পাবে?

কবিকে পাবে সবুজ পাতার শিরা উপশিরায়, কবিকে পাবে খুব গহীনে শব্দের বাজারে ভাবের টঙে

কবি কখনো মারা যায় না, কবিকে নখের আদর দাও, কবিকে নদী চিনতে দাও, চিনতে দাও নদীর জোয়ার নদীর ভাটা।

কবি তোমাকে মারবে না মৌমিত্র, কবি বন্টনে সিকিপয়সা বেশি নিবে না, কবি তোমাকে বাঁচতে শিখাবে, কবি তোমার ছায়া নিয়ে দোকান বসাবে না মৌমিত্র, তোমার ছায়ায় জীবন দিবে, তোমার ছায়া কায়া হয়ে মানুষের মিছিলে যাবে, সেই সব মানুষের মিছিলে যাদের মুখে রোদের কড়া ঘ্রান, যাদের হাতে শ্রমের অনিবার্য ফোস্কাছাপ।

মৌমিত্র, কবির অভিশাপে পৃথিবীতে দুর্যোগ নামে, তুমি হাঁটতে পারবে না, তোমাদের পোষা বিড়াল হাঁটতে পারবে না, তোমাদের সাহিত্য সভা হাঁটতে পারবে না।

তোমার হাঁটা খুব দরকার মৌমিত্র, তুমি হাঁটলে অনেক বাতাস বয়ে যায় নিরলে নিরলে, অনেক শান্তির বাতাস, অনেক শান্তির বাতাস, শান্তি, বাতাস, শান্তি, বাতাস, শান্তি শান্তি।

এখনি তোমাকে বসতে বলব না মৌমিত্র, বিশ্রামের চেয়ে শরীরের ঘাম অনেক কার্যকরী, মৌমিত্র সূর্যপথে হাঁটতে থাকো আর কবিকে একটু নখের আদর দিও, ঠোঁটের আদর দিও, মনের আদর দিও, চোখের খুব কাছে এসে তোমার দৃষ্টির চারা রোপন করে দিও মৌমিত্র আমার, চোখের খুব কাছে এসে হৃদয়ের আকাশে পাখি হয়ে উড়ো।

গভীর রাত হলে মনে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের সুতীব্র আচুংকা আচুংকা শব্দ কবির কানে আসতে থাকে, কবির তখন কিচ্ছু ভালো লাগে না, কিচ্ছু না। কবি তখন আকাশের দিকে তাকায়, মাটির দিকে তাকায়, গাছের দিকে তাকায়, বাতাসের প্রবাহ উপলব্ধি করতে চায় কিন্তু কবি তখন পথহারা পাখির মতো কাকে যেন হারিয়ে কাকে যেন খুঁজতে থাকে হামাগুড়ি দিয়ে কায়মনোবাক্যে।

কেউ না জানলেও আমি জানি কবি তখন কাকে খুঁজে। কবি একমাত্র তোমাকে খুঁজে মৌমিত্র, একমাত্র তোমার ছায়ায় কবি প্রানমোহনা নির্মান করবে বলেই অনেক অনেক ঔষধি সকাল নষ্ট করে প্রত্যাশায়।

তুমি কবির সূর্য মৌমিত্র। মৌমিত্র তুমি কবির সেই সূর্য হও যা কবির পৃথিবীতে সুন্দর একটা ভোর নামায়, নামায় একটা সুন্দর ফুটফুটে সকাল।

মানুষ

মানুষ থাকে মানুষ জনে
নয়তো ডানে নয়তো বামে

দানব

দানবের সাথে যুদ্ধ করার সময় অবশ্যই দানবের মতো চিন্তা করতে হবে, তবে দানব না হয়ে ওঠার ব্যাপারটাই মনুষ্যত্ব

সোমবার, ২৬ মার্চ, ২০১৮

চন্দ্রনাথ মন্দির

চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার সময় টের পাইনি তা ভূমি থেকে শত শত ফুট উপরে। উপর থেকে যখন নিচের দিকে তাকাই তখন টের পাই অনেক উপরে চলে আসলাম আমরা। আসলে লক্ষ্য যখন অত্যন্ত দৃঢ় হয় তখন দূরত্ব কোনো ফ্যাক্ট না।

মন্দিরের দিকে যাত্রা শুরুর বিশ মিনিট পর আমার মনে হয়েছিল চলে আসলাম। কিন্তু না মন্দির বহুত দূর হে। যাত্রা শুরুর চার ঘন্টা পর চন্দ্রনাথ মন্দিরে পৌঁছানো গেলো।

শক্তিপীঠের চেয়ে পাহাড়ের গতরে সজাগ গাছপালা ফুসফুসের অক্সিজেনের জন্য বেশ কার্যকরী টনিক অন্তত আমার কাছে। গাছের ভেতর দিয়ে পাহাড়, পাহাড়ের হৃদয় দিয়ে গাছ, ক্লান্তি আবার প্রশান্তি, প্রশান্তি আবার ক্লান্তি এমন বিষয় পাহাড়রমনেই সম্ভব।

পাহাড় থেকে ভূমিতে নামার সময় পায়ের নিজয়েন্ট থেকে বৃদ্ধা আঙ্গুল পর্যন্ত চিনচিন ব্যথাযুক্ত একধরনের টান অনুভব করতে হয়। মধ্যাকর্ষন শক্তি তখন পায়ে চলে আসে, মাথা তখন পাকে অনুসরন করে।

পাহাড়ে ওঠা আর ভূতের ভয়ের মধ্যে এক প্রকার সাদৃশ্য আছে। ভয় পেয়ে গেলে পাহাড় এবং ভূত কামড়ে মেরে ফেলতে চায়। ভয় না পেলে পাহাড় এবং ভূত চ্যালেঞ্জিং থ্রিলার।

আমাদের চার জনের টিমের সবচেয়ে প্রবীন মানুষ তিতাস ভাই। তাঁকে নিয়ে আমার ভয় ছিল। কারন পাহাড় জয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। ভয় কেটে যায় যখন তাঁর চেয়েও বয়স্ক মানুষ, বয়স্ক বলতে প্রায় বৃদ্ধ নারীপুরুষ শিবের ধ্যানে উচ্চতা জয় করে চলেছে চোখের সামনে। বিশ্বাস! আসলেই বিশ্বাস একটা শক্তিশালী ভাইরাস।

গুলিয়াখালীর সমুদ্রের গর্জন পাহাড়ের নির্জন শব্দের চেয়ে শক্তিশালী নহে। পাহাড় ইস পাহাড়। তবে গুলিয়াখালীর সমুদ্রে সন্ধ্যাযাপন হৃদয়ে এক ধরনের মহাজাগতিক আবেশ, প্রশান্তি ছিটিয়ে দিলো।

শনিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৮

আ কা শ

মাথার উপর কোনো আকাশ নেই, সবই চোখের প্রাচীর, আকাশ আছে এই কথা ভেবে মানুষ শান্তি পায়