শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০১৭

শান্তির মা অনেক আগেই মারা গ্যাছে

রাগ করতে ভালোবাসে, ভয় পেতে ভালোবাসে, হিংসা করতে ভালোবাসে, খেতে ভালোবাসে, ঘুমাতে ভালোবাসে। চিন্তা করতে অনেকটা কম ভালোবাসে মানুষ। মানুষ তো পারে তার ঘরে একটি ফ্রিজ কিনে আনতে, না, মানুষ কিনে আনে দেখানো দেখানো মনোভাব।

খুব সকাল হবে
খুব রাত হবে
খুব বিজ্ঞান হবে
খুব মিথ্যার মতো সত্যের চাষ হবে
নদীয়া যাবে সরলতার ঘরে আরও-- সরল চিরদিন সরল থাকিয়া যায়-- এখানেই জীবন।

আগুনের পরে ছাই, ছাই যদি পৃথিবী হবে তাহলে কেন এতদূর হাঁটাচলা! থামতে পারে পাখি যেকোনো দুপুরে, ডানার শান্তি পাখির ঘর।

শান্তি পেতে ভালোবাসে। শান্তির জন্য সুখ কিনে আনে রোজ। পত্রিকার পাতা বুর্তি সুখ, টিভির কালার বুর্তি  সুখ, বাথটাবে ফুল আর ফুল, ভুলে ভুলে সুখ। অনেক সুখ দেখে শান্তি পালায় পালায়।

তার ঘরে এখনো মরিচবাটার সাথে গরম নরম ভাত, ভালো কোনো তরকারি নেই বহুকাল। তবুও তাদের ঘরে বাতাস আসে, আবার তারা ঘেমে যায়, আবার বাতাস আসে, তারা কষ্ট পেতে পেতে কষ্ট পায়। তারাও ভালোবাসা চায়
আমিও ভালোবাসা চাই
খুনিও তো মানুষ ভালোবাসার ঘরে
ডাক্তার হলে রোগীর জন্য ঘৃনা অনেক দূরে থাকে, অনেক দূরে থাকে

কালাই গোবিন্দপুর

কালাই গোবিন্দপুর। নদী মাতা গ্রাম। অর্থনীতির চাকা নদী মাতার স্তন পান করে। এখানকার স্তন্যপায়ীরা সূর্যমুখী ফুলের মতো হাসে, মেঘনার জলের মতো স্বচ্ছ তাদের মন। কামে আর প্রেমে তাহাদের দিনযাপন। রোদের তাপে শরীরের ব্যক্তিগত চামড়া পর্যন্ত শীতকালের পাতার মতো মৃতপ্রায়। তবুও তারা বেঁচে থাকতে জানে নির্মম কঠিন সত্যের সাথে। তারাই মানুষ।

বেলাল নাকি খুব সুন্দর করে আযান দিতেন। সুন্দর করে আযান দেয়ার জন্য মিউজিক সেন্স থাকা লাগে। কারন আযানটা কন্ঠের ব্যাপার। হৃদয় কন্ঠের কাছাকাছি না আসলে মিউজিক দরিয়ায় ঢেউ ওঠে না, আর হৃদয়টা প্রকৃতির কাছাকাছি না থাকলে হৃদয়টা ঠিক হৃদয় হয়ে ওঠে না।

গোবিন্দপুর গ্রামে প্রকৃতি ভাড়া পাওয়া যায়, হৃদয় ভাড়া পাওয়া যায়। আমরা যারা আজকাল শহুরে মানুষ এসিরুম ভাড়া করার জন্য হাপিত্যেশ করতে থাকি তারা হয়তো মানুষ না, রোবটের অপভ্রংশ।  প্রকৃতি বিক্রি করে এসিরুম ভাড়া করার নাম নাকি আধুনিকতা। আধুনিকতা গ্রাস করে আধুনিকতা, আর প্রকৃতি একটানা সহোযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় প্রকৃতিপাড়ায়। 

অনেক অনেক অভিজ্ঞতা

মাথা ব্যথা পর বৃষ্টি নামে। আকাশ সমান মানুষের ঘরে দেখা দেয় মাতৃকালীন অসুখ। জড় পদার্থ হৃদয় প্রান খুঁজে হয়রান। মানুষের ঘরে মানুষ না থাকলেও চলে, হাতির বাচ্চা নদী ভালোই চিনে!অসুখ সারানো যায় না, যে যেমন আছে তেমনই থাকে, ভালো লাগা শুধু সমষ্টিতে, সৃষ্টিতে, আপন মনের গোপন বন্দনায়।

তারা প্রান খুঁজে ব্রিজে, প্রান খুঁজে ক্যাফেটেরিয়ায় লকলকে আয়নায়।যারা যারা তারা তারাই থাকে,
তারা তারা কখনো আমরা আমরা হয় না।

এইভাবে আমি আমরা হয়েও আমিই।  এইভাবে আমরা আমি হয়েও তারা। সমাজ এক জটিল ধাঁধা, প্রেমিকার মনেও কাদা আর কাদা।

বন্দনা শেষে প্রার্থনা হবে, শুকনামরিচ আগুনে যাবে, আইকন চোখে অন্ধকার নামলে রাখাল পাবে না কোনো প্রকার তরবারি সুখ। চরমতম বেদনা থাকলে কাজে লাগেই দালান কিংবা ব্রিজে-- তারা প্রান খুঁজে ব্রিজের ফুটপাতে। বন্দনা করার আগেও তো গান করা যায় এবং গান বন্দনার বহু বছর আগের কল্পকথা, গল্পকথা, জীবন ব্যবসা।

ব্যবসা হবে বলেই মোনাজাত ধরলেন আমগো ইমাম সাহেব। ব্যবসা ছাড়া প্রার্থনা করতেন যে নদী তাকে আমরা হত্যার করছি নিয়মমাফিক রোজ রোজ। ফাস্ট ফোডেস্ক তো আর প্রকৃতির রান্নাঘর চিনে না জনাব। আমাদের টিনের চালে বৃষ্টি হলে মেঘনায় আমিও বেড়াতে যাবো স্নানশখ বাসনায়। 

মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭

Nothing But

Sometime is very disturbing word, want to say the definite time. Definite time and man equally not found here I strongly believe. My belief proved in my experience. Past is everything, we live in the past, future is nothing and present is light afar. So we live in the past and past is history.

It is must to learn on past aureole. Past made us , our present. Parents past word is. We need a definite man who can say anything the truth straight approach either do or die. We have to forget the compromise chamber. Man is for all, man is the universe itself, nothing is alone in the project of the system. We can try to be alone on a wide wide sea but being lonely we have to fall in alone project that is a collective project. 

সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০১৭

সিমলা টু

চোখের পাতা আস্তে আস্তে নিভে আসে। লোকটি জানে সে ভুল করছে। তারপরও করে। অভ্যাস জনাব অভ্যাস। অভ্যাসের কারনে মানুষ খাবার খায়, প্রানি সঙ্গম করে, বাচ্চা উৎপাদন করে কতিপয় অনির্বান সেন। নকশাল কেবল খাবারের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে বলে আপনার মনে হতেই পারে। মনটা তো আপনার, মনের মুখোমুখি আপনি না হয়ে স্নো পাউডারও মাখতে পারেন। কিন্তু ততক্ষনে আমাদের শরীরের হাওয়া বদল হতে লাগলো। শরীরে শীত শীত ডাকাতের আক্রমন। ঘুম থেকে ওঠে দেখি কেউ আর ঘুমে নেই। আমিই ঘুমিয়ে আছি। দ্রুত নাকি রেডি হতে হবে। তারপর দিল্লী, তারপর চন্ডীঘর।

আমরা চন্ডীঘর নামবো। চন্ডীঘরে জনাব চন্ডাল আছে কিনা জানি না। অনেক কিছুই আমরা জানি না, তারপরও আমাদের মাস্তানি শেষ হয় না। শেভুকে মাস্তান মাস্তান লাগছে। ভদ্র মাস্তান। সব মাস্তানেরই ভেতরে একটা অসহায় ভাব থাকে। শেভুরও আছে তবে তা খুব গভীর চোখ দিয়ে দেখতে হয়।

পৃথিবী বড্ড বিদঘুটে জায়গা। সিস্টেমে চললে সিস্টেমবাজ, আতেল আবার একলা একলা কিংবা নিজের মতো থাকলে অসামাজিক, ক্ষেত ইত্যাদি গালি কপালে জুটে। মাঝামাঝি থাকলেও বলদ, বাঙালি সমাজে মধ্যবিত্ত তো এক বিশাল গালি।

আসল কথা কী জানেন তো, গালি না দিতে পারলে আমাদের পেটের ভাত হজম হয় না। গালি একটা দেয়াই লাগবে শালা। এই দেখো, আমিও গালি দিয়ে দিলাম। আসলেই বাজপাখি না খেলেও বাজপাখি পোষা বেশ আরামদায়ক এবং মানুষ এ কাজটি ভালোই পারে।

শেভু আমাকে ডাক দিলো। আমি গেলাম।

এই বল তুই, ভাই আসছে...

বল, বল

আমি কী বলবো? ফারিয়ার জবাব।

আমি বলি তাহলে।

ভাই, জানি আপনি অনেক বুদ্ধিমান, কিন্তু সে মজা নিতে পারে না, তাই ওর সাথে মজা করবেন না। (আমার চোখে চোখ রাখার চেষ্টা  কিন্তু ব্যর্থ)

ঠিক আছে ভাই, আমি বললাম।

আমি শেভুর দুর্বলতার জায়গাটি ধরতে পেরেছি। নদীর পাড়ের মানুষ ভাঙন স্বপ্ন দেখে, সৃষ্টির মাঝেও দেখে ধবংসের ইতিকথা-- এমনটাই স্বাভাবিক।

পরে ওদের সাথে কোনো কথাই বলেনি। ফলে ফল হয়েছিল অন্যরকম। অন্যরকম ফল আবার আমাকেই মীমাংসা করতে হয়। কারন গ্রুপের কেউ ওদের পক্ষে ছিল না।

চন্ডীঘর তাহলে আরও এক ঘন্টার পথ। সব কিছু গোছাতে কিছু সময় লাগলো। তাতে কী, মনে বিশাল আনন্দ! জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছি। সবার মনে আনন্দ। শীত বাড়তেই লাগলো। ব্যাগ থেকে শীতের কাপড় খুলে নিলাম। পলওয়েল মার্কেট থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে কেনা শীতের কাপড়টা আমার কোনো কাজেই লাগেনি সেই অর্থে। বাংলাদেশে শীতকাল যেন সাইবেরিয়ায় বেরাতে গ্যাছে। কারন তেল মাথায় তেল দেয়ার স্বভাব শীতের কেন থাকবে না? থাকতেই পারে। শীতের কাপড়টি পড়ে নিলাম। বাহ! দুই হাজার টাকায় কেনা শীতের কাপড়ের ক্ষমতা অস্বীকার করেও শীত শরীরে কুসুম কুসুম আক্রমন করছে। এখুনি নেমে যেতে হবে।

ট্রেন আস্তে আস্তে থামছে। অবশেষে ট্রেন থামলো। আমরা এক টন আনন্দ নিয়ে চন্ডীঘর স্টেশনে নামলাম। চমৎকার স্টেশন। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর জেল হাজতের সামনের জায়গাটিকে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়াম। চন্ডীঘর স্টেশন আসলেই সুন্দর। ভোর রাতের এই সময়টাতে আরও সুন্দর লাগছে। নীরব সুন্দর। প্রার্থনারত আমার নানিকে যেমন সুন্দর লাগতো তেমন সুন্দর। কষ্ট পেয়েছি যখন দেখলাম অনেক ভিক্ষুক এখানে ঘুমাচ্ছে।

আবার ভাবলাম এটাই সুন্দরের ক্ষত। যখন কোনো দেশ উন্নতির দিকে যেতে থাকে তখন তার ক্ষত থাকবেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ।

সবাই ট্রলি নিয়ে শাঁ শাঁ করে যাচ্ছে। দৃশ্যটি চমৎকার। সবাই সবার দায়িত্বে। আমাদের সবার দায়িত্বে শ্রাবন ভাই। আমরা তাকে অনুসরন করছি। যাবো কিন্তু সিমলায়। ট্রলি চলছে। কেমন একটা ট্রেনিং ট্রেনিং ভাব। টুরিস্ট বাস আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা বাসে ওঠে গেলাম। বাস চলছে। তখনো পৃথিবীতে সূর্য আসে নি। কিন্তু ভোরের আলো পৃথিবীতে নেমে এসেছে। গোল গোল পাহাড়ি রাস্তা। ভূমি থেকে হাজার হাজার ফুট উপরে সিমলা। প্রায় পাঁচ ঘন্টা আমরা বাসে। মানুষ পারে। মানুষ সব পারে। এমন বিশাল বিশাল পাহাড়ের বুকে সে স্থাপন করেছে রাস্তা, বসিয়ে দিয়েছে বাড়ি, বসিয়ে দিয়েছে মর্ডান দাবা। মানুষ পারে, সব কিছু পারে।

বাসে নিজেকে বড় মাপের সাপ মনে হলো -- আঁকাবাঁকা আঁকাবাঁকা। আমাদের সাথে কিন্তু বাকা স্যার আছেন।

বাংলা বিভাগে আকা, বাকা, ফাকা নামে আমাদের তিনজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আছেন। পৃথিবীর কোথাও এমন থ্রি টেম্পলেট অনুপ্রাস সমেত শিক্ষক পাওয়া যাবে না। এটা বাংলাদেশেই সম্ভব এবং বাংলা বিভাগে।

আকা মানে আকতার কামাল, বাকা মানে বায়তুল্লাহ কাদেরী, ফাকা মানে ফাতেমা কাওছার। আকতার কামাল আপা চমৎকার রবীন্দ্রনাথ পড়ান, একশত পার্সেন্ট মনোযোগ দিয়ে তাঁর ক্লাসে বসে থাকতে হয়, কারন কোন সময় কোন গুরুত্বপূর্ন কথা আবার চলে যায়।

যখনই আমরা শাহ আবদুল করীমের কুল বাঁকা, গাঙ বাঁকা গানটা ধরেছি তখনই স্যার আমাদের দিকে মুচকি হাসিতে তাকান।  আমরা বিষয়টি খুব ইনজয় করি।

বড় মাপের সাপ মনে হয়েছে নিজেকে   কারন সাপ কখনো সোজা চলে না, পাহাড়ি রাস্তাও সোজা চলে না। তাহলে যুক্তিবিদ্যা বলছে সাপ আগে পাহাড়ি রাস্তা ছিল। পাহাড় কিন্তু পিচ্ছিলও বটে তবে শ্যাওলার মতো অত পিচ্ছিল না। জীবনটা যদি শ্যাওলার মতো পিচ্ছিল থাকতো তাহলে বরং ভালো হতো। তবে ভালোই আছি।

একটা বিষয় খুব করে নোটিশ করলাম, জলরমন ভেতরকে বাইরে টেনে আনে, আর পাহাড়বিহার  ভেতরকে আরও ভেতরমুখী করে তুলে। আমার কেন অত পিচ্ছিল হতে মন চায় তার জন্য অবশ্যই একখান বায়োলজিকেল রিদম জনিত কোনো ব্যাপার আছে।

কুফরি গিয়েছি বরফের জন্য। কুফরি থেকে ফাগু যেতে হয়। ফাগু মূলত বারফি এলাকা। ফাগুতে ঘোড়া দিয়ে যেতে হয়। প্রতিজন তিনশ টাকা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা-- ঘোড়া আস্তে আস্তে উপরে ওঠছে। ঘোড়াদের মেয়েদের মতো একটা সংসার সংসার মন আছে। তা ফাগু ওঠতে ওঠতে মনে হলো। ফাগুতে যখনই বরফ দেখলাম আমার মন আনন্দে নেচে ওঠলো। বারফি দেখে আমার মনে যেমন আনন্দ আসে তেমন কোনো আনন্দ আমার আসেনি যখন আমি সিমলার শেষ চূড়া হনুমানজির মন্দিরে ওঠেছিলাম। আমি বরং আরও চুপচাপ হয়ে যায়। তবে অন্যরকম আনন্দ পেয়েছি যখন আমার হাত থেকে হঠাৎ দেখি টুপিটা নাই।

টুপি কে নিল কে নিল?

বানর টুপিটা নিয়ে গেল।
এখন তাহলে কী করি?

যখনই পাশের দোকান থেকে বিশ টাকার খাবার কিনে দিলাম বানরটিকে তখুনি টুপিটা সুন্দর করে দিয়ে দিল সে।

সিমলার উপরতলার বানর আমাকে শিক্ষা দিল, নতুন এক শিক্ষা-- অধিকার কখনো কখনো আদায় করে নিতে হয়, অধিকার আদায় করে নিতে জানলেই ভালো থাকা যায়। আমি তো অধিকার আদায় করে নিতে জানি না। তারপরও তো ভালোই আছি।

হনুমানজির মন্দিরে ওঠতে ওঠতে আমি কিন্তু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কারন আমার শ্বাসপ্রশ্বাস প্রায় থেমে থেমে আসছে। এক মন বলছে নিচে নেমে যা রেজা, আরেক মন বলছে রেজা তোমার ক্ষমতা তুমি এতো সকালে ভুলে যাবা। দুই মন নিয়ে আমি পড়লাম মহা সংশয়ে। তারপর চোখ বন্ধ করলাম। শ্বাসপ্রশ্বাসের স্পষ্ট ডাক শুনতে পাচ্ছি, হার্টের কথা কান পেতে শুনতে পাচ্ছি। ভয় আরও বেড়ে গেলো।

ভয় চরম পর্যায়ে গেলে আমি আমার কাছে যাই। আমার কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি সাহস আর সাহস, যে সাহস আমাকে বলছে রেজা চালিয়ে যাও অভিযান, বিপদ বলে কিছু নেই, যেখানে থেমে যাবে জীবন, সেটাই নতুন এক স্টেশন। স্টেশন বদল হলে আরও এক নতুন জীবন, নতুন এক আস্তিক প্রেমের বাড়ি। চোখ খুলে মনে বিশাল সাহস পেলাম। ওঠতে লাগি হনুমানজির মন্দিরে। ওঠেও গেলাম। মন্দির দেখছি দেখছি, ভয়ে ভয়েও আছি, কারন যেকোন সময় বানর আক্রমন চালাতে পারে। হঠাৎ দেখি সে ওঠে এলো।

সে গাড়ি নিয়ে আসে। যাক একজন চেনা মানুষের সাথে পরিচয় হলো। অচেনা জায়গায় একটা চেনা ফুলও হৃদয়ে আশা জাগায়, আর সে তো ফুলের মতো সুন্দর মনের এক নারী-- নীহারিকা। তার সাথে মন্দিরের ভেতরে গেলাম, মন্দিরের প্রসাদ খেলাম। নীহারিকা খুব অল্প কথা বলে। অল্প কথায় আমার কাছে জানতে চাইলো অনেক কিছু। আমি ত আর হিন্দি ততটা ভালো পারি না, তারপরও অধিক কিছু বলার চেষ্টা করেছি। তারপর তারা চলে গেল তাদের পথে আমি আস্তে আস্তে চলে আসি আমার পথে। নীহারিকা আমাকে সিকিম যাওয়ার দাওয়াত দিয়েছে, আমিও যাবো হয়তো, হয়তো আমাদের আবার দেখা হবে, হয়তো কোনোদিনই আমাদের দেখা হবে না। দেখা আর অদেখার মাঝে বেঁচে থাকি আমরা-- আমাদের জীবন-- জীবন নিয়ে ভালোই আছি।

রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৭

স্বাধীনতা দিবস

পঁচিশ মার্চ কালো রাত হিসাবে ছোট কাল থেকে শুনে আসছি। রাত কালো হয় কীভাবে জানি না। অন্ধকার আর কালো এক কথা না। অনেক সময় দেখি মুখের আগে অনেকে কালো বিশেষন হিসাবে ব্যবহার করেন। কালো মুখ। আমাদের প্রভুরা শাদা কালারের। তাইতো প্রভুদের সরাসরি চেলা বা ভাব চেলারা কালোকে নেগেটিভ অর্থে ব্যবহার করে থাকেন।

পঁচিশ মার্চ রাতে ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন অংশে আক্রমন চালায় পূর্ব পাকিস্থানের রূহানি ভাই পশ্চিম পাকিস্থানের কতিপয় শাষকগোষ্ঠী। আবার বলছি কতিপয় শাষকগোষ্ঠী। যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবন মানে শাষকগোষ্ঠী কখনো জনগনের কথা শতভাগ মাথায় রাখতে পারে না অথবা পারতে চায় না। কিন্তু আমরা শুনেছিলাম সেই স্মরনীয় বক্তব্য "আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি এ দেশের মানুষের মুক্তি চাই"।

এ দেশের মানুষের মুক্তি বলতে অবশ্যই অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তির খোলা বাতায়নকে বুঝায়। মুক্তি কী পরিমানে আসলো এই প্রশ্নটা রাখার মানুষ এখনো আমার চোখের সামনে দেখি না।

স্বাধীনতা যুদ্ধে শিবপুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। অথচ আজকে মানে স্বাধীনতা দিবসে কোনো প্রকার উৎসব আনন্দ ভাব শিবপুরে নেই। শিবপুর কেন, বাংলাদেশের কোনো গ্রামে স্বাধীনতা দিবস শব্দটি তেমন করে ছড়ায়নি। স্কুল কলেজে হালকা জিকিরের মতো একটু নাচানাচি চলে কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের চেতনা কোথায় ....তখনো গ্রামের মানুষ জানে না ঢাকায় কী হচ্ছে, এখনো জানে না স্বাধীনতা দিবসের মানেটা কী দাঁড়ায়।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড গ্রাম।

আজকে আমরা কয়েকজন গ্রাম জিয়ারতে বের হয়েছি। জয়নগর চৌরাস্তায় কোনো এক চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে দেখলাম বাংলাদেশের পতাকাটা আকাশে উড়ছে....

শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০১৭

সিমলায়

তিনি শ্রমজীবী মানুষ। দিনে সাপ্লায়ার। রাতে ডিম বিক্রি করে। সংসার চালাতে তারপরও অনেক কষ্ট। কিন্তু সিমলার মাটি বাতাস তাকে হাসতে মানা করে না। খুব সহজ মিশুক তিনি। এতো রাতে কে ডিম কিনতে আসে এটা গভীর ভাবনার বিষয়। কারন রাত আটটার পর পাহাড়ি সিমলা খুব একা হয়ে যায়। নদীর পাড়ের মানুষের মতো এই কর্মকার কাকুর কলাগাছিয়া দৃষ্টি। খুব সবুজ। তাহলে বুঝতে পারি নদী আর পাহাড় সমানুপাতিক লেন্সের দৃষ্টি উৎপাদন করতে পারে।

কাকুর পাশেই আরেকজন ছিলেন যিনি কোনও প্রকার ছবি তুলতে রাজি না। মনিহারি দ্রব্যের ব্যবসা করেন। কেউ ছবি তুলতে অস্বীকার করলে আমার দুজনের কথা মাথায় আসে। একজন হলেন রুমী। রুমী মানে মাওলানা রুমী না। রুমী মানে আমগো জাহানারা ইমামের পুলা। জাহানারা ইমাম আমাদের জানিয়েছেন রুমী ছবি তুলতে এতো রাজি ছিলেন না, কারন সে বিপ্লবী, কারন সে মুক্তিযোদ্ধা। রুমীর সর্বনাম তিনি ব্যবহার করা আবশ্যক কিন্তু সে ব্যবহার করলে আপন আপন মনে বোধ করি।

আরেকজন হলেন আমার ডিজিএফআই ভাই। তার নাম বলতে মানা। তিনি আমার সাথে ছবি তুলেন এবং সাবধান বানী আমার কানে দিয়ে থাকেন আমি যেন কোনো প্রকার ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় আপলোড না করি। আমি তখন হাসি। আমার হাসিরও অতীব গোপন কারন আছে। তা চেগুয়েভারা বেঁচে থাকলে বুঝতে পারতেন। কারন সে বেশ ফটোহেছা লোক ছিল। আমাদের দ্রুত হোটেলে যাওয়া দরকার।

রাতে আমি আর সোহান বের হয়েছি। শেষ রাতে সিমলাকে একটু ভালো করে দেখা।শেষ রাত বলতে সিমলায় আজকেই আমাদের শেষ দিন। জুস খেলাম। বেশ টেস্টি। কোনো প্রকার ফরমালিন এখানকার ফলে থাকে না। দোকানদার ফরমালিন চিনেই না। আমগো দেশে ব্যবসাতে মাত্র পয়দা হইছে এমন লোকও ফরমালিননামার হাফেজ। দোকান বন্ধ হয়ে যাবে এমন সময় আমরা জুসের জন্য হামলা করি। দিতে চাইলেন না তারপরও কেন যেন দিলেন। আমরা জুস খাচ্ছি আর তারা দোকান পরিষ্কার করছে।

দেখছেন তারা কত পরিষ্কার সচেতন, ঘুমিয়ে যাবে কিন্তু দোকান পরিষ্কার করে ঘুমাবে।

আমিও বললাম তাইতো, প্রত্যেক সনাতনী অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করে অথচ মুসলমানদের ওয়াজে আছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ইমানের অঙ্গ, কুরানে আছে লা তাকরাবু ছালাতা ওয়া  আনতুম ছুগারা ...
মানে কী?
মানে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় যেন প্রার্থনার ধারে কাছে না যাওয়া হয়।

পরে দোকানদারের সাথে কথা বলে জানতে পারি সে মুসলমান। আমরা একটু অবাক হলাম। তারপরও মনে মনে বুঝতে পারলাম সামগ্রিক সমাজ নৌকা জীবনাচার সেখানে কেবলই পালের বাতাস।

আমাদের দ্রুত হোটেলে যেতে হবে। কারন আমাদের জন্য খাবার অপেক্ষা করছে। গরম গরম খাবার। জাপানিরা সব কিছু গরম খেতে পছন্দ করে। গরম পানিও জাপানিরা নিয়ম করে খায়। আমার দাদা জয়দর আলী দিনে একদুই বার গরম পানি খেত। কিন্তু সে জাপানি ছিল না। কিন্তু আয়ু পেয়েছিল জাপানিদের চেয়ে বেশি-- একশত ছয় বছর। দাদার সকাল বেলার খাবারে দই মানে চাক্কা দই ইজ মাস্ট, দুপুরের খাবারের পর গরম দুধ ইজ মাস্ট। আমার দাদির দুধও বেশ হৃষ্টপুষ্ট ছিল।

সোহান আমারে অহন আফনে অহন তুমি বলে ডাকে -- ভালোই লাগে।

চলো রেজা কিংফিশার কত জিগাই।

হুম চলো।

দোকানদার আমাদের সাথে হালকা মজা করলো -- ''এই সব পেপসি তো বাচ্চারা খায় ''।

হালাম্মার পুত এ কী কই! বাংলা গালি বুঝবে না। বারো পার্সেন্ট বৈধ এ্যালকোহল নাকি বাচ্চারা খায়।

চলো সোহান চলো চলো।

রাতের সিমলা যেন আকাশের তারা। জ্বলছে চলছে। মানুষদের সরলতার শেষ নেই। বিকাল বেলা যখন রিটজি ময়দানে দাঁড়িয়ে থাকি কিছুক্ষন তখন মনে জন্মের আগের মুহূর্তের কথা ভাসতে থাকে যেখানে বাতাস হয়ে বাতাসির সাথে ধ্বনিহীন ছাদের তলে সময়হীনতা যাপন করতাম।

হোটেলে এসে দেখি খাবার অলরেডি চালু হয়ে গ্যাছে। আমরাও খাবার খেতে বসে গেলাম।