মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আবার শান্তিনিকেতনে

লাইব্রেরি। লাইব্রেরির পাশে মেলার মাঠ। ভাষা ভবন। ভাষা ভবনের পাশে মেলার মাঠ। মেলার মাঠের কোনায় কোনায় তাদের আড্ডা। আড্ডায় বসে তারা বিলি করে দেশবিদেশের চরিত্রের সনদ পত্র। কে ভালো কে পাপী
কে পন্ডিত মশাই কে মাস্টার মশাই
কোন দাদার সাথে কোন দিদির টক কিংবা ঝাল সম্পর্ক তা এখানে বসে জানতে পারে বিশ্ব। অথবা ইহা শান্তিনিকেতনের ভাসমান নিউজরুম। এই নিউজরুমের কোনো প্রকার পরিবর্তন হয় না। প্রতিনিধি বদলায় কিন্তু নিধিরাম আচরন বদলায় না।
অধ্যাপক বাবু দুবছর আগে যেমন করে রাস্তা মেপে মেপে হাঁটাচলা করতেন, এখনো করেন, এখন শুধু তার চোখের নিচের আকাশে ফন একখান স্বপ্নের জন্ম হয়েছে, বাবা হলে প্রত্যেক পিতার এমন একখান ভাবধাম আসে।

অর্কিড বন্ধ হয়ে গ্যাছে। অর্কিডের আচরন নিয়ে শান্তিনিকেতনে মাস্তানি করছে আড্ডা। আড্ডায় জন্মদিনে লাল নীল হলুদ কালারের প্রেম খেলাধূলা করে, ভালোবাসা এক কোনে কথা বলতে আসে, অর্কিডের দিকে তাকিয়ে বিসসাস শব্দটি ঘৃনা করতে চায় মপর্না। বামতলার লোকেরা পায়ের আওয়াজ নিয়ে আড্ডায় বসে, তাদের ওয়াজ চলে তরু ছায়া মসী মাখা দিনখানি মেঘে ঢাকা বেলা থেকে বেলা।

রাস্তার পাশে ছিল বৌদির দোকান। দাদাকে ভালোবেসে দিদি পেতেছিল সংসার। ভালোবাসার ফলও এসেছিল পৃথিবীতে। ভালোবাসা পেয়ে পেয়ে ভালোবাসালোভী হয়ে ওঠে কেউ কেউ। বৌদি আরও ভালোবাসার লোভে চলে গেল চলে গেল অন্য কারো ঘরে। তাছাড়া গাছের নিচের সংসার আর কতদিন চলে, সংসার মানে ভাত, ভাতের সাথে তরকারি, আমিষ হলে আরও ভালো।

রতনপল্লী ভালো আছে। রাতে জমে দিবারাত্রির গল্প। বিদেশী এলাকা বলে কথা। নতুন নতুন খাবার নতুন নতুন মুখ। কথাবার্তা থালাবাসনে কানায় কানায় মাপজোখ। খুব সকালে রতনপল্লী যেন রতনের মতো অসহায়-- পালে বাতাস নিয়ে শিক্ষিত বাবু চলে যাচ্ছে পৃথিবীতে কে কাহার তত্ত্ববানী প্রচার করে।

পূর্বপল্লীর গেস্ট হাউজে এখন আর শিল্টু তাহে না। শিল্টুর হাসিতে তার হৃদয় দেখা যেতো। এখন সবাই যেন প্রফেশনাল হাসিতে কাস্টমার সন্তুষ্ট করতে চায়। দুইশত চব্বিশ নাম্বার রুমটা প্রায় বন্ধ থাকে। জানালায় চেয়ে চেয়ে  এখন আর কেউ সাইকেল চালানো কোনো গায়ত্রীর জন্য অপেক্ষা করে না। সময় এমনি করে আলকাতরার মতো গাঢ় হয়ে আসে, বসন্ত কখনো এক হৃদয়ে আসে না, বসন্তও পাহাড় সমতল মেনে চলে।

সৃজনী শিল্প গ্রামে বদল হয়েছে বাউল। বাতাস আগের মতোই আছে। কেবল দিক পরিবর্তন করেছে খানিকটা। বসার জায়গায় আগের মতো ঘাস জমে ধুলো জমে,জলের সুব্যবস্থার খবর এখন সবাই জানে। কিন্তু এখানে রবীন্দ্রনাথ নেই। তবুও যুগল প্রেমের স্রোত এখানে আছে, ইতিহাসও ছিল একদিন। পুকুরের জলে আর হাঁস হাসে না-- কিছু স্মৃতিছবি ভেসে ওঠে বারবার।

লাল মাটির শান্তিনিকেতন খুব সহজে কাছে টেনে নেয় আরামে আরামে, খুব সহজে দূরে ঠেলে দেয় বিরানে বিরানে।

পৃথিবীর সব কিছু ঘুরছে, লাল মাটিও একদিন ঘুরে যাবে বলহীন আবেগে। পৃথিবী ঘুরছে, লাল মাটি মিলিত হবে চকলেট মাটির সাথে। সাঁওতাল যারা জেনে যাবে তারা তারাও মানুষ .... 

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

এতটা

তিতাস একটি ট্রেনের নাম। ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া থেকে ঢাকা,ঢাকা থেকে ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া  তিতাস দৌড়ঝাঁপ করে।

রেজা তিতাস ট্রেনের যাত্রী। রেজা ট্রেনে ওঠা মানে একটি সাধারন ক্লেশে  ঘটনার কথা বলবেই। অর্থাৎ টিটির সাথে দেখা অথবা সুন্দরী কোনো নারী তার চোখে চোখ রেখেছে কিংবা ভাড়া না দিয়ে রেজা কেমন করে চকলেট মার্কা হাসি দিয়ে টিটিকে বিদায় করেছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। ঘটনা সত্য-- রেজা এমন আত্মরতি মুগ্ধতায় প্রায় ভোগে।

তিতাস একটি ট্রেনের নাম। কমলাপুর থেকে ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া পর্যন্ত তেইশ স্টেশন তার এলাকা। রেজা ভৈরব থেকে ট্রেনে ওঠেছে। যাবে নরসিংদী। গতকাল সে বাড়িতে ছিল। টানা পনেরো দিন ইন্ডিয়া জার্নির পর রেজার শরীরে হালকা পাতলা ক্লান্তি। কিন্তু রেজা তিতাস ট্রেনে কোনো সিট পাইনি। দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিনের মতো রেজার ট্রেন জার্নি বর্ননায় যিনি আসেন তিনি আসলেন। মানে টিটি আসল।

কোথায় যাবেন?

নরসিংদী।

ভাড়া কত?

টিটি লেমিনেট করা কাগজের ভাড়া লিস্টখানা দেখলেন।

পঁচিশ টাকা। আপনি কুড়ি টাকা দেন।
রেজা টিটির হাতে পঁচিশ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বললেন পাঁচ টাকা কম নিবেন কেন ...

টিটি হাসলেন। তারপর রেজার পীঠস্থান চাপরাইয়া বললেন এতোদিনে একজন মানুষ পাইলাম।

রেজা টিটির কথা শুনে খুব কষ্ট পেল। কারন টিটির চাকরিকালীন সময়ে একজনই মানুষ! অথচ হাজার হাজার মানুষ এই তিতাস ট্রেনে ভ্রমন করে প্রতিদিন!

রেজা তখন জানালার দিকে তাকায়। সবুজ গ্রাম দেখা যায়। তবুও রেজা মনে মনে পির পির করছে--

বাংলাদেশটা ভালো নেই
কিরা আর কিরা
কবিরাজ মশাই ঔষধ দিচ্ছে
গোলাপ জল আর জিরা

রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

সহৃদয়তা

পথ আমি চিনি না। কোনো পথ। কোনো পথে আমার বাড়িঘর নেই। এই যে এই পথটি। মানে বিনয় ভবনের রাস্তাটিকে চিনতে পারছি না। অথচ কত চেনা ছিল সে আমার, কত সুর ছিল তার আচরনে বিচরনে, শরীর ভর্তি ছিল তার নদী জল স্রোতের মাহফুজ-- জল পাখিদের কলরব। পথিক ভাঙা পথে আজ সে কাগজের ফুল-- অধরা গন্ধে অধিকারহীন ব্যাকুল।

কলেজ স্ট্রেটের চায়ের কাপে গরমের তেজ অথচ ধুপ নেই তেমন,নাগরিক কলকাতা এমনই হয় প্রিয়তমা-- তুমি তা জান না, তুমি তা জান না-- জিন্সের পেন্টাগ্রামে বিনয় ভবন হাঁটে না।

পথ আজ নীরব
গুসসা করে পথ হারাচ্ছে সময়ের যৌবন
পথ ভুলে যাচ্ছে তার নিজের পথিক

অবিরাম আয়োজন করে প্রিয়জনকে ভুলে থাকা যায়? যায় না। দহনকাল সময়ে অসময়ে দেখা দেয় অমাবস্যা কিংবা বর্ষাকালে-- প্রেমদহনে গ্যালে বর্ষার ঢল নামে হৃদয়ে বারবার-- মুক্তি নাই মুক্তি নাই-- বিনয় ভবনের রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসা তুমি জানে অপেক্ষার কাল-- গাছের পাতারা নালাপথে চলে যাবে যার যার ঘরে-- অন্ধকার হয়ে এলে মনের আলোয় পথ আমাদের ঠিকই চিনে-- হৃদয়তমা মপর্না আমার

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প.

ইন্ডিয়ান রেলওয়ে প্লাটফর্মের সিটগুলা বড় নির্মমভাবে একা, তাদের নীরবতার কোনো মুখ নেই 

নু

অনেক সুন্দর। অনেক সুন্দর আজ। জানালার ফাঁকে মায়াবী রোদ নামে। ফেনের মতো ঘন হয়ে আসে সুখ। ভ্রমনকালীন জীবন আমার সারারাত সারাদিন। একদিনের কথা মনে পড়ে। এক জোছনামাখা রাতের কথা মনে পড়ে। এক বিকেল শৈশবের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে না এই তো চোখের সামনের সাজুগুজু সময়ের কথা

কথাদের কোনো ব্যক্তিগত বিমান নেই
কথাদের কোনো ব্যক্তিগত আকাশ থাকে না
কথারে আমার সাইকেল চালায় কম খরচে ক্যালরিতেলে রাত বিরাইতে-- আকাশ থামে বৃষ্টি সকাল খুব প্রভাতে

মর্জিমাফিক ছায়ার পাশে রোদ ঘুমিয়ে যায়, গভীর হতে হতে পাতলা হয়ে আসে কতিপয় মরীচিকা

বিকেলে বিকেলে রাত
রাতে রাতে সকাল
সকালে সকালে দুপুর

অনেক সুন্দর আজ। অনেক সুন্দর মানুষের কাল। ভর্তার ঘ্রানে জিভে জল আসে, ছনের ঘরে আনন্দ কালে চলতে থাকে ছাইউৎসব। সবুজের পাশে নগর, বিলকুল জীবন-- বৈদ্যুতিক তারে জমা থাকে প্রিয়তমা সম্পর্ক, পাওয়ারে পাওয়ারে হিসাব নিকুচি মেঘলা আকাশ পাতাসহ ঘন, আপন হাতে একলা সিটে বসে থাকে মন। 

মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ভালো

তাজমহলের আশপাশ এলাকায় এক ইউরোপিয়ান রিকসা চালানোর চেষ্টা করছে।

কীভাবে?

যেভাবে জিমে সাইকেল প্রেকটিসের মধ্যে দিয়ে শরীরচর্চা করা হয় সেইভাবে।

অভ্যাস কিংবা মানসিক গঠন রিকসাকেও জিমসাইকেল হিসাবে ভাবায়.....