শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৫

গভীর রাত

গভীর রাত। গভীর অন্ধকার। গভীর নীরবতা। গভীর এক পোকা বিষ ঢালছে মাথা থেকে পা, পা থেকে মাথা। ট্যাব থেকে নেমে আসা জলের কলকল ধ্বনি জলবিষ হয়ে কামড়ে ধরছে বাতাসের আত্মা। একটু পর পর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উড়ে উড়ে আসছে ঘণ্টার ঢং ঢং শব্দ যেন পৃথিবীর প্রথম এবং শেষ শব্দদূষণ।

কুকুর ডাকছে শব্দের ভেতর। কুকুর ডাকছে দেহের ভেতর। ট্রেনের ঝকঝক ওয়াজ শরীর জাগিয়ে দিচ্ছে বারংবার।

সারাদিন দূরে ছিল দরজার দুটি অংশ। গভীর রাত তাদের মিলনের বৈধতা দিয়েছে। তবুও রেজা মরে জল পিপাসায় পাশে নিয়ে নদী মেঘনা! 

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৫

মা দিবস

কথাযুদ্ধের কাছে অনেকেই অসামান্য,অথচ হৃদয়ের কাছে তারা সামান্য কেরানি মাত্র। আম্মা তোমাকে ধন্যবাদ। অবশ্যই সম্পর্কের কাছে ধন্যবাদ কখনো জীবন রচনা করতে পারে না, ধন্যবাদ সম্পর্ক তৈরিতে সহায়তা করতে পারে মাত্র। আম্মা তুমি একটি পৃথিবী দিয়েছো, শিখিয়েছো পৃথিবীর সংবিধান। পৃথিবী, সংবিধান আর তোমার সামনে আমি সম্পূর্ণ নতুন এক অস্তিত্ব। আমার এই অস্তিত্বের নাম নাকি মানুষ।

আমার জন্ম তোমাকে মা বানালেও আমাকে সন্তান বানাতে পারেনি। কয়েকশতবার মা মা বলে ডাকলেই সন্তান হওয়া যায় না, সন্তান হতে গেলে মায়ের মতো হতে হয়, সৃজনশীল। সৃজনশীলতার সাথে যখন তেমন কোনো চরম ত্যাগ এসে জড়িত হয় তখন মা রচিত হয়ে থাকে, তখনই পৃথিবীতে নেমে আসে তেমন কোনো প্রিয় ডাক 'আম্মা'।

আম্মা, আজ মা দিবস। আজ তোমার এবং আমার বিদায় দিবস। আজই তোমাকে ছেড়ে আমি এই পৃথিবীতে নেমে আসি। আজ পৃথিবীর মানুষ বলেছিল আমি নাকি তোমাদের প্রতিনিধি। আম্মা তোমার পৃথিবী আমাকে রাখতে পারেনি। তাই মানুষের পৃথিবীতে এসে আমি তীব্র কণ্ঠে চিৎকার দিয়েছিলাম ওঁয়া ওঁয়াও ওঁয়া। মানুষ আমার ভাষা বোঝেনি। তাইতো আমি যখন আপন পৃথিবী হারানো ব্যথায় কাতরাচ্ছি মানুষ তখন আল্লাহকে মহান করার কাজে ব্যস্ত।
হায়রে পৃথিবী! হায়রে পৃথিবীর মানুষ!! কে বুঝে কার দুঃখ, কে বুঝবে চোখের জলে কেন শ্যাওলা পড়ে না!!!
আজ আমার জন্মদিন,
আজ তোমার জন্মদিন,
আজ আমার এবং তোমার জন্মদিন। আমি ডেকেছিলাম মা, আর তুমি পেয়েছিলে সন্তান।
আজ আম্মার আর আমার  অপূর্ব ঐকতান। 

এই জীবন তোমার আমার

আমাদের প্রথম পরিচয় কোনো এক সন্ধ্যায়। কোনো এক সন্ধ্যায় আম্রকুঞ্জের সুব্রত পাতার সঠিক নিচে। সোডিয়াম আলো মদনমোহন বেদনায় ডায়েরি লেখায় ব্যস্ত। আমাদের পেছনে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি। আমাদের সাথে ঝিঁঝিপোকার গ্রাম্য ডাকাডাকিও মাত্রাগত বায়না ধরে। তোমার চোখে সোনালি তাপ। আমার চোখে এক নদী বরফ। রবীন্দ্রনাথকে সাক্ষি রেখে তোমার চোখকে আমার চোখের বন্ধু করেছি।

তুমি বন্ধু চিকন কালা আমার নাইয়্যা ঢেউ
নৌকা চলে জলের তালে তুমি নৌকার ছেও

আম্রকুঞ্জের অসংখ্য নীরবতার মাঝে সরব কেবল দুটি প্রাণ। প্রাণে প্রাণে রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথের গান।
তোমার চোখের কাছে যেতে না যেতেই আরেকটি চোখ জাস্ট একটি দৃশ্য হয়ে আমার চোখের সামনে। সেই চোখটি নিথর কোমল। চোখটিতে সাইক্লোন, টর্নেডো নেই, কোনো এক অচেনা বসন্তকাল বিরাজ করে বারোমাস।

চোখটির সাথে পরিচয় আমার দুই বছর আগে। চোখওয়ালা মানুষটি চা-বিক্রেতা। সাধারণত দিনে এক-দুই কাপ চা খাই। তার কাছে গেলেই কাপের পর কাপ চা খেতে থাকি। চা খাওয়ার ছুঁতোয় তার চোখ দেখি। তার চোখে হেলেনকে দেখি, তার চোখে আমি লায়লিকে দেখি,
তার চোখে বনলতাকে দেখতাম।

একদিন চোখটি বিক্রি হয়ে যায়। দোকানে যাই তবে এক কাপ চা খাই। অনেক বার চোখটি খুঁজতাম, প্রত্যাশা আশা হিসাবেই থেকে যেতো, প্রাপ্তি কেবল শুন্যতায়।

ঠিক একদিন চোখটি আবার ফিরে আসে। আমিও আবার চা খেতে যাই সকাল-সন্ধ্যা। সেই চোখ আর এই চোখ এক না। আমার আর তার চোখের মাঝে একটি কিন্তুর দেয়াল গড়ে ওঠেছে খুব শক্ত করে।  জানি কাছে থাকার জন্য ভুল কখনো দেয়াল হয়ে থাকতে পারে না বরং দূরত্ব রচনা করার জন্য দেয়াল প্রতিষ্ঠা করা লাগে। তারপরও এই সমাজ, এই মূল্যবোধ ক্যানসারের মতো রক্তের, চিন্তার পরতে পরতে বিস্তার করে আছে।

এখন আমি চাইলেই চোখটিকে দেখতে পারি, চোরাদৃষ্টি বিনিয়োগ করতে হয় না, আজ কিন্তু চোখটি আমাকে একের অধিক কাপ চা খেতে বাধ্য করতে পারে না।

তারপর যখন পুরাতন দৃশ্যকে সনাতন  করে তোমার চোখের দিকে তাকালাম তখন তোমার পোষা সাইকেলের সামনের চাকার কথা মনে পড়লো, নিশ্চিত হলাম সামনের চাকাটি পেছনের চাকার বন্ধু -- একজনের ইচ্ছা ছাড়া আরেকজনের ইচ্ছা পরিপূর্ণ পঙ্গু। তোমার চোখের কাছে গেলাম, চোখে চোখ রেখে শপথ নিলাম এই জীবন তোমার আমার, এই জীবন আমার তোমার। 

বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৫

সরি এবং সরি

আজকে তোমাকে বললাম সরি। কালকে তুমি বলবে সরি। সরি এবং সরি। তুমি এবং আমি। আমাদের সরির নাম সম্পর্ক, আমাদের সরির নাম প্রেম, আমাদের সরির নাম আরো কয়েকটি রাতজাগা, ক্লাস ফাঁকি, উঠোনের প্রান্তে সময়ের কার্নিবাল।
তাহলে প্রিয় তাইতো ভালো
সরি এবং সরি বেঁচে থাক
আগুনের দেশে জলপ্রভাত 

সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৫

একটি রাত

একটি রাত একটি দীর্ঘ প্রতিক্ষার নাম
একটি রাত তোমার আমার পরিচয়ের নাম
একটি রাত কোনো এক মৃত্যুদিবসের নাম
একটি রাত আমাদের অভিমানের নাম
একটি রাত একটি ঘুমের নাম
ঘুম ঘুম চোখ, চোখে উলঙ্গ আগুন 

রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৫

গোল্লাছুট

ভালোবাসার গোল্লাছুট আর খেলি না
তোমার কথায় তবুও বন্ধু দাড়িগোফ আর ফেলি না 

চোখের ভেতর

চোখের ভেতর তারা আছে জেনেও আকাশের তারা এক আকাঙ্ক্ষার নাম