রবিবার, ৩১ মে, ২০১৫

লিখলে তবে

মেঘদূতের কথা আবারো স্মরণে আসলো। কালের চাহিদায় মেঘদূতের ভিবিন্ন ভার্সন আমরা পেয়েছি, আরও পেয়ে থাকবো। কিছুদিন নাকি পিরিতি গোপন রাখতে হয়। আমার কিছুদিন" শেষ হয় না। আমার মনে লালিত উপলব্ধি খুব ভাসমানভাবে অনেকেই বলে চলে, আমার ঈর্ষা হয় না।
তবে মাঝে মাঝে অসীম হৃদয়ের কথা ভাবি, যদি থাকত। একটি হৃদয় কেবল একটি ফুলের সবপাশে ঘুরপাক খায়, একটি ফুল হয়ে উঠে জীবন, পৃথিবী, প্রজাপতি। জীবনের একনিষ্ঠ অনুভূতিতে আমরা কত্ত সসীম!
সীমাবদ্ধতা অপরাধ নয়, অপরাধ তো তাই যা সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। সমাজ সীমাবদ্ধতা তৈরির মেশিন।
তবুও আমাকে চুপ থাকতে হয়, আমি নিজ থেকেই চুপ থাকি। 

শনিবার, ৩০ মে, ২০১৫

দূরে, বহুদূরে

আজ তুমি দূরে, অনেক দূরে, যতটুকু দূরে গেলে দিগন্তেরও একটা অর্থ দাঁড়ায়। আজ তুমি অনেক দূরে যতটুকু দূরে গেলে আমার কান্নাও কাব্যতে মানায়।সোনালু ফুলের মতো আমি হয়ত মাকাল,হয়ত রজনীগন্ধা চোখের ভেতর, মনের ভেতর, আড়ালের ভেতর আড়াল। তোমাদের চেনা পৃথিবী ডাকে না আমাকে। তারপরও পৃথিবীতে জন্ম আমার। ঝিনুকের খোলসের মতো আমি প্রতিদিন খুলে খুলে পড়ি তোমাদের চিরচেনা গন্ধ অনিন্দ্য নিন্দা।
কেমন আছে তোমাদের পৃথিবী যেখানে আমার সামাজিক হওয়ার কথা?
অসামাজিক অভ্যাসে আজ তুমি দূরে বহুদূরে যেখানে মেঘ আবেগ হয়ে ঝরে।
আমি ছোট হতে হতে ছোট্ট হয়ে যাই, হয়ে যাই দুর্বাঘাসের সবুজ যেখানে তুমি নগ্ন পায়ে হাঁটো। আরও কত ছোট হলে মাননীয়া তোমার মন নগ্ন ফুল হয়ে উঠবে আমার ঘ্রাণের কাছে, প্রাণের কাছে? আঁধার থেকে আধারের দূরত্ব জেনেও মানুষ হতে চাই, মানুষের কানাকড়ি আবেগ যদি বিবেকের কাজে লাগে তাহলে তুমি পথে এসো প্রাণ, পথে থেকো প্রাণ, আমার সুর পৌঁছে যাবে যেখানেই থাকো, যেভাবেই থাকো, যতদূর দীর্ঘ হোক তোমার ভ্রমণ-হাঁটার পথ। 

শুক্রবার, ২৯ মে, ২০১৫

বাবাজী

সবাই বলে বাবাজী অল্প খায়। আমিও তাই দেখি। কিন্তু বাবাজী না খেয়ে স্বাস্থ্য এতো ভালো রাখেন কীভাবে?  সারা শরীরে শুধু মাংস আর মাংস। টুল মাংস মিনিমাম আশি কেজি তো হবেই। অনেক ভক্তপ্রাণ মুরিদও বলে বাবাজীর খেতে হয় না। বেশি খেলে আত্মা মারা যায় এমন ওয়াজ বাবাজীও করেন। ধরেই নিয়েছি জান্নাতের সাথে বাবাজীর সরাসরি যোগাযোগ আছে। জান্নাতী খাবার অল্প হলেও হাই প্রোটিন সমৃদ্ধ। আল্লার ফেরেশতা নিশ্চয় খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন মেশায় না।

আমারও ফরমালিনমুক্ত খাবার খেতে তীব্র ইচ্ছা। তাই বাবাজীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করলাম। তাঁর সাথে সাতদিন ছিলাম। আমার শরীরের মাংস দুই কেজি বেড়েছে।

তাহলে কী বাবাজী আমার জন্যও জান্নাতের রেস্টুরেন্টে খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করেছিলেন?

অবশ্য, কেন নয়!

দয়াল বাবা কেবলা কাবা!

তবে দয়াল বাবার জান্নাতের নাম সাধারণ মানুষের বিশ্বাস। দয়াল বাবা সরল মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে শরীরের মাংস বাড়ায়, বাড়ি- ঘরের জৌলুস বৃদ্ধি করে।
বাবাজী প্রতিদিন একটি গ্রাম সফর করেন। একটি গ্রামে বাবাজীর ভক্ত কম হলেও দুইশত। গ্রামের যে গরীব মানুষটি তিন বেলা ভালো করে খেতে পারে না, সেই মানুষটিও বাবাজীকে খালি হাতে ফেরত দেয় না। হাদিয়া হিসাবে নুন্যতম একশ টাকা হলেও বাবাজীর এ্যাকাউন্টে জমা রাখে। বাবাজী লাগবোনা লাগবোনা করে অন্য ভক্তদের কান খাড়া করে। কোনো কোনো ভক্ত বাবাজীকে দেখামাত্র গরুর সরাসরি দুধ উষ্ণ গরম করে বাবাজীর সামনে হাজির করে, আবার কোনো ভক্ত কচি মোরগকের রুস্ট  প্রস্তুত করে। বাবাজী তখন মৃদু হাসে আর বলে,

``পাগল, এই পাগলরা জাহান্নামে গেলে আগুন নিইব্যা যাইবো।"

 বাবাজী ভক্তের বাড়ি থেকে দোয়া না করে চলে আসতে পারেন কিন্তু কারো হাদিয়া, খাবার গ্রহণ না করে আসতে পারেন  না। কারণ ভক্তদের বোঝানো হয়েছে
বাবাজী খুশি থাকলে নবীজী খুশি, আর নবীজী খুশি থাকলে আল্লা খুশি।
বাবার এই আধ্যাত্মিক কর্ম দেখার পর আমি আর খুশিচক্রে নিজেকে আবর্তিত রাখতে পারিনি। তাতে হয়তো আমার জন্য জাহান্নামে একটি আগুনের রুমও বরাদ্দ হয়ে গেছে। আমারে দিয়া জাহান্নামের ফেরেশতারা বারবিকিউ বানাবে আর বাবাজী হয়তো আমার জন্য প্রার্থনা করবেন না। কারণ আমি তো তার জন্য হাদিয়া কিংবা খাবার মজুদ রাখতে পারি নি।

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০১৫

হাসান

হাসান।
জিয়াহল বন্ধন মেসের ওয়েটার। তার মাসিক বেতন তিন হাজার টাকা। তিন হাজার টাকার মধ্যে দেড় হাজার টাকা সে মোবাইল ফোনে বিনিয়োগ করে। রাত এগারটার পর পর তার সহকর্মীরা ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু হাসানের চোখে ঘুম নেই। হাসানের কান গরম হয়ে যায়।  তবুও মন মোবাইল ছাড়তে চায় না। সারা রাত ফিস ফিস। কত কথা! মাথার নিচে বালিশ আছে কিনা, থাকলে বালিশের তুলা নরম কিনা -- এমন আরো, আরো গভীর গভীর কথা!

অকারণে ঝগড়া।
তখন হাসানের মন ভালো থাকে না। মন খারাপের সময়  ওয়েটার কিংবা মানুষ হাসানকে খুঁজে পাওয়া যায় না। হাসান তখন একেবারে অন্য রকম, বিদ্যুৎহীন বাল্বের মতন।

হঠাৎ হাসানের মুখে হাসি, হাসি দেখলেই বোঝা যায় আবহাওয়া স্বাভাবিক।

গত বৃহস্পতিবার ছিল সাত নাম্বার বিপদ সংকেত। প্রিয়ার গায়েহলুদঝড় হাজার মাইল বেগে হাসানের ভার্চুয়াল পৃথিবীর দিকে তেড়ে আসে। ঝড়ের আক্রমণে হাসান বিধ্বস্ত, মৃতপ্রায়।
শুক্রবারে হাসানের প্রিয়ার বিয়ে হয়। হাসান কাঁদে আর কাঁদে, তার চোখের নিচে জলের নালা, মনে প্রিয়হারা বেদনার কান্নার সুর। যে শরীর হাসানের অর্থভূমি সেই শরীরে প্রাণ নেই।

প্রাণহীন হাসান কতকাল সজীব জল ফেলবে?

হাসানও একদিন জেনে যাবে অনুরাগবিচ্ছেদে চোখের জল বিয়োগ করার চেয়ে ক্রিকেট খেলে ঘাম ঝরানো অনেক ভালো!

অভিশাপ

হৃদয়ের গভীরে একটি কুয়া আছে, গভীর এক কুয়া। কুয়াটি জলে পরিপূর্ণ। জলের মাঝে চাওয়া- পাওয়ার কুমির। কুমির হাত নাড়ে, পা নাড়ে। শরীরে দেখা দেয় জলের তুফান। চোখের নালা দিয়ে কিছু জল পৃথিবীতে পা ফেলে। জল পৃথিবীতে এসে নিরুপায়। সে জেনে যায় পৃথিবী ডোমদের বাস -- শুধু কাটে, কেবল কাটে আর তৈরি জরে ব্যবচ্ছেদ থিয়েটার। হৃদয়ের গভীরে একটি গভীর গিরিখাত। ভিসুভিয়াস লাভা পৃথিবীতে এসে জ্বালায়, পোড়ায়, পৃথিবী নতজানু, মেনে নিয়েছে তার অভিশাপ।

বুধবার, ২৭ মে, ২০১৫

শহর

ইট- পাথরের এই শহরে প্রকৃতি অসহায়
রাজত্ব করে চলে এসিবক্স
ছাদের খাঁচায় বন্দী একঝাঁক কাঠালিচাঁপা
উড়ো উড়ো তার মন সাইনবোর্ডের মতো নিথর একা
ইঞ্জিনকে দাস করে মাইক্রো ছুটে চলে
আর রিকসাচালক আনার এখনো এই শহরের দাস
আদিম সভ্য সমাজ তোমাকে জিন্দাবাদ
শহরের বিকালে কিছু কাক কানামাছি খেলে
চোখকে টেনে নিয়ে যায় গ্রামের সূর্যান্ধ বাঁশঝাড়ে
কেবল কাকের খেলায় গ্রাম দেখে মুগ্ধ চোরা মাঠের শিশু
ডাবের জলে নিরাপদবোধ করে মরুপ্রাণ মানুষ
তবুও মানুষ শহর বানায়
শহর আর মানুষ, মানুষ আর মৃত্যু ভাই ভাই
কানে- মুখে চলে তারা, তারা শুধু ধবংস সাজায় 

ধূলামলিন

পথধূলার মানুষ আমি ধূলাগায়ে হাঁটি
জংলার কিছু লতা পাইয়্যা ঘর বানাইয়া থাকি
সরিষাফুলের স্বপ্ন আমার আন্দার রাইতে জাগে
স্বপ্নগুলো রঙ্গিন লাতা বেনলাইতে ডাকে
আমার মনের স্বপ্নখোকা সকালে চেয়ে দেখে
ধূলাগায়ের মানুষ সকল স্বপ্নখোকা আঁকে