শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৫

প্রেমিকমন

প্রেম করাটা সবার সাজে
প্রেমিক হওয়া নয়,    বোকা মন
প্রেমিক হওয়া নয়
প্রেমেতে ফাঁকি চলে
প্রেমিকমনে নয়।।

পদ্মপাতার জল টলমল
নদীর জলে গতি কোমল
প্রেমের জলে মন উচাটন
প্রেমিকমন জানে ।।


কথা ও সুর : এমরানুর রেজা
3112015

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৫

God

God knows what is the power of devil
God
Please carry on your hatred over me
When your hatred will die on me
I will mix then up with soil 

স্বরসতী

আকাশ।
আজ কত দূরে।
অথচ একদিন এই আকাশ হাতের কাছে ছিল। তখন আজকের মতো এতো মানুষ ছিলনা। মানুষ বলতে কেবল আমাদের পরিবার। ঠাকুরমা ছিল আমাদের পরিবারের সবচেয়ে লম্বা মানুষ। ঠাকুরমার রাগও ছিল খুবই বেশি। তাঁর একটি সুন্দর বদভ্যাস ছিল। আর তা হল খুব সকালে ঘুম থেকে উঠা, আমাদেরকে উঠানো। একদিন সকালে তিনি উঠোন ঝাড়ু দেয়ার কাজে ব্যস্ত। ঐ দিন আকাশটা কেন যেন আরো একটু নিচে নেমে আসে । ঠাকুরমা যখন সোজা হয়ে দাঁড়ায়  তখনই আকাশের সাথে ধাক্কা খায়। ঠাকুরমা খুব বিরক্ত হচ্ছিল। ইয়া আলী বলে আকাশকে দিলেন এক ঝাড়ুমাধ্যম।

আকাশ আবার যথেষ্ট ব্যক্তিত্ববান। খুব লজ্জ্বা পেল। আকাশ সিদ্ধান্ত নিল আর না, আর পৃথিবীর মানুষের কাছাকাছি থাকা যাবেনা। পৃথিবীর মানুষ হাতের কাছের মূল্যবান কিছু মূল্যায়ন করতে জানেনা। দূরের তুচ্ছ কিছু নিয়ে রাতকে দিন বানাতে পারে।
যেই কথা সেই কাজ। আকাশ দূরে চলে যায়। একেবারে চোখের সীমানা ছাড়িয়ে।

আকাশের খোঁজে পাখি উড়ে।
পাখি হয়তো আকাশ খোঁজে। পাখির আকাশে মেঘ উড়ে। মেঘেরাও আকাশ খোঁজে পায়না। আকাশকে ছোঁয়ার কত শখ আমার। কেবল আকাশকে স্পর্শ করার জন্য পাখি হতে চাই, মনে মনে গান ধরি --

এমন যদি হতো
আমি পাখির মতো
উড়ে উড়ে বেড়াই সারাক্ষণ

হায় ভগবান! একদিন সকালে পাখি হয়ে উড়তে থাকি। বাতাসে উড়া আর জলে সাঁতার কাটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে জল নিচের  দিকে টানে না, বাতাসে ভাসমান থাকা যায়না। পৃথিবীর মানুষের শরীরে চুম্বক আছে, তার দিকে  টানতে থাকে কেবল।

আমার সাথে আরেকটি পাখি উড়ে । মেয়ে পাখি। তার নাম স্বরসতী। তার কোমড়ের বাঁক যেন কামনার নদী। অধর যেন গভীর গাঙ আর আমি যেন গাংচিল। দুজন দুজনের খুব কাছাকাছি । তার মনের দেখা পাই আমার মনের আয়নায়। আমার শরীর আর তার শরীর বহুদিন জিরো ডিগ্রিতে অবস্থান করে। বহুদিন মিশন পজিশনে তার সাথে আমি।  তার শরীরের অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া আমার শরীরে আস্তানা গাড়ে। তার দেহপালিত জীবাণু আমার শরীরের এসে পরিণত ভাইরাস, বিদেশী ভাইরাস। বিদেশী ভাইরাস আমার রোগ প্রতিরোধ সেলে আক্রমণ করে। হ্রাস পাই প্রতিরোধ ক্ষমতা। পাখি অবস্থাতেই আমার মৃত্যু হয়।

আমার আর আকাশ ছোঁয়া হলনা!

অনেক শতাব্দীর পর ....

পৃথিবীতে আমার বন্ধুর সংখ্যা অনেক কম। অনেক কম বন্ধুর মাঝে সুপ্রিয় একজন। বাড়ি শ্রীরামপুর, হুগলী । তার বাড়িতে আমার নেমন্তন্ন ।নিদিষ্ট সময়ে তার বাড়িতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও পৌঁছাতে পারি নাই। তার বাড়িতে যখন উপস্থিত হয় তখন  সন্ধ্যা ছয়টা। হুগলীর সন্ধ্যা অনেকটা ভাঙ্গা ভাঙ্গা, অনেকটা বিধবা নারীর মানসিক অবয়বের মতো। বন্ধুটির বাড়িতে উৎসবের কোলাহল। পূজার উৎসব। সুপ্রিয়ের বাড়িতেই পূজামণ্ডপ।
আজ নাকি স্বরসতী পূজা!
স্বরসতী নামটা শুনতেই আমার বুকের ভেতরে একটি বজ্রপাতের শব্দ শুনি!
এ কোন স্বরসতী?
আমি যখন রেগে যাই কিংবা অবাক হয়ে যাই তখন কোনো কথা বলিনা, বলতে পারিনা।
স্বরসতী? নামটি আমাকে অবাক করেছে। ধীরে ধীরে পূজামণ্ডপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সাধুদৃষ্টির মদনতাড়নায় স্বরসতীর দিকে তাকালাম। আমার শরীরের রক্ত যেন টগবগিয়ে দৌঁড়াবে এমন, কথা বুঝি থেমে গেল। স্বরসতীর ভরা যৌবন আমাকে আদিম অন্ধকারে দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সে এতক্ষণ এক নজরে তাকিয়ে ছিল আমারই খোঁজে হয়তো। তাকে পরিপূর্ণ চিনতে আমার  আধটুকু সমস্যা হয়। কারণ তার ছিল প্রাকৃতিক সাজ, আজ অনেক কৃত্রিম সাজ তার অঙ্গে। আমাকে চিনতে তার এতটুকু স্মৃতিভ্রম হয়নি।

নতুবা কেন সে আমার দিকে ছুটে আসবে সংসারত্যাগী প্রেমিকার মতো?

আমাকে জড়িয়ে ধরে সে পৃথিবীর কান্নাকে এক করে ফেলে। এই কান্নার শব্দ নেই, অর্থ আছে।

আমাদের দিকে চেয়ে আছে সুপ্রিয়, চেয়ে আছে স্বরসতী-পূজামণ্ডপের ভক্তপ্রাণ। আমরা চেয়ে আছি আকাশের দিকে, অভিমানে  যে আকাশ  আজ অনেক দূরে!

বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৫

কার্বনকপি

একটা সময় সুখের সন্ধান করতাম। সুখের সন্ধান করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ক্লান্ত শরীরে ছায়ার দিকে দৃষ্টি পড়ে। প্রথমবারের মতো আমারই কার্বনকপির দেখা পাই। অবাক হয়ে দেখি ছায়া আমার ক্লান্ত হয়না। আমার ফটোকপি আমাকে অনুসরণ  করলেও আমার ক্লান্তিকে অনুসরণ করেনা।
আমি থেকে ছায়া কিন্তু  ছায়া থেকে আমি হয়না। ছায়া নাচতে জানে, নাচাইতে জানেনা।
এইভাবে, আরো অনেক উপায়ে আমি আর ছায়া এক তবে আলাদা।
এখন প্রতিদিন আমাকে খুড়ি, আমাকে খুঁজি। অসংখ্য আমির দেখা পাই। আমার ভেতরে একটি ব্লাকহোল, একটি জান্নাতুল ফেরদাউস, একটি হাবিয়া।
কোথায় , কোন পথে যাবো?
ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। তাই খোঁজাখুঁজির ব্যবসা বাদ। এখন কেবল ছায়া হওয়ার পালা। 

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৫

নিরীহ

যে মানুষ কাউকে আঘাত করে কথা বলে না,  সবার চোখে সেই মানুষটি নিরীহ;
যে মানুষ ত্যাগ করতে জানে,  সমাজের চোখে সেই মানুষটি বোকা। নিরীহ আর বোকা মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে ; তাইতো বেড়ে যাচ্ছে শিয়ালের লেজকাটা নীতি, এজিদের নিজভোগী বেড়াজাল।

Simple man is he in every man's eye  who does not say anything in hard line. Who can sacrifice in confidence is a  master piece foolish in the eye of society . But it is a matter of concern that day by day the simple  as well as foolish decreasing in a whole. And for the complexity in inner and on outer enhanced gradually.

সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৫

পুরুষের গন্ধ

আজ গোধূলী পার্লারে থাকবে না। থাকবে না এমন নয়, থাকার মতো অবস্থা নেই। গোধূলী বাসায় যেতে চায় কিন্তু আজকের জন্য বাসায় যেতে মানা।

গোধূলী পার্লারের ছোট্ট একটি কামড়ায় থাকে। চিকন একটি বেড। বেডের সাথে আয়না। রাত যত গভীর হয় আয়নাটা তত স্বচ্ছ হতে থাকে। স্বচ্ছ আয়নায় অতীতের লোমহর্ষক স্মৃতি ভাসতে থাকে অবিরাম। অতীতের স্মৃতি গোধূলীকে ভয়ার্ত করে তোলে। অতীত মানে জীবন্ত স্মৃতির মৃত কবর। রাত গভীর হলেই গোধূলী কবরে শুয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। চোখের জল গড়িয়ে পড়ে চিন্তাকে স্যাঁতস্যাঁতে করে দেয়। আয়নায় চোখের জল,  কিছু ভাবী হতাশা, হাহাকারকে  জমা করে একসময় ঘুম আসে গোধূলীর পৃথিবীতে।

সখিনা বেগম। গোধূলীর মা। আরজ আলী। গোধূলীর বাবা। আরজ আলী গোধূলীকে তালাক দিয়েছে গোধূলী যখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী। গোধূলীর মা একজন সাংবিধানিক সঙ বেছে নিয়েছে ; বাবাও। সখিনা বেগমের খোঁজ- খবর নেয়ার মতো বন্ধু অনেক। সখিনা বেগমের বর্তমান স্বামী এস, আই। চাকরির প্রয়োজনে ছয় দিনই বাড়ির বাইরের থাকে । ছয়দিনই গোধূলী বাসাতে থাকতে পারে । কিন্তু সে থাকে না। যদিও সে দিনে বাসাতে যায়, রাতে তার দম বন্ধ হয়ে আসে, মানসিক দম। রাতের বাসাটি বেশ আরামদায়ক, বাসযোগ্য। আরামদায়ক বাসযোগ্য বাসাটিতে গোধূলী পুরুষের গন্ধ খুঁজে পায়। রাতেই তা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে, হতে হতে গোধূলীর শরীরের এসে ধাক্কা লাগে  ; যে ধাক্কা সে সহ্য করতে পারেনা, মেনে নিতে পারে না, অমান্য করার সাহস তার নেই।

ইতি, মিলি, সাথি পার্লারের স্টাফ। তাদের কাজ শুরু হয় সকাল দশটায়, শেষ হয় রাত আটটায়। মাঝেমধ্যে গোধূলীকে তাদের কাজে সহায়তা করতে হয়। এমনিতে গোধূলী এ্যাকাউন্টের দায়িত্বে । রাত দশটার পর সে তাদের জীবনের গল্প শুনে। তারা গল্পের শুরু করে কিন্তু শেষ করতে পারেনা। কারণ শেষ পর্বটি তাদেরও জানা নেই, জানানো হয়নি। অসমাপ্ত গল্প শুনে সে  কবরের মতো রুমটিতে চলে যায়, আয়নার সাথে কথা বলে। কিন্তু আজ সে পার্লারে থাকবে না। ইতি, মিলি, সাথির শরীরের পুরুষের কাচা গন্ধ। এই গন্ধ তাকে অস্থির করে তুলছে।

সে যাবে কোথায়?
শহরটিতে জায়গার অভাব নেই, মানসিক স্বস্তি পাওয়ার মতো জায়গা বড়ই অভাব!

গোধূলীর তখন পাঁচতলার আন্টির কথা মনে পড়ে। সাবিহা আন্টি। তিনি মায়ের ভাষায় কথা বলেন। স্নেহভরা কণ্ঠ। বিনয়ের রসে টল টল। তিনি প্রায় বলেন,

" মা, তোমার কাকু শুক্রবারে শুধু বাসায় আসে, সরকারি কাজ, ছুটি পাইনা, পার্লারে তোমার ভালো না লাগলে, সোজা আন্টির বাসায় চলে এসো।"

আজ গোধূলী আন্টির বাসায় যায়। আন্টির বাসায় কড়া নাড়ে। আন্টি দরজা খুলে।

" মা এসেছো, আসো "

আন্টির চারটে রুম। গেস্ট রুমের পাশের রুম থেকে একটি লোক বেরিয়ে আসে। আন্টির বয় ফ্রেন্ড। গোধূলীর চোখের দিকে লোকটি তাকায়। গোধূলী তার চোখে চোখ রাখার সাহস পায়না। গোধূলী একবার মায়ের বাসার দিকে তাকায়, একবার পার্লারের দিকে তাকায়, আরেকবার আন্টির দিকে তাকায়। সবখানে সে একই গন্ধ অনুভব করে, পুরুষের গন্ধ।

গোধূলী ছাদে চলে যায়। কম্বল মুড়িয়ে বসে থাকে। সে এক কোণে একটি ছায়া দেখতে পায়। পুরুষের ছায়া। যে পুরুষের শরীরে একদিন সে প্রেমের গন্ধ পেয়েছিল। আজ সে-ই পুরুষের শরীরে কেবলই পুরুষের গন্ধ। ছায়াকে সে অতিক্রম করতে পারেনা। গোধূলীর চোখে জল আসে। জলের কাছে সে জানতে চায়,

" জল, আমার পরম বন্ধু, তোমার শরীরেও কী একদিন পুরুষের গন্ধ ফুটবে? "

রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৫

ছোট

পৃথিবীকে এতো ছোট মনে হয় কেন?
বিভীষিকার মতো ছোট
চারদিকে তৈরি করা ছাঁচ রাইফেল ধরে আছে
বলে কেবল,

"আমার মতো থাকো, নতুবা চলে যাও "

চলে যেতে যেতে দেখি
শকুনেরা খেয়েছে আমার বিশাল পৃথিবী