হাসিহীন জীবন অর্থহীন
অর্থহীন হাসি ☺ পাগলামিপনা
যাপন করো মন
যাপন করো মনের সব পাগল আলপনা
প্রত্যেক পাগলামির নিজস্ব গতিপথ রয়েছে
গতিরও রয়েছে নিজস্ব সুগন্ধি ছায়ামেলা যন্ত্রণা
হাসিহীন জীবন অর্থহীন
অর্থহীন হাসি ☺ পাগলামিপনা
যাপন করো মন
যাপন করো মনের সব পাগল আলপনা
প্রত্যেক পাগলামির নিজস্ব গতিপথ রয়েছে
গতিরও রয়েছে নিজস্ব সুগন্ধি ছায়ামেলা যন্ত্রণা
পাখি হয়ে আকাশে উড়ে উড়ে
দেখলাম
মানুষ একটা ছোট পাখি
বাতাস হয়ে ঘুরে
ভালোবেসো ফুল
ভালোবেসো ফুলের ❀ মতো যারা
কেটে যাবে যতসব হৃদয়ের খরা
চোখেমনে নামবে
চোখেমনে জাগবে নতুন এক ধরা
—একটা কথা বলতে চাই, আপনি মাইন্ড করবেন বাসুদেব?
— আগে বলো, তারপর মাইন্ড করি।
—হা হা হা, বাসুদেব আপনি রসিকতার রাজা।
— আপনাকে অনেকে লম্পট, নারীলিপ্সুক বলে।
— হা হা হা, যারা বলে অতিসত্য কথা বলে, তবে সত্য বলে না।
— কেমন বিষয়টা বাসুদেব, ঠিক মাথার উপর দিয়ে গেলো?
— অর্জুন গাছের ছাল থাকে না, জানো তুমি?
— জ্বি বাসুদেব, হরিণের সুস্বাদু মাংস যেমন হরিণের শত্রু তেমনি অর্জুন গাছের ছালের অধিক উপকারিবোধ তাকে গাছের সাথে থাকতে দেয় না।
— যে নারী আমাকে অধিক ভালোবাসে সেই আমার উপর কলঙ্কের অলঙ্কার লেপন করে যাতে শেষপর্যন্ত আমার শরীরে ছাল থাকে।
— শোনো অর্জুন, তোমাকে একটা কথা বলি।
— বলুন বাসুদেব, আমার মনোযোগ আপনার দাসত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত।
— জোলেখা ইউসুফকে জেলে দিয়েছিল, অনেকে অনেক কারন বলে থাকে, মূল কারন আরেকটা— জোলেখা চেয়েছিল ইউসুফের সৌন্দর্য অন্যকোনো নারী না দেখুক এবং জোলেখা প্রায়ই চুপিচুপি কারাগারে ইউসুফকে দেখতে যেতো।
— ও মাই গড! একি বললেন বাসুদেব!!
— শোনো অর্জুন, নারীর দেয়া আঘাতেও মমতা থাকে, সেই মমতা ধারণ করতে পারলে মায়ার জগতে যাবে তুমি— মায়া থেকে এই মহা জগতের সৃষ্টি— মহাকাল মায়ার মোহনজালে টিকে আছে।
বাজে কয়টা ভাই?
দশটা।
সই দশটা?
হুম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নরসিংদী কিশোরগঞ্জে সই মানে সমান। সই দশটা মানে সমান দশটা। সই(সহি) দেয়া মানে স্বাক্ষর দেয়া— টিপসই শব্দটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও ত্রিপুরা রাজ্যে বহুল প্রচলিত। সই আবার বান্ধবী অর্থেও ব্যবহৃত হয়— দুস্ত মানে বন্ধু, দুস্তের বিপরীত শব্দ হিসাবে সই ব্যবহৃত হয়— তখন সখি হতে সই শব্দের জন্ম।
'সই কইরা লামু' শব্দটি ঠিক করে ফেলা অর্থে ব্যবহৃত হয়। কেউ যখন খুব বাড়াবাড়ি করে তখন 'সই কইরা লামু' শব্দটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ বলে থাকে। 'সই করা' মানে সমান করা। লাঙল দিয়ে চাষ করার পর ক্ষেতে ইডা বা মাটির ঢিলা জমা হয়। আর সেই ইডা বা মাটির ঢিলা মই বা চগম দিয়ে অথবা মুহৈর<মুগুর ব্যবহার করে ভেঙে সমান করে বিজ ফেলার উপযোগিতা নির্মাণ করতে হয়। ক্ষেতের ইডা বা মাটির ঢিলা ভেঙে সমান করাকে ত্রিপুরা রাজ্য ও ময়মনসিংহের মানুষ বলে 'সই করা'। তাই সই করা মানে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাউকে নির্মান করা। আবার 'সই করা' তাক করা অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
—হে আমারে সই কইরা ইডা মারছে।
ইডা মানে মাটির ঢিলা বা মাটির শক্ত গোলক। ইডার চাহা মূলত বিশেষ্য। ইডা ক্রিয়া+বিশেষ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়—ইডা শব্দটি একা একা খুবই কম ব্যবহৃত হয়— ইডা দেয়া,ইডা মারা, ইডা ভাঙা,ইডা খাওয়া, ইডা দেখা। ইডা দেখা আবার প্রবাদ বাক্য যার অর্থ চোখে বিপদ দেখা বা ভবিষ্যতে বিপদের সম্ভাবনা দেখা।
আবেগ যখন ঘন হয়ে আসে তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ ইডাকে বলে ইডাল অথবা ইন্ডাল।
আবার ইডা শব্দটি কিন্তু এটা অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে— এটা>এইডা>ইডা>ইতা— ইডা শব্দটি তখন সর্বনাম এবং তাচ্ছিল্য ও রাগ প্রকাশে এই ইডা সর্বনামটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 'ইডা'র বহুবচন ইতা এবং ইতান। খুবই নিচু ও তাচ্ছিল্যের সুরে কোনো সর্বনামকে ইঙ্গিত করতে 'ইতান' শব্দটি উচ্চারণ করা হয় এবং প্রায়ই ইতান+এ=ইতানে বলা হয় রাগের আবেগকে আরও ঘন করে আনার জন্যে। ইতানে সর্বনামটি কখনো কখনো কর্ম আবার কখনো কখনো কর্তা হিসাবে বাক্যে বসে।
— আমি জানি ইতানে গ্রামের সর্বনাশ করছে!=কর্তা
—মাস্টার ইতানরে ছাত্র মনে করে না।= কর্ম
— ইডা কার পোলা?
—ইতা কোন জীবনে মানুষের কামে লাগযে?
— ইতানে শুধু খায় আর ঘুমায়।
— ইতানরে কেডা কইছে মেম্বরের কাছে যাইত?
ইডা (This one) সর্বনামটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে নিকটে অবস্থান করছে এমন কাউকে বুঝাতে। হিডা (That one) সর্বনামটি একবচনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে নিকট দূরে অথবা দূরে অবস্থান করছে এমন কাউকে বুঝাতে। ইডার বহুবচন ইতা বা ইতানে। হিডার বহুবচন হিতা বা হিতানে।
— ইতানে এ কতা না কইলে হিতানে জানছে কেমনে?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের 'স'কে 'হ' উচ্চারণ করার একটি সুন্দর প্রবনতা রয়েছে~সকলে>হগলে, সিঁথি সিঁদু> হিতি হিদু।
সিথান,শিথান, (বিশেষ্য)= শিয়রদেশ; শয়নকারীর শীর্ষদেশ; শোয়া অবস্থায় মাথার দিক(মেঘের মতো গুচ্ছ কেশরাশি শিথান ঢাকি পড়ছে ভারে ভারে— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর),উপাধান; মাথার বালিশ, মাথা (শিথানে সিদুঁর)। (বিপরীতার্থক শব্দ) পৈথান। {(তৎসম বা সংস্কৃত) শিরঃস্থান>}।
এই সিথান শব্দটিকে নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ অঞ্চলে 'হিতান' বলে— এই জনের পরিবর্তে বলে 'ইলা', সেই জনের পরিবর্তে বলে 'হিলা'। ইলা এবং হিলা সর্বনামটি বড়জনকে বুঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
— ইলা এ্যাস্টনকে ডাকছে।
— হিলা হালি ভাই ভাই করে।
বিষয়টি মজার। কারন ইলা এবং হিলা যেমন কর্তা হিসাবে বাক্যে বসে তেমনি সম্বন্ধ পদ হিসাবেও বাক্যে ব্যবহৃত হতে আমরা দেখতে পাই।
—ইলার লাইগগা তোরে আজগা মাফ করছি।
—হিলার লগে তুমি কতা কইতে গেছ কেরে?
কথায় বানালে পাখি নাকি
বৃথা খাচা
মহাকালের ফাকি
একটি বেকার স্টেশন— একটি বেকার স্টেশনে বসে আছি—কতিপয় মৌমাছি টেবিলে বৈকালিক খেলাধূলা ছেড়ে খাওয়াদাওয়াতে ব্যস্ত। ট্রেন আসতে অনেক দেরি।
একজন দোকানি মহিলার সাথে স্টেশনের হকার এক লোকের তুমুল বাকযুদ্ধ চলছে। নিশ্চিত হকার লোকটির রাতে ঘুম হয়নি। হকার লোকটির ভাবসাব এমন যেনো সে প্রতিবাদী আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা। ট্রেন আসতে অনেক দেরি। রোদের ছায়া পশ্চিম দিকে হেলেদুলে পড়ছে।
হকার লোকটির রাগ বাড়ছে— তিন নাম্বার থেকে একেবারে সাত নাম্বার বিপদ সংকেত— দোকানি মহিলার বাড়ছে অসহায়ত্ব—চোখে জল তার টলমল।
হকার লোকটির রাগভাব একেবারে দমন করে স্টেশনের এক হুজুর দোকানি— সেরের উপর সোয়া সের।
প্রায় এক মাস পর আবার স্টেশনে হিজরা দেখি— তাও আবার বোরখা হিজাব পরিহিত অবস্থায়। দোকানি মহিলাটি খাবার খাচ্ছে— দুপুরের খাবার— তাও আবার বিকালবেলার চশমাপরা সময়ে। ট্রেন আসতে অনেক দেরি।
স্টেশনের নিরাপদ নির্জনতা আর কবরের হাইফেন রূপকথার মধ্যে অমিল থাকলেও মিলের মিলিয়ন সাদৃশ্য অবশ্যই চাপা পরে আছে কথাফুলের গন্ধের আড়ালে— সৌরভ এবং গৌরব সহোদরা অস্থায়ী ভাস্কর্য। ট্রেন আসতে এখনো অনেক দেরি।
প্লাটফর্মে মা কুকুরটি তাকিয়ে আছে বাচ্চার চোখের দিকে—বাচ্চার চোখে নিজের ক্ষমতা দেখতে পায় মা— পৃথিবী তাকে ক্ষমতাহীন করলেও বাচ্চার পৃথিবীতে সে রাজা— রাজা হতে কার না ভালো লাগে!?
ট্রেন আসতে এখনো দেরি— দেরিপথ আজ অথবা কাল কমে আসবে— ট্রেন আসবে— আমি হয়ে যাবো ট্রেনের যাত্রী— স্টেশন আবার কোনো যাত্রীকে তুলে দিবে ট্রেনে।
ট্রেন আসবে যাবে— যাত্রী আসবে যাবে— স্টেশন ট্রেন ও যাত্রীকে নিয়ে জন্মের মতো একা।