শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

তুমিআমি

তোমার অসুখ নিয়ে তুমি বড় সুখী
আমার সুখ নিয়ে আমি বড় দুঃখী

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

যাদের স্বপ্ন বিক্রি হবে বলে

সিভিল সোসাইটির মানে তারা জানে না। তাদের চোখে নিজস্ব চোখ, তাদের মুখে নিজস্ব ভাষা, তাদের মনে নিজস্ব স্বপ্ন। ঝুনহির ফাঁকের মতো তাদের দুঃখ কষ্ট যন্ত্রনা।

হিজিমনি তাদের আনন্দ দিতে না পারলেও তাদের আনন্দ কেড়ে নিবে ধীরে ধীরে। একদিন তাদের স্বপ্নের ফাঁক দিয়ে  সিভিল সোসাইটি টাপুর টুপুর পড়তে থাকবে। তাদের নিজস্ব স্বপ্নের ঘর ভিজে যাবে পরবাসী স্বপ্নে। তারা তখন নিজেদের বিজয় দিবস উদযাপন করবে পরবাসী স্বপ্নে পরবাসী সুরে পরবাসী কল্পনায়।

এমন সরিষা ফুল বিকালে শিশুটি যাবে চরে। ঘাস কাটবে। ঘাস বাড়িতে আসবে। বাড়িতে গাভী সবুজ ঘাস খাবে। গাভী দুধ দিবে। দুধ বিক্রি হবে সকালের বাজারে। বাজার থেকে শিশুটির বাবা কিনে আনবে আনাইচ তরকারি চাল ডাল। ঘরে রান্না হবে। তারপর তার ক্ষুধার্ত মুখ পাবে খাবার।

শিশুটি প্রতিদিন স্বপ্ন দেখে ভালো কিছু খাবারের। আর রাষ্ট্র প্রতিদিন শিশুর খাবার কেড়ে নেওয়া স্বপ্নে বিভোর।

মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৭

এক ঘন্টা পর পরীক্ষার হলে গেলাম

এ নিয়ে আমার জীবনে এমন ঘটনা দ্বিতীয়বারের মতো ঘটে গেল।

প্রথমবার ঘটেছিল যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এডমিশন দিতে আসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবো বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম নতুবা পড়াশোনা করবো না। তাই ফর্ম কেটেছিলাম একটাই। বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে আমার সিট পড়ে। কিন্তু সিট খুঁজে পেতে পেতে পনেরো মিনিট গত হয়ে যায়। এক ঘন্টার পরীক্ষার মধ্যে যদি পনেরো মিনিট গত হয়ে যায়, তাও আবার এগারো তলায় সিঁড়ি বেয়ে ওঠতে হয় তাহলে কী অবস্থা হবে!

কর্তব্যরত টিচার হয়তো ভেবেছিলেন আমার কোনো সময়জ্ঞান নেই। ইশ্বর টিচারের ভাবনায় একটা বড় রকমের অট্টহাসি দিয়েছিলেন আমি নিশ্চিত। কারন ইশ্বর আর আমি জানি সময়ের সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্ম হিসাব কেমন করে আমি মেনে চলি ....

আজ মঙ্গলবার। শুক্রবারে পরীক্ষা হয়েছিল দুইটা ত্রিশ মিনিটে। আমি ভাবছি আজকেও দুইটা ত্রিশ মিনিটে। দুইটার দিকে আস্তে আস্তে পরীক্ষার হলের দিকে যাচ্ছি। আমি সাধারনত পরীক্ষার হলে যাই দশ মিনিট আগে। পকেটে থাকে চকলেট। পরীক্ষা দেই আর চকলেট কডর কডর খাই। আমার পাশের তারা চকলেট চাই কিন্তু আমি দেই না, লালুস দেখাই, খুব মজা পাই।

সিঁড়ি বেয়ে পরীক্ষার হলের দিকে যাচ্ছি। সিঁড়ি ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। আমি কী খুব আগে চলে আসলাম?

ওমা! পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে একটা ত্রিশ মিনিটে, মাথায় একটা পাথর যেন পড়লো!

আস্তে করে খাতা প্রশ্ন নিলাম। ভীস্মদেব স্যার আস্তে আস্তে আমার কাছে আসলেন, আমার কানের কাছে মুখ রাখলেন, তারপর আস্তে আস্তে বললেন, "কোনো সমস্যা নাই বাবা, সময়টা ভাগ করে নাও, তুমি পারবে।"

'তুমি পারবে' কথাটা জাদুর মতো আমার
মনে কাজ করতে আরম্ভ করে। আমি ভুলে গেছি এক ঘন্টা পরে আমি পরীক্ষা দিতে আসছি।

পাঁচ নং প্রশ্ন মানে শেষ প্রশ্ন লিখছি, হাতে আছে এক ঘন্টা। বিভাগের HOD ভীস্মদেব চৌধুরী স্যার আবার আমার কাছে আসলেন।

প্রশ্ন সব লিখতে পেরেছো?

জ্বি স্যার। শেষ প্রশ্ন লিখছি।

স্যারের মুখে হাসি। আমার মুখে ও মনে হাসি।

আমার মুখেমনে আনন্দ এই জন্য যে  আমি জানতে পেরেছি আজ আবার  নতুন করে একজন শিক্ষক আর একজন ছাত্রের সম্পর্ক  কোথায় এবং তা কত শক্তিশালী ....

শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

অনেক মানুষের নাম মধু

শব্দের ছায়া দেখে পাখিদের ঘর আঁকে মানুষ
আকাশে বিমান উড়ে
আকাশে মেঘ উড়ে
আকাশে আকাশ উড়ে
পলাতক প্রেম এসে নির্মান করে সংসার
অনেক কথার বাহার
ফুল কিন্তু চোখের সামনেই থাকে
গলিত সূর্যের হাতে সন্ধ্যার বাজার বসে, মানুষ বড়ই নিষ্পাপ, আজাইরা কাজের মতো নিষ্পাপ।

মধুপুর গ্রামে আজও কোনো মধুর চাষ দেখি নাই, মধুর চাষ হয়েছিল বলে মনে পড়ে না কিংবা ইতিহাসও নেই, তারপরও  গ্রামটির নাম মধুপুর।

অনেক মানুষের নাম মধু চা বিক্রি করে সাথে হয়তো চিনি নয়তো খেঁজুর গুর। যাক, নামে কী আসে যায়। নামের গুনে কত বদনাম আকাশের চাঁদে!

ককপীঠে বাতাস থাকে, ককপীঠে থাকে কিছু ঘুম কিছু বিশ্রাম। মৃত পুকুরের আগাছায় পরগাছার সন্যাস, চলক স্কিনের পেছনে হাত পেতে থাকে মাস্টার শটের কারসাজি, অনেক খেলার পর গল্পের নামে কেবলই ছায়াবীথিকার লম্বা হাত। পৃথিবীও বড় মানুষ, আমরা সেই মানুষের পোকা, বাতাসে ঘুরপাক খায় 'প্রবেশের নিজ সময়' 'দরজা বন্ধের' টুসটাস শব্দ।

মঙ্গলবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

বন্ধু গেলা রে

বন্ধু গেলা রে
গেলা বন্ধু রাইখা আমায় আন্ধারে (২)

পূর্ণিমা রাতে তোমার হাতে
বকুল ফুলের মালা
মেঘনার তীরে আন্ধার ঘরে
আমি যে একেলা
মনে ব্যাথা
মুখে নাই কথা
চোখে ঝরে অঝোর ধারা

পাখি ডাকে আগের মতো
গাছে বসে গানপাখি
উদাস নদী বৈঠা চালায়
নৌকাতে নাই মনমাঝি
আকাশ ভরা শুধু তুমি
পাখির ডানায় এই আমি

বন্ধু গেলা রে
গেলা বন্ধু রাইখা আমায় আন্ধারে (২)

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

আমরা সবাই আমাদের মতো থাকতে চাই

একটা শব্দের পর আরেকটি শব্দ, একটি ভাবের গর্ভে আরেকটি বান, তারপর কলা গাছ আরও সবুজ হয়ে সমাজের পিলার, স্বপ্নযাত্রা আজকাল নদী হয়ে গ্যাছে,বিশাল নদী, আমেনার মা এখন ভয় পায়, অনেক ক্ষমতা নিয়েও আমানের মা ভয় পায়, আসমানে মেঘ নাই, নীল রঙের একটা শাড়ি সিস্টেম শেখাতে সূর্যের আত্মীয় নামে নেমে আসে পৃথিবীর মিছিলে, ঘরের জানালায় সবুজ মাঠ, রুপালি চাঁদ নাচতে থাকে মনের গ্রীনল্যান্ডে, রাস্তা বেয়ে কতিপয় হাত নৃত্য করে।

সবাই কেমন সবার মতো চলতে চায়
সবাই কেমন সবার মতো বলতে চায়
সবাই কেমন সবার মতো হাসতে চায়

একটু নিজের সাথে বিরোধ হলেই যমুনার জলে মরুভূমি বসে
একটু নিজের সাথে বিরোধ হলেই বাজারমূল্যের গারমি গলা
একটু নিজের সাথে বিরোধ হলেই জুয়ার আসরে বিক্রি করে প্রিয়তমা মুখ

কোকিল গান করে যায়, নিজের অসুস্থতায়ও সে গান গায়, তার গান অসুস্থকে সুস্থ করে না, সুস্থকে আরও সুস্থ করে তুলে।

বহুদিন হলো আমাদের জমি গাইন্দা চালের চাষ করে না, মিষ্টি গন্ধের আম গাছটি আমাদের বিলাসী পালঙ্ক এখন, আমি ত জানি জীবিত আম গাছই কেবল মিষ্টি গন্ধ ছড়ায়, মৃত মানুষই জানে মাটির পরিচয়, যুদ্ধাহত শিশুটি এখনো ভুলেনি স্বপ্ন দেখার ভয়।

শুক্রবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৭

সূরা লাহাব

সূরা লাহাব/মক্কায়
অবতীর্ণ/আয়াত
সংখ্যা 5। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাষায় সূরাটি অনুবাদ করলে দাঁড়াবে--

ﺗَﺒَّﺖْ ﻳَﺪَﺍ ﺃَﺑِﻲ ﻟَﻬَﺐٍ ﻭَﺗَﺐَّ
আবু লাহাইবার দুইডা আত লুলা অইয়া যাইবো, পইচ্চাগুইল্লা যাইব-ই
হুদা আত না হে নিজেও দংশ অইয়া যাইব

ﻣَﺎ ﺃَﻏْﻨَﻰ ﻋَﻨْﻪُ ﻣَﺎﻟُﻪُ ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺴَﺐَ
হে যে দন সম্পত বানাইছে ইতা কুনু হের কামে আইব না

ﺳَﻴَﺼْﻠَﻰ ﻧَﺎﺭًﺍ ﺫَﺍﺕَ ﻟَﻬَﺐٍ
অলফ দিনের মাইদ্যে  হে দুযহে যাইব আর উল্কাওয়ালা আগুনে ফুইরা ফুইরা চিল্লাইব

ﻭَﺍﻣْﺮَﺃَﺗُﻪُ ﺣَﻤَّﺎﻟَﺔَ ﺍﻟْﺤَﻄَﺐِ
হালার বেডার বউও হের লগে দুযহে যাইবো, হের বউডা হের কঠিন সহযোগী

ﻓِﻲ ﺟِﻴﺪِﻫَﺎ ﺣَﺒْﻞٌ ﻣِّﻦ ﻣَّﺴَﺪٍ
হের গলাতে তাকব হেজুরের কাডাওয়ালা দুরি
In her neck is a twisted rope of
Masad (palm fibre).