সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

থামিয়ে

মৃত্যুর মতো চলে যায় প্রিয়তমা ট্রেন
বাইরে থেকে দাঁড়িয়ে দেখি গতকাল পুরসুর সুপর্না লেন
কাক উড়ে গেলে যতটুকু কালো ছায়া নিচে থাকে তাও রাখে না সে
চলে যায়
আবার আসে
পুনরায় যায়
চিহ্নটুকু থেকে যায় লাল শালুকের দানার মতো বেদনায়
লাল হতে হতে একদিন তা নীল হয়ে যায়
নীলের ভেতর লোকোমাস্টার হয়ে দেখি সময়টা কেবল সিগন্যালের
এই থামো
এই চলো
থামতে থামতে চলতে চলতে নরম সন্ধ্যা নামে, বাঁশপাতার ফাঁক দিয়ে অনেক প্রাচীন এক মাগরিব দেখা যায় 

চিল

গরীবের এক চোখে ক্ষুধা, অন্য চোখে যন্ত্রনা,গরীবের মুখে তাই চিৎকার  

রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

ভ্র

সরাইল কুকুরের জন্য বিখ্যাত। সরাইল্লা কুকুর একটি গালি। সরাইলের পাশের গ্রাম চুন্টা। আমরা চুন্টা গ্রাম আবিষ্কারে জন্য বের হয়েছি। কিন্তু যে চুন্টা গ্রামের উদ্দেশে আমরা বের হয়েছি তা এখানে নেই-- মানুষ আছে, জঙ্গল নেই। মানুষের সাথে জঙ্গল না থাকলে আমাদের শুটিং ক্যামেরা চলবে না।

চুন্টা গ্রামের খাবারদোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম সে সুন্নি কিনা। সে জবাব দেয় যে সে ওহাবী। মিস্টিদোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি সুন্নি না ওয়াহাবী। ওমা, অনায়াসে বলে দিলো যে সে ওহাবী। আড়াইসিধা গ্রামে কেউ যদি এমন অনায়াসে ওহাবী বলে নিজের অবস্থান নির্ধারন করে আমি নিশ্চিত তার শরীর হাসপাতালে যাবে অথবা তার জন্য আড়চোখ বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত হবে। পরে জানতে পারি মিস্টিদোকানদার হিন্দু।

আমরা রিকসা করে সরাইল গ্রামে চলে আসি। সাগরদিঘীকে দুই বছর আগে যত বড় মনে হয়েছে এখন কিন্তু তত বড় মনে হয়নি। আমার চোখ বড় হয়ে গেছে নাকি সাগরদীঘি ছোট হয়ে গ্যাছে তা তদন্তের বিষয়। সাগরদীঘির পাশেই মসজিদ, মসজিদের পাশে মাজার, মাজারে হাজার বছরের পুরাতন বাবা ঘুমিয়ে আছে।

মসজিদের নির্মান ইতিহাসও কেউ বলতে পারে না। মাজারে যে আম্মা চাচিরা কুরআন আবৃত্তি করতে আসেন তারাও জানে না। আসলে ইতিহাসের দিকে আমাদের নজর খুবই কম, আমাদের নজর কেবল হাজার বছরের অদেখা বাবার দয়ার দিকে। 

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

বেশ

ভেতরে ভেতরে আমরা সবাই কমবেশি বেশ্যা, বাইরে বাইরে শতভাগ মাওলা আল্লামা 

নিভে যাওয়া

প্রয়োজনের সংসারে মানুষ আর কয়জন আছে
প্রয়োজন মতো সবই প্রয়োজন আগে পিছে
চুপ করে বসে আছে যারা তারা জেনে যায় অবশেষে স্রোতের ধারা
মানুষের কালে ডাকু পাখি ডাহে পাতার ফাঁকে ফাঁকে
নীরব এক সাপ রাস্তার পাশে বিষদাঁত গুনে
জীবন এমনই সকাল দুপুর রাতের মতো-- দেখা যায় আবার নিভে যায়

ভালো হয়ে যাও রেজা সময় আছে, দেখবে আসমান তালে তালে নাচে

ভালো হয়ে যাওয়া কাকে বলে আজও জানি না, মন্দের ঘরে তালাচাবি দিলে পূন্যের বাজারে লাগবে আগুন
চোখের ভেতর নেমে আসে চোখ, ঘুমের ভেতর ঘুম

সবাই দেখে চোখের নিচে, হৃদয়ে কানপাতা দোকান বদল হয়েছে বহু আগে
জানালার পর্দা বাতাস থাকলেও নড়ে, না থাকলেও নড়ে 

মঞ্চ

আবৃত্তি মানে দৃশ্যকে কন্ঠে তুলে ধরা, নৃত্য মানে দৃশ্যকে অঙ্গে তুলে ধরা, কন্ঠ এবং অঙ্গ যেখানে একসাথে খেলা করে সেটাই মঞ্চ।

মঞ্চ মানে নিজেকে দেখানো না, নিজেকে দেখার জায়গা মঞ্চ।

মঞ্চে যাওয়ার আগে এক হাজার ভাবা আবশ্যক। কারন নিজেকে দেখার আনন্দ যেমন আছে তেমনি যন্ত্রনাও অধিক। নিজেকে দেখেই মুসা নবী অজ্ঞান হয়েছিলেন, মুনসুর হাল্লাজ হয়েছিলেন পাগল, মজনু হয়েছিল উন্মাদ।

বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৬

একদিন তুমি নারী হয়ে যাবে

একদিন তুমি নারী হয়ে যাবে, এখন যতটুকু নারী আছো তার চেয়ে অধিক
আমি শিশু হয়ে, এখন যতটুকু আছি তার চেয়ে অধিক ক্রিকেট খেলবো মাঠে ঘাটে

তোমার উঠোনে নৃত্য করবে আমার শৈশব
তোমার জানালার কাঁচ ভাঙবে আমার বল

খুব ভয়ে ভয়ে বল আনতে যাবো
ঘরের ভেতর থেকে দুষ্টের দল দুষ্টের দল বলে বলে জানালার দিকে আসতে থাকবে তুমি

আমার হাতে ব্যাট আর চোখে ভয়
তোমার চোখে আরও পুরাতন একটি চশমা, ঠোঁটে অনেক দিন আগের একটি কম্পন

মুখোমুখি তুমি আর আমি
মুখোমুখি যৌবন রাতের কিছু রোদ, কিছু তাপ