বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ত.

জীবন এমন করে বয়ে যাবে ফুলে আর ভুলে
তবুও যেন
তবুও যেন
রাতগুলো বেঁচে থাকে রাতের ঘরে 

:

এসো তাই স্বপ্ন দেখি 

চানাচুর

এখন বর্ষাকাল। রোজ রাত নেমে আসে আমাদের চোখে মুখে নাকে। আমাদের ঘুমেরা আর জ্বালাতন করে না। আমাদের স্বপ্নরা আর আমদানি করে না রাতজাগাপাখি। বস্তা বস্তা দুঃখ ট্রাকভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হয় দূরে, অনেক দূরে।

শাহবাগ চুপচাপ শ্রীরামচন্দ্রের ধ্যানী আসনের মতো।

আমাকে যদি এখনই পৃথিবীর প্রধান করে দেয়া হয় তাহলে আমি এখনই পদত্যাগ করবো, নতুবা সন্ত্রাস দমন করবো নিজ হাতে বাঁচি কিংবা মরি।

আসন পাবার পর হয়তো আমার মানসিকতাও বদল হয়ে যেতে পারে-- সন্ত্রাস দমনের পরিবর্তে আমার চেয়ারের নিচে থাকবে কতিপয় পোষা সন্ত্রাস। নিজে পদত্যাগের পরিবর্তে আমার বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে তাদের কপালে লেখা হবে পদত্যাগের শাব্দিক হিসাব।

আসনের লোভ আসলেই কপালের লাল টিপের মতো, কেবলই নিজেকে দেখায়। 

কাস্টমস

সজ্জনের সজলা মনের মতো তমসানদী আমার
কালে কালে পলে পলে বাড়ছে তোমার রূপের বাহার
রাম-লক্ষ্মন-সীতা শুনেনি তোমার করুন বারন
নদীর আবেদন জানে না বিতস্তা,  ঝমঝম কূপের কারন
প্রিয়তমা ঘোর রাতের আধাঁর, শাপলা ফুল
রোজ নিয়ম করে বাঁশপাতার আড়ালে ঝুলে থাকে গোপন কিছু ভোর

গোপন কথা গোপন থাকে না কাছে কিংবা দূর

বিপাশা নদীর জলে সন্ধ্যার চুলে নামে বাউল নামে উদাসীন এক সুর
দাঁতের সাথে জিব্বা যুদ্ধ করে বাঁচে
সরস্বতী নদীকূল
বাল্মীকির মনে আসা প্রিয়ফুল
বারবার জেগে উঠে সজলা মনের কাছে
মনের তৃপ্তি চোখসুলভ
কাশফুলে না মিটে কাশফুলে না মিটে

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

একদিকে

একটি নৌকা একদিকে ডুবে গেলে অন্যদিকে ভেসে ওঠে। আপনি যদি নৌকাটি গর্ত করে দেন তাহলে দেখবেন নৌকাটি ভেসে আছে, আসলে নৌকাটি ডুবে যাচ্ছে। 

মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শেখানো

আমি প্রতিদিন রাতে একগ্লাস জুস খাই। পেঁপের বা আমের বা কলার জুস। একটি দোকান থেকেই খাই। পকেটে যেহেতু টাকা এবং মনভর্তি স্বাধীনতা আছে সেহেতু যে কোনো দোকান থেকেই খেতে পারি। কিন্তু খাই না। যেখানেই থাকি জুস খাওয়ার জন্য আমি সেই দোকানে চলে আসি(ঢাকা থাকলে)।

লেনদেন আমি একজায়গা থেকে করতে পছন্দ করি। আমার মোবাইল কোনো কারনে অন্য চার্জজার দিয়ে চার্জ দিলে মোবাইল গুসসা করে অনেকটা বাংলা সিনেমার এককালীন চমৎকার অভিনেত্রী শাবানার মতো। সে তখন ভালোভাবে কাজ করতে চায় না। তাই যেকোনো লেনদেনে আমি বহুগামীতা পছন্দ করি না।

একবছর যাবৎ আমি সেই দোকান থেকে জুস খাচ্ছি। কিন্তু দোকানদার আমার সাথে অন্য কাস্টমারের মতোই আচরন করে। প্রতিদিন দোকানে গিয়ে আমাকে বলতে হয়, ভাই প্রয়োজনে টাকা বেশি নেন কিন্তু আমার জুস যেন ভালো হয়। সে এমন এক ভাব ধরে যেন আমার কথা হয়তো শুনেছে হয়তো শুনেনি।

দোকানদাদের এই বিচারবুদ্ধিহীন আচরনের জন্য মনে মনে আমি খুব কষ্ট পেতাম। আরে বেটা প্রতিদিন তর এখানে একটি ছেলে একগ্লাস জুস খাওয়ার জন্য আসে সে তো স্বাভাবিকভাবেই একটু ভালো আচরন আশা করে। মাঝে মাঝে দেখতাম অন্য কিছু কাস্টমারের সাথে হাসি দিয়ে কথা বলছে এবং সে তার সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

তাহলে আমি কী দোষ করলাম?

সব কিছুরই শেষ দেখার একটি মানসিকতা আমি রাখি। শেষ দেখে শুরুর সিদ্ধান্ত আমি নিয়ে থাকি। ফলে তখন আমার সিদ্ধান্তে এসে জমা হয় অভিজ্ঞতা, বাস্তবতা, নৈতিকতার এক জমকালো খতিয়ান। মনে মনে প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম তার দোকান থেকে আর জুস খাবো না। যেকোনো অভ্যাসগত জায়গা আমি আস্তে আস্তে ত্যাগ করি ( Run fast leave slow)।

চীন থেকে দেশে ফিরলাম। ইদের ছুটিতে সবাই বাড়ি চলে গ্যাছে। আমিও চলে যাবো। রাতে সাইফুল ভাইয়ের দোকানে গেলাম। জুস খাবো। দেখি সে একহাত দিয়ে জুস বানাচ্ছে।

ভাই , আপনার অন্য হাতে কী?

দেখেন না ক্যামন ঘা হয়েছে?

কী করে?

দুইদিন আগে কেটে যায়, তখন ওয়ানটাইম দিয়ে বেঁধে রাখি, ওয়ানটাইম খুলে দেখি এই অবস্থা!

দোকান এখন বন্ধ করেন। সে তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করে। তারপর তাকে নিয়ে যাই ঢাকা মেডিকেলে। ইমার্জেন্সি গেইট দিয়ে ঢুকি। চিকিৎসক চিকিৎসা করতে চায় না। তারপরও আমি ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কথা বলাতে ডাক্তারের সুমর্জি হয়। তার আঙুলে কয়েকটি সেলাই দিয়ে একমাসের ঔষধ দিয়ে বিদায় করে।

সে দোকানে চলে আসে, আমিও তাকে সমস্ত ঔষধসেবন বিধি বুঝিয়ে দিয়ে আমার হলে চলে আসি। পরদিন সকালে বাড়ি চলে যায়।

এখনো তার দোকানে প্রতিরাতে জুস খেতে যায়। সে দেখামাত্র একটি হাসি দিবে। কী চমৎকার হাসিরে বাবা! তারপর সুন্দর করে গ্লাস ধৌত করবে, তারপর মজা করে একগ্লাস জুস দিবে।

মাঝে মাঝে অনেক রাত হয়ে যায়। তারপরও দেখি তার দোকান বন্ধ হয়নি। কেন দোকান বন্ধ করেনি তা আমি জিজ্ঞেস করি না। কারন আমি জানি আমার জন্যই তার এই রাতজাগা।

যে মানুষটি আমার চোখে চোখ রেখে কথা বলতো না, সে এখন আমার জন্য রাত জেগে থাকে, হৃদয়ভর্তি ভালোবাসা জমা রাখে। আসলেই মানুষকে ভালোবাসা শেখাতে হয় ....

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

দুইজন

দুই হাজার এগারো সালে আমি একখান কম্পিউটার কিনি। দুই হাজার তের সাল পর্যন্ত তার সাথে আমার সম্পর্ক ভালোই ছিল। দুই হাজার তের সালের পর তার সাথে আমার সম্পর্ক অনিয়মিত হয়ে পড়ে। যেহেতু আমি ব্রেকআপ নীতিতে বিশ্বাসী না সেহেতু বলতে পারছি না তার সাথে আমার ব্রেকআপ হয়েছিল কিংবা বলতে পারছি না পিরিতি ভাঙিয়া গেলে নাহি লাগে জুড়া।

আমার প্রিয়তমা কম্পিউটার আরামসে ঘুমে ব্যস্ত, আমিও তাকে কোনো প্রকার বিরক্ত করতাম না। সে যেখানে ঘুমিয়ে থাকতো সেখানেই আমি আমার দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র রাখতাম। তার কানের কাছ দিয়ে আমার হাত চলাফেরা করত কিন্তু কখনো তার শরীরে হাতের  স্পর্শ সজাগ করেনি।

কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল আমি ডাক দেয়া মাত্র আমার প্রিয়তমা কম্পিউটার কাজ করতে আরম্ভ করবে। অনেক কম্পিউটার বিশারদ আমাকে অনেকভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে। আমি ভয় পাইনি। কারন আমি সম্পর্ককে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করি, কোনো বৈষয়িক দেয়াল আমাদের মাঝে ফাটল তৈরি করতে পারবে বলে আমার মনে হয়নি। হয়তো দুজন দুপথে দুইভাবে আছি, এর মানে এই নয় দুজন দুজনের কাছ থেকে দূরে চলে গেছি।

প্রয়োজনে কাছাকাছি আসা যেমন যায়, আবার প্রয়োজনে দূরেও যাওয়া যায়। দুজনের প্রয়োজন এক হলে কাছে কিংবা দূরে থাকা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ন বিষয় নয়। প্রয়োজনে চাঁদ লুকিয়ে যায় কিন্তু নদীর মাঝি ঠিকই জানে চাঁদ লুকিয়ে গেছে মানে চিরতরে দূরে সরে গ্যাছে না। ভালো যোদ্ধা যেমন যুদ্ধ করতে পারে তেমনি যুদ্ধ থেকে পালাতেও পারে।

আমি আর আমার কম্পিউটার সম্পর্ক থেকে পালিয়ে ছিলাম সম্পর্কের গুরুত্ব উপলব্ধি করার জন্যে।

আজ আবার কম্পিউটার ওপেন করলাম। চার্জ নেই তাই চার্জ দিলাম। সে ঠিক আগের মতোই আছে। একটুও বদলায়নি। আমার আস্থা ছিল সে বদলাতে পারে না।