বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬

মাছ

মাছ বাজারের লোক আমি দোকান থেকে বলছি,মাছহীন জীবন আমার মাছহীন জীবন, ভেতর থেকে জলে নেমেছি, ভেতর দিয়ে ভেতর কিনেছি,
মাছহীন জীবন আমার মাছহীন জীবন,শ্যাওলার সাথে যে মাছের নিত্য বসবাস সেই মাছের আশায় দিন যায় আমার দিন যায়, মাছহীন জীবন আমার মাছহীন জীবন, ভাবতে পারি না মাছেরও জীবন আছে মাছেরও জীবন, মাছহীন জীবন আমার মাছহীন জীবন 

বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০১৬

চ...

কোনো প্রসংশাই আজকাল গতরে মাখি না, কোনো নিন্দা আসে না কানের কাছে যেখান থেকে শব্দ গোল হয়ে মনে পৌঁছে, শুধু বসে থাকি বসে থাকি এবং বসে থাকি নীরব কোনো ঘুমে, তোমাদের পথেরা আগুনের মতো কাছে টানে, পথহারা পথিকই জানে আগুনের মর্ম এবং মানে 

মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০১৬

জতেক

কারো কথা মনে পড়ে খুব
কারো কথা মনে আনে সুখ
কারো কথা  ট্রেনকাটা লাশঘরের ঘুম
কারো কথা জলের মতো উৎসমুখী দুঃখ
কারো কথা বুকের দেশে লুকিয়ে রাখা মুখ
কথার জলে ভেসে থাকে যত্রতত্র লোভ
কথা চলে
কথা চালায়
কথা জাগে
কথা জাগায়
কথার মাঠে খেলা করে মানুষ হওয়ার লোভ
কথার জালে যত বিবাদ ক্রোধের ভেতর ক্রোধ 

এ....

এই জীবনে কারো ক্ষতি করার নূন্যতম চিন্তা করিনি। আমাদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যও তাই। অবশ্যই তাই। তা আত্মবিশ্বাসের সাথে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো। তবে নিজের অজান্তে কিংবা আবেগের প্রাবল্যের কারনে হয়তো ভুল করেছি কিন্তু ভুলগুলো খুব রকমের বড় আকারে বা নাক কাটার মতো অপরাধ হতে পারে না। আবেগের ভুল আবেগের মতোই ক্ষনস্থায়ী।

কারো সাথে মিশলে মন থেকে মেশা হয়েছে, কোনো প্রকার বৈষয়িক চিন্তাকে সামনে রেখে কখনোই সম্পর্ক নামক অভিধান রচনা করিনি। যার সাথেই থেকেছি, থাকি মন থেকে তার জন্য কল্যান কামনা করি , তাদের ভুল দেখলে সংশোধন করে দেয়ার চেষ্টা করি।

আমি অনেক ভাগ্যবান যে এই জীবনে যাদেরকে আমি পেয়েছি তাদের সঙ্গ পেয়ে আমি সুখবোধ করেছি, গর্ব দিয়েছি নিজেকে। আমার সাথে থেকেছে, থাকে কিন্তু আমার ক্ষতি কামনা করে এমন কেউ আছে বলে কল্পনাতেও আমি বিশ্বাস করতে পারি না। তবে আমার প্রিয় কোনো কোনো সঙ্গ আছে যারা আমার কিছু মানবীয় আচরন মেনে নিতে পারে না, পারে না বললে ভুল হবে-- আমার কাছ থেকে প্রত্যাশা করে না। সে আচরনকে আমি অবশ্যই চিনি কিন্তু ....।

নরসিংদী অল স্টার মেসে থাকতাম। আমাদের রুমে আমরা তিনজন। আমি শামীম, আর নীরব ভাই। তারা আমাকে খুব পছন্দ করতো, আমিও। আমরা যখন পড়তে বসতাম তখন ঘড়ি দেখা নিষিদ্ধ ছিল। নিয়মটা আমার পক্ষ থেকেই পাশ করা হয়েছিল যাতে অনেকক্ষন পড়তে পারি। নীরব ভাই ঘুমিয়ে যেতো আর আমি তার চোখে পানি দিয়ে দিতাম, সে আবার মনোযোগ দিয়ে পড়তে বসতো। আমাদের মাঝে চমৎকার বোঝাপড়া ছিল, বিশেষ করে আমার আর নীরব ভাইয়ের মধ্যে। নীরব ভাইকে নিয়ে একটি গল্পও লিখেছিলাম `` নীরব আলীর নীরব ঘুম ", ছাপা হয়েছিল মঈন ভাই সম্পাদিত কানামাছি পত্রিকায়। নীরব ভাইয়ের চোখেমুখে চমৎকার এক আশারোদ খেলা করতো।

মেস ছেড়ে দিয়ে একসময় বাড়ি চলে যাই। নিজকাজে আবারো ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

কয়েকমাস পর স্মৃতির টানে ঐ মেসে আবার যাই। গিয়ে দেখি আমার রেখে আসা বেডে আরেকজন বিছানা পেতেছে। আমার বেডে বিছানাপাতা ছেলেটির সাথে খুব মনোযোগ সহকারে কথা বললাম, যেহেতু উপদেশ দেয়ার অভ্যাস আছে তাই মাশেল্লা উপদেশ দিতে কম দেইনি।

নীরব ভাই আসে, আমাকে দেখে সে কান্না শুরু করে দেয়। আমি রুম থেকে আসার পর সে একদিনও মানসিক শান্তিতে থাকতে পারেনি। তার একধরনের মানসিক রোগের জন্ম হয়ে যায়। অথচ আমি যখন ছিলাম ....!

আমি নিজেকে খুব সার্ফ এ্যাকসেল ধোঁয়া সাধু মানুষ হিসাবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি না, শুধু বলতে যাচ্ছি আমি যাদের সাথে চলাফেরা করি তাদের জন্য আমার এমন অন্তরতম শুভকামনা থাকে যা তাদের মা বাবার পক্ষেই করা সম্ভব। ছোট্ট কাল থেকে শুনতে শুনতে বড় হয়েছি একটি আপ্তবাক্য, আর তা হলো মা বাবার মনে কষ্ট দেয় যে সন্তান সে কখনো শান্তিতে থাকতে পারে না। মা বা কখনোই সন্তানের অকল্যান কামনা করে না। 

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১৬

স....

আকাশ তুলে নিয়েছে মুগ্ধ কিছু রাত, যদিও আকাশ আর মুগ্ধতার মাঝে অসীম ফারাক, যদিও মুগ্ধতা একাকাশের নাম, যদিও আকাশ এক মুগ্ধতার তলে ছাতিম প্রতাপ,
প্রতাপে মুগ্ধতায় লাল নীল দুনিয়া কৃষকের হাসি সরল মেয়ের সরল ম্যানিয়া, কামের ঘরে জমা থাকা কাম, মনের ঘরে জমা থাকা মন এক থেকে একাধিক চোখের আয়োজন-- দুটি চোখ কাছাকাছি এলে দুটি ঠোঁট রচনা করে হাওয়াগত দূরত্ব, মন কখনো থেমে যায় না গতিহীন নদীর মতো, মনে কেবল উড়ে আসে ইজিলোড প্রেম বার বার, বার বার প্রেমে পড়ে মনইমাম হারায় তার স্রোতপথ, নগ্ন হলে গোপন ঘরে নেমে আসে বীর্যপাত ক্ষমা, যুবক খুঁজে পায় দলবল শান্তির পল সুস্থ কামনায়,

আর কত অভদ্র হলে সুভদ্র হবে মানুষ?
আর কত সভ্য হলে মানুষ বানাবে আরো আরো বানোয়াট মুখ? 

,.

বড়শি দিয়ে মাছ ধরা যায়, মানুষ ধরা যায় না, মানুষ বড়শিজ্ঞান মাছের জন্য তুলে রাখে 

বিলা

আমার আম্মা কইতেন পুলাফানরে হারাপ বানা বিলাফান , পুলাফানের কোনো দোষ নাই। আম্মার আম্মা, তারও আম্মা এই কথা বিশ্বাস করতেন। আম্মার এই হাজার বছরের বিশ্বাসকে আমি শ্রদ্ধা জানাতে পারিনি, পারবো না।

তাই আমি আম্মার পুলা হয়েও এখনো  এক বিলার কথা খুব মনে পড়ে। মনে পড়ার সাথে কেমন যেন এক প্রশান্তি নিজের ভেতরে প্রবাহিত হতে থাকে-- অনেকটা শরৎমেঘের মতো, অনেকটা নিঝুমদ্বীপের একলা রাতের ঘুমপ্রিয় পাখির মতো, অনেকটা তিনশ ফিট রাস্তায় নিভে যাওয়া সন্ধ্যায় রিকসা চড়া ভ্রমনের মতো।

বিলাডা কেমন আছে জানি  না, জানতে ইচ্ছে হয় না এমন না। সব অজানা জীবনের জন্য ক্ষতিকর না, তাই জানতে চাই না। কিছু প্রিয় অজানা আছে যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আনন্দে আনন্দে বেঁচে থাকার জন্য আম্মার মতোই সহায়ক ভূমিকা রাখে।

যখন দেখি আকাশে একটা পাখি একলা একলা ঘুরছে, যখন দেখি কোথাও কোনো এক দূরতম নির্জন দ্বীপ, যখন শুনি কোনো কথা কোনো সুরে বসতে যাচ্ছে, যখন কোনো ডিরেক্টর মনতাজ করতে গিয়ে সিগারেট ধোঁয়ায় বিশ্রাম নিচ্ছে তখন, ঠিক তখনই আমার বিলাডার কথা মনে পড়ে।


বিলাডা অনেক ভালো আছে জানতে পারলে অনেক ভালো লাগবে, অনেক ভালো লাগা কেমন তা অবশ্যই ভাষায় প্রকাশ করার সক্ষমতা আমার নেই। তবে এতটুকু বলতে পারি কাউকে ভেতর থেকে ভালো লাগলে নিজের ভেতরটা তার জন্য নিবেদিত প্রানে পরিগনিত হতে বাধ্য-- সেই জায়গা থেকে তাহার জন্য শুভকামনাবোধ ব্যতীত আজও অন্য কিছু আবিষ্কারের খাতায় নাম নিবন্ধন করেনি।

একটি গান মানুষের মুখে প্রায় শুনি আল্লা নাকি তার প্রেমিক / প্রেমিকা বিচার করবো।
কেন?
সে নাকি তার অনেক ক্ষতি করেছে। গানটি শুনে আমি হাসি আর ভাবি কীরে ভাবা এ কোন ধরনের প্রেমিক যে তার বন্ধুকে অভিশাপ দেয়। ক্ষতি করার অধিকার যে আমাকে দিবে না তাকে কেন আমি উপকার করতে যাবো।

উপকার আর ক্ষতির বাইরে সম্পূর্ন আলাদা এক পৃথিবী আছে যেখানে  জলবায়ুহীন মন থাকে সেখানে দেখা যায় প্রেমের মর্মাহত বাসা-- যত গভীর আশা,  যত গভীর প্রত্যাশা,  যত গভীর হতাশা  সবই আছে সেই মর্মাহত পুরাতন বাসায়। সেই বাসায় বিলাডা আসে,  আমিও যাই অথচ দুজনের দেহ কত সুন্দর করে অদৃশ্য, অদৃশ্য দেহে চলে আত্মার ইথার, কাতারে কাতারে সাজাই আমরা কথার বাহার।
আমাদের মাঝে যে কথা জন্মগ্রহন করে তা হয়তো অনেকদিন নবাগত শিশুর চোখসম শক্তিতে অনুবাদহীন থাকবে। তারপর তারা একদিন অনুবাদ হবে পৃথিবীর পাড়ায় পাড়ায়।

তারপর, তারপর হবো ইতিহাস