বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৬

তোমাকে একটি বার বলেছিলাম
`থামো', তুমি আমাকে থামিয়ে দিয়ে চলে গেলে আমাজন বনে, সিংহ আর বাঘের সাথে শুরু করলে বসবাস,একবার যদি বলতে আমি যাচ্ছি, বহুবার আমি তোমার পথ আটকে ধরতাম, সারা শরীরের রক্ত মেলে ধরতাম তোমার ভ্রমণপথে ,নিশ্চিত আমার রক্ত তোমার বর্ডার হয়ে থামিয়ে দিতো গতিপথ,একবার থেমে গেলে গতি দেখতে কচ্ছপশপথ-- অপেক্ষমান লালায়িত হাজারো মানুষের মধ্যে একজনই তোমার আপন, আপন ছেড়ে কালে কালে তুমি হয়ে গেলে পর, হরিণ তুমি বাঘের সাথে শুরু করো সংসার জীবন,
দুঃখ হয়, কষ্ট হয় তোমার যেমন
আমিও আছি বন্ধু তেমনি তেমন 

বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৬

সবখানে কোথায় যেন বেশি বেশি দেখি
সবখানে কোথায় যেন অন্ধকারটা খুঁজি
সবখানে যেন যেন শিকারি এক পাখি
ঘরের ভেতর জান্তব লাশ
লজ্জা কোথায় রাখি 

মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৬

স্ব

নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।
নদীর ওপার বসি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে;
কহে, যাহা কিছু সুখ সকলি ওপারে।

আসলেই সুখ, স্বর্গ সুখ এপারে কিংবা ওপাড়ে থাকে না-- এটিই নিতান্ত নিজের ভেতর থাকে, নিজের মধ্যে থাকে(Beauty is not in things but in us)।

ধরেন আপনি অসুস্থ, আপনার জিব্বাটি যে খাবার হাইতে সবচেয়ে বেশি লালায়িত তাহে, যে হাবার খাইয়া আপনি সবচেয়ে বেশি স্বাদ অনুভব করেন সেই খাবারও আপনার কাছে স্বাদহীন মনে হবে। তাইলে আপনি বলতে পারেন না খাবারের স্বাদ নেই, আপনি বলতে পারেন আফনার স্বাদ আস্বাদন ক্ষমতার ঘাটতি অইছে। তবে এ কথা সত্যি, মাইদদে মাইদদে খাবারও অসুস্থ হয়। 

সোমবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৬

আফা

পেছনের বেঞ্চে বসি। ইদানিং পেছনের বেঞ্চও দখল হয়ে যায়। বিজ্ঞানী আবুল কালাম আজাদের প্রতি রাগ হইলো। সে যখন থেইক্কা কইলো মেধাবীদের পাওয়া যাবে পেছনের বেঞ্চে তখন থেইক্কা পেছনের বেঞ্চে বইসা মেধাবী সাজবার হিড়িক লাইগগা গেছে।

মজার ব্যাপার হইলো মেধাবীরা ইন্দুর-বিড়াল প্রতিযোগিতা এ্যাভুয়েড কইরা পেছনের বেঞ্চে বইতো, আর বর্তমানের তারা মেধাবী সাজবার লাইগগা ইন্দুর- বিড়াল প্রতিযোগিতাকে সামনে রাইহা পেছনের বেঞ্চে বসা নিয়া রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু করে।

তাইলে আমি কই বমু?

 ইচ্ছা হইতেছিল ক্লাস থেইক্কা বার হইয়া যাইতে, আতকা মুখোশপরা এক সহপাঠীর পাশে বসার মতো একটি জায়গা খুঁজে পাইলাম। সহপাঠী তো বসে আছে তার পাশে তার থলেটিও বসা।

থলে বসার জায়গা থাকে কিন্তু ছাত্র বসার জায়গা আমার সহপাঠীরা কাছে নেই ....

আফা, একটু যদি জায়গা দেন আমি বইতে পারুম, আফা দিবেন?

আফা কাচুমাচু করতে লাগছে। তারপরও আফার দয়া অইলো, আমারে বইতো দিলেন, দয়াময়ী আফা ....

আফা কিন্তু তার ব্যাগটি আমাদের মাইদদে রাইহা দিলেন, তৈরি হইলো ব্যাগদেয়াল।

আফা কেন ব্যাগদেয়াল বানাইলেন? আমার গতর আফার আতরমাখা গতরের লগে লাগলে আফার গতরখানা অপবিত্র হইয়া যাইবো?

আইচ্ছা, পবিত্র যদি অন্য কিছুর স্পর্শে অপবিত্র হইয়া যায় তাইলে কে বেশি শক্তিশালী পবিত্র , না অন্য কিছু....?

শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০১৬

গ্রাম

জাঙালিয়া নামে এক গ্রামে গেলাম। গ্রামটি যেন মমতা দিয়ে ঘেরা, গ্রামের সারা শরীরে সবুজের লোম। হাড়িধোয়া নামে হ্রদের মতো একটি নদী গ্রামীণ পরিবেশে জলভেজা আবেদনকে পরিপূর্ণ করে রেখেছে। ধানের সবুজ অবুঝ মনটিকে সান্ত্বনার চকলেট দিয়ে নাচিয়ে রাখে সারাক্ষণ। নাম নাজানা কিছু পাখির অচেনা সুর হৃদয়ের কোন অচেনা গলিপথে যেন হামাগুড়ি দিয়ে জায়গা করে নেয়।

এখানকার মানুষেরা মানুষের মতো সহজ, সরল, সাবলীল। হোমিও ডাক্তার কাসেম চাচ্চু, কবিরাজ লিটনদা জীবনকে উপলব্ধি করে বিশ্বাসে। প্রশ্ন করা তারা এখনো শেখেনি।

তাতে কী?

শান্তিপূর্ণ জীবনই তো সকল প্রশ্নের উত্তর বাড়ি।

সমস্যা নেই। তারা শান্তিতেই আছে।

চায়ের স্টলগুলো যেন আত্মীয়বাড়ির আলগা ঘর -- আড্ডার আত্মার নিকটতম জায়গা। কাহারা সারা দিনের জমানো ব্যথা, অভিমান, চাপা ক্ষোভ, ঘৃণা এই চায়ের দোকানে রেখে যায়, চায়ের দোকান তাদের হাজারো কথা বুকে ধারন করে মূর্তিমান, নির্বাক অথচ সজীব। কলার হলুদ আবেদন খাবারের রুচিবোধকে শিল্পসম্মত করে তোলে।

চাস্টলে ঢুকলাম।

চার কাপ দুধ দাও ভাই

যেহেতু সরাসরি গরুর দুধ সেহেতু হাতছাড়া করার মানে হয় না। ছেলেটি দুধ দিলো। আমরা দুধ পান করছি।

কিছু মনে নিওন না

কেন রে ভাই

দুদডা একটু বাহি

জানতে পারি দুধ আগের দিন সকালের। রেগে যাওয়ার কথা কিন্তু শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে এলো, ছেলেটির সততার কাছে মাথা নত করতে হলো। জায়েদা সরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়ে প্রানপ্রিয় স্বামী ইমাম হাসানকে  হত্যা করে ফেলে,
আর এই ছেলেটি বাহি দুধ আমাদেরকে খাওয়ানোর আগে অনুমতি প্রার্থনা করছে .....শহরের মানুষ টিস্যু পেপার সিদ্ধ করে দুধের ফ্লেবার মিশিয়ে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ধোঁকা দিচ্ছে,
আর এই ছেলেটি বাহি দুধ খাওয়ানোর আগে অপরাধবোধ তাকে অতুলপ্রসাদ করে তুলছে....

সত্যিই সততা চকচকে কালার, বার্নিশ করা ফার্নিচার  আর ভদ্রপল্লীতে খুঁজিয়া পাওয়া বিরল, সততা থাকে এখানে-- সহজ সরল মানুষের কাছে, রাস্টটিক টাইপের মানুষের কাছে....

শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০১৬

ধন্যা

তিনি সারাদিন দুইয়ের,চারের নামতার উপর বিশেষ  গবেষণা চালান। গবেষণা করতে করতে একসময় তিনি নামতাজীবী হলেন। পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। তাই সরকার নামতাজীবীর পরিশ্রমের  সম্মানস্বরূপ বিশেষ স্বীকৃতি দেন। এ স্বীকৃতি আমাদের সমাজে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। নামতাজীবী বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর অনেকটা বাংলা সিনেমার নায়ক হয়ে যান-- রাস্তা দিয়ে হাঁটলে দশজোড়া-বিশজোড়া মাইয়াচোখ তার দিকে তাকাইয়া থাকে। গ্রামের মোড়ল আদর কইড়্যা চায়ের দোকানে এক কাপ চা খাওয়ায়,আর কই

বাপধন আমার,ঘরে কি নতুন একটা ধন্যা কিন্না  আনবা না?

নামতাজীবী তখন লজ্জায় মরি মরি, কয়েক দিনের মধ্যেই নামতাজীবী ঘরটা নতুন  কইরা সাজায় , ঘরে নতুন আসবাব কিনে আনে, কিনে আনে আসবাবের উপরে গন্ধহীন ফুল।

নামতাজীবী তখন আগের চেয়ে দামী দামী কাপড় কিনে,কাপড়ে বিদেশি পারফিউম মাহে,  সকল প্রস্তুতি শেষ করে নামতাজীবী ধন্যার বাজারে যায়। ধন্যার বাজার থেইক্কা একসময় একটা প্রিস্টিজিয়াস ধন্যা কিন্না আনে।

ধন্যা ত ঘরে থাকার বস্তু বাইরে যাইবে ক্যান?

ধন্যা যদি বাইরে যায় নামতাজীবীর সমস্ত কুকর্ম যে দেইখ্যা ফেলাইব,  বুইঝা লাইব প্রতারনার খতিয়ান, বুইঝা লাইব প্রতারনার চূড়ান্ত হিসাব।

তাই ধন্যা কিন্না  আনার কয়েক দিনের মধ্যেই ধন্যার ভেতর থেইক্কা বাইর কইরা আনতে চায় আরেকটা ধন্যা।

তাতে নামাতাজীবীর ফায়দা কী?

ফায়দা আছে মিয়া ভাই, ফায়দা আছে ....

তহন ধন্যা ধন্যা ব্যস্ত  হইয়া যাইব আর নামতাজীবী ব্যস্ত  হইয়া থাকব বাইজিদের কামলীলায়।

বাইজিরা নৃত্য করব,মদ খাওয়াইব আর কইব

আমরা তোমারে চায়

 ধন্যা তখন ধন্যার কান্দন থামানোর কাজে ব্যস্ত হইয়া পড়ব। নামতাজীবী মাইদ্যে মাইদ্যে বাড়িতে যাইব, আসবাব আর ধন্যার লগে একটু সময় কাটাইব। নামতাজীবীর হিসাব বড়ই কড়া--

দশ এক এ দশ
 দশ দু গুনে বিশ
ঘরের বউ ঘরে থাকলে শান্তি অহর্নিশ।

ভিখারী হয়েছি অনেক আগে
সত্যিকারের নয়, অভিনয় করে
তাবুর পাশে জ্বলছে আগুন
ভিখারী হওয়ার এই তো ফাগুন