বাঙালি প্রশ্ন করতে পারে, প্রশ্ন নিয়ে আবিষ্কার করতে পারে না
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
প্রেমিক
মুসা নবীর যুগের এক পাগল। মুসা নবী যে রাস্তা দিয়ে তুর পাহাড়ে যায় সেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।
মুসা কই যাও?
আল্লার লগে দেখা করতে যাই।
তোমার আল্লারে একটা কথা জিগাইবা?
কী কথা?
আমি জান্নাতি, না জাহান্নামি?
হ জিগামু।
মুসা নবী তুর পাহাড় থেকে বাড়ি ফিরছে। তখনো সন্ধ্যা নামেনি। সকাল থেকে পাগল রাস্তায় দাঁড়ানো। মুসা নবী আসবে, তার কাছ থেকে সে জানবে তার পরকালীন অবস্থান।
মুসা আল্লারে জিগাইছো?
হ।
আল্লা কী কইছে?
আল্লা কইছে তুমি জাহান্নামি!
তারপর থেকে পাগল আনন্দে নাচতে আরম্ভ করে। সন্ধ্যা থেকে রাত, রাত থেকে সকাল পাগলের আনন্দনাচ শেষ হয় না। সকালে আবার মুসা নবীর সাথে দেখা।
পাগল তুমি তো জাহান্নামি, তো তুমি নাচো ক্যান?
আরে মুসা, আল্লা এতো কোটি কোটি লোকের মাঝে আমার মতো কীট মানুষ রে চিনে এটাই আমার আনন্দ।
মুসা নবীর চোখে জল এসে গেল। মুসা নবী ভাবলেন এতো সুক্ষ্মদর্শী প্রেমিক তো আমিও হতে পারি নাই।
প্রজাপতি,
প্রেম কখনো প্রাপ্তির মানে নির্ধারিত হয় না। প্রেম অন্তরের গোপন গুহায় মিটমিট করে জ্বলতে থাকা এক জোঁনাকি পোকা-- যতনে বাড়ে তার আলো, অযতনে আরো বেড়ে যায়, আরো বেড়ে যায় তার স্রোত, নদী, আলো।
তোমার দেয়া গালি আমার কাছে প্রমিত সুর হয়ে যায় যা শুনে কখনো বিরক্তি আসে না। কী ঝরণাময়া তোমার গালি! ধীরে ধীরে গালির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
গালি শুনতে আমার ভালো লাগে। কারণ গালির মধ্য দিয়ে মানুষের অপছন্দের জায়গাগুলো সনাক্ত করা যায়। মানুষ যা অপছন্দ করে ছোট্ট সুবিধার কারণে তাই নিয়ে গড়ে তুলে আরেক গালিমি জীবন। তাইতো তাদের গালি গদ্যময়।
আর তোমার গালি ইশ্বরের মতো সংলাপধর্মী।
ইশ্বরকে অন্তরে উপলব্ধি করতে মানুষ কত সাধনা করে। আমিও হয়েছি সাধক, প্রজাপতির সাধক। যদি একবার তোমার উপলব্ধি আমার অন্তরে মন্দিরের ঘণ্টার মতো বেজে ওঠে তাহলে তোমার দেয়া গালির মর্যাদা আংশিক হয়তো রক্ষা করতে পারবো।
মুসা নবীর যুগের সেই প্রেমিক পাগল হয়তো আমি নই, তারপরও পাগলটিকে আমার অনেক ভালো লাগে। আর মানুষের যা ভালো লাগে ধীরে ধীরে মানুষ তাই হয়ে যায়।
নাকি পাগল হয়েই আছি? নতুবা সংসার সীমান্ত গল্পের রজনীকে এতো মনে পড়ে কেন? কেন মনে পড়ে ডাকঘর নাটকের সেই অমৃত সংলাপ-- সুধা তোমাকে ভুলে নি।
প্রজাপতি,
তুমি কী অমলের সুধা হবে? তা হলেও অন্তত মৃত্যুর কিংবদন্তী তৃষ্ণা থাকবে না আমার,
থাকবে না আমার।
মুসা কই যাও?
আল্লার লগে দেখা করতে যাই।
তোমার আল্লারে একটা কথা জিগাইবা?
কী কথা?
আমি জান্নাতি, না জাহান্নামি?
হ জিগামু।
মুসা নবী তুর পাহাড় থেকে বাড়ি ফিরছে। তখনো সন্ধ্যা নামেনি। সকাল থেকে পাগল রাস্তায় দাঁড়ানো। মুসা নবী আসবে, তার কাছ থেকে সে জানবে তার পরকালীন অবস্থান।
মুসা আল্লারে জিগাইছো?
হ।
আল্লা কী কইছে?
আল্লা কইছে তুমি জাহান্নামি!
তারপর থেকে পাগল আনন্দে নাচতে আরম্ভ করে। সন্ধ্যা থেকে রাত, রাত থেকে সকাল পাগলের আনন্দনাচ শেষ হয় না। সকালে আবার মুসা নবীর সাথে দেখা।
পাগল তুমি তো জাহান্নামি, তো তুমি নাচো ক্যান?
আরে মুসা, আল্লা এতো কোটি কোটি লোকের মাঝে আমার মতো কীট মানুষ রে চিনে এটাই আমার আনন্দ।
মুসা নবীর চোখে জল এসে গেল। মুসা নবী ভাবলেন এতো সুক্ষ্মদর্শী প্রেমিক তো আমিও হতে পারি নাই।
প্রজাপতি,
প্রেম কখনো প্রাপ্তির মানে নির্ধারিত হয় না। প্রেম অন্তরের গোপন গুহায় মিটমিট করে জ্বলতে থাকা এক জোঁনাকি পোকা-- যতনে বাড়ে তার আলো, অযতনে আরো বেড়ে যায়, আরো বেড়ে যায় তার স্রোত, নদী, আলো।
তোমার দেয়া গালি আমার কাছে প্রমিত সুর হয়ে যায় যা শুনে কখনো বিরক্তি আসে না। কী ঝরণাময়া তোমার গালি! ধীরে ধীরে গালির মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
গালি শুনতে আমার ভালো লাগে। কারণ গালির মধ্য দিয়ে মানুষের অপছন্দের জায়গাগুলো সনাক্ত করা যায়। মানুষ যা অপছন্দ করে ছোট্ট সুবিধার কারণে তাই নিয়ে গড়ে তুলে আরেক গালিমি জীবন। তাইতো তাদের গালি গদ্যময়।
আর তোমার গালি ইশ্বরের মতো সংলাপধর্মী।
ইশ্বরকে অন্তরে উপলব্ধি করতে মানুষ কত সাধনা করে। আমিও হয়েছি সাধক, প্রজাপতির সাধক। যদি একবার তোমার উপলব্ধি আমার অন্তরে মন্দিরের ঘণ্টার মতো বেজে ওঠে তাহলে তোমার দেয়া গালির মর্যাদা আংশিক হয়তো রক্ষা করতে পারবো।
মুসা নবীর যুগের সেই প্রেমিক পাগল হয়তো আমি নই, তারপরও পাগলটিকে আমার অনেক ভালো লাগে। আর মানুষের যা ভালো লাগে ধীরে ধীরে মানুষ তাই হয়ে যায়।
নাকি পাগল হয়েই আছি? নতুবা সংসার সীমান্ত গল্পের রজনীকে এতো মনে পড়ে কেন? কেন মনে পড়ে ডাকঘর নাটকের সেই অমৃত সংলাপ-- সুধা তোমাকে ভুলে নি।
প্রজাপতি,
তুমি কী অমলের সুধা হবে? তা হলেও অন্তত মৃত্যুর কিংবদন্তী তৃষ্ণা থাকবে না আমার,
থাকবে না আমার।
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
ন
১
নারীকে প্রথম দর্শনে যতটুকু সুন্দর দেখায় ততটুকু সুন্দর সে নয়, নারীকে প্রথম দর্শনে যতটুকু কুৎসিত দেখায় ততটুকু কুৎসিত সে নয়।
২
আলোর সঠিক নিচে থাকে বেশ্যা অন্ধকার।
৩
অসীম সাহসী ছোট মশা আমার প্রিয়ার হৃদয়কেও রক্ত ভাবে।
৪
স্বর্গের কোথায় প্রজাপতি নামে একটি মন্দির আছে যেখানে পূজারত অবস্থায় দ্বিতীয়বার মৃত্যুবরণ করা যায়?
৫
অন্ধ আর বোবাদের প্রেম প্রেমের মহাকাব্য-- দৃষ্টিভ্রমহীন, বচন সংকট মুক্ত অনুভূতির মেঘ।
৬
রক্তাক্ত= রক্তের দাগ।
বেদনা= মন বদ করার চিৎকার।
৭
অসংখ্য অসুখ নিয়ে একজন সুখী মানুষ।
৮
ইট হতে গেলে আগুনের সাথে বন্ধুত্ব থাকা আবশ্যক
৯
দরজা খোলা রেখেছি চোরের সুবিধার জন্য নয়, চোরের মতো বের হয়ে যাওয়ার জন্য।
১০
গালির সীমানা প্রাণির পছন্দের সীমানা, ঢেউ জলের স্বপ্ন।
নারীকে প্রথম দর্শনে যতটুকু সুন্দর দেখায় ততটুকু সুন্দর সে নয়, নারীকে প্রথম দর্শনে যতটুকু কুৎসিত দেখায় ততটুকু কুৎসিত সে নয়।
২
আলোর সঠিক নিচে থাকে বেশ্যা অন্ধকার।
৩
অসীম সাহসী ছোট মশা আমার প্রিয়ার হৃদয়কেও রক্ত ভাবে।
৪
স্বর্গের কোথায় প্রজাপতি নামে একটি মন্দির আছে যেখানে পূজারত অবস্থায় দ্বিতীয়বার মৃত্যুবরণ করা যায়?
৫
অন্ধ আর বোবাদের প্রেম প্রেমের মহাকাব্য-- দৃষ্টিভ্রমহীন, বচন সংকট মুক্ত অনুভূতির মেঘ।
৬
রক্তাক্ত= রক্তের দাগ।
বেদনা= মন বদ করার চিৎকার।
৭
অসংখ্য অসুখ নিয়ে একজন সুখী মানুষ।
৮
ইট হতে গেলে আগুনের সাথে বন্ধুত্ব থাকা আবশ্যক
৯
দরজা খোলা রেখেছি চোরের সুবিধার জন্য নয়, চোরের মতো বের হয়ে যাওয়ার জন্য।
১০
গালির সীমানা প্রাণির পছন্দের সীমানা, ঢেউ জলের স্বপ্ন।
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
আমরা মানুষ
ইলেকট্রন। প্রোটন। নিউটন। কোয়ার্ক। একসময় সময়ের চরে ভেসে উঠে প্রাণী। প্রাণী থেকে বিস্তৃর্ণ প্রাণিমাঠ। প্রাণিমাঠ থেকে মানুষের ইতিহাস। জন্ম থেকে প্রাণীকে প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। মানুষকেও যুদ্ধবিদ্যা আয়ত্ত করতে হয়েছে। মানুষ যুদ্ধে সমকালীন পারদর্শী। জ্ঞানের রাজ্যে ভ্রমণ করে জানতে পারি যে মানুষই প্রকৃতিরাজ্যের নায়ক, অন্যভাবে বললে 'চালাক শোষক'। প্রকৃতির প্রত্যেকটি বিভাগে মানুষ তার প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট রয়েছে, সফলও হচ্ছে। মানুষের ইতিহাস তাইতো প্রভাব বিস্তারের ইতিহাস যেখানে টিকে থাকা আসল কথা, পাপ-পুণ্যের প্রশ্ন অবান্তর।
মানুষ প্রথমে অভ্যাস তৈরি করে। পরে অভ্যাস মানুষকে চালিত করে। অভ্যাস সব সময় চাহিদাকে সামনে রেখে গঠিত হয় এমন নয়, চাহিদার আয়োজনকে ফাঁকি দিয়েও সে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে থাকে । অভ্যাস জন্মগত নয়, জন্মমাত্র মানুষের অভ্যাস থাকে। শব্দ উচ্চারণের অভ্যাসে ভাষার জন্ম। ভাষার জন্মের শুরুর দিকে বর্ণ বলে কিছু ছিল না , ছিল না ভাষার লিখিত রূপ। ভাষা কেবল ভাব বিনিময়ের হাতিয়ার। ভাবনার সাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে ভাববলয়। সমাজ, জাতি, পরিবার, গঠনে ভাববলয় অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনের স্রোত ভেসে দৃশ্যায়িত হয় বর্ণপরিবার। মুখে মুখে উচ্চারিত শব্দকে বৈজ্ঞানিক করার প্রচেষ্টা। মুখের উচ্চারিত শব্দমালা গাছের পাতায়, খাতায়, গুহায় সংগৃহীত হতে থাকে।সূর্য যেহেতু পৃথিবীর সকল প্রান্তে সমানভাবে কিরণ দেয় না, সেহেতু সব এলাকার মানুষের মানসিক বিস্তার এক নয়।
শব্দ কিংবা শব্দমালা মানসিকতার একক। তাই শব্দের জাতীয় পরিচয়ে মানুষের মধ্যে জন্ম হয় জাতিগত বিভেদ। ধর্ম তখনো মূখ্য ছিল না। জাতিগত বিভেদকে নিজস্ব অধীনে সফল রাখার তাগিদে তৈরি হয় ধর্মের ঢামাঢোল।
আর আজ!
ধর্মের পার্থক্য সবচেয়ে বড় পার্থক্য! ধর্মের কারণে আমরা ভুলে গেছি আমাদের জন্মগত পরিচয়-- আমরা মানুষ।
প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে মানুষের আবর্তন-বিবর্তন। প্রয়োজন মানুষের মানবিক গুণের একক। প্রয়োজনের জায়গা থেকে মানুষ পশু শিকার করে, একই প্রয়োজনের জায়গা থেকে মানুষ পশুপরিবারে সন্ত্রাস হিসেবে তালিকাভুক্ত। 'প্রয়োজন' শব্দটি যখন মানুষের নিজ পরিবারের দিকে ছুটে আসছে তখনই 'বিপ্লব' হচ্ছে 'বিদ্রোহ', 'বিদ্রোহ' হচ্ছে 'বিপ্লব' ।
তারপরও আমরা প্রয়োজনের একটা মান নির্ধারণের চেষ্টা করি। প্রয়োজনকে তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই যাতে পাগলা ঘোড়া লাগামছাড়া না হয়। আর প্রয়োজনের প্রায়োগিক মানদণ্ড `মানুষ মানুষের জন্য', `জীবন জীবনের জন্য'। তালিকা নির্ধারনে ব্যক্তিরুচির চেয়ে যখন ভোক্তারুচি মূখ্য হয়ে উঠে তখনই প্রদর্শিত সিনেমার নাম `হুমকি', `বিশৃঙ্খলা', `ভাত দে হারামজাদা '।
সময়ের প্রাসঙ্গিকতায় মানুষের শেকড়মুখী প্রয়োজন দুই ধরনের
এক- বেঁচে থাকার প্রয়োজন
দুই- বিকশিত হওয়ার প্রয়োজন
বিকশিত প্রতিভা'র জায়গা থেকে মানুষ মূলত মানুষ। মানুষ খুব করে বিকশিত হতে থাকে যখন সে ভাবনার আদান-প্রদান যন্ত্রের সাথে পরিচিত হয়। ভাবনার আদান-প্রদানের যন্ত্রটির নাম 'ভাষা'।
পৃথিবীর প্রত্যেক ভাষার Syntax প্রায় (Sub-verb-object)এক। তাহলে আমরা বলতেই পারি মানুষের মানসিক গাঠনিক পর্যায়টা এক। আজকে মৌলবাদী বলতে আমরা যা বুঝি তা সৃষ্ট মৌলবাদী, প্রকৃত মৌলবাদীর জায়গায় মানুষ কখনো মানুষের শত্রু হতে পারে না। তাই মানুষ যে কোন উপায়ে মানুষের বিরুদ্ধে যখন রাজনীতি করে তা কখনো রাজনীতির পর্যায়ভুক্ত না। মানুষের বিরুদ্ধে যা কিছু যাবে তাই লিটলবয়, ফ্যাটম্যান, মানব অস্থিত্বের ধ্বংসের মরণাস্ত্র।
মানুষের মানসিক বিস্তার এক না হলেও মানসিক বিস্তারের কোষ যে পরিবেশ থেকে শক্তি লাভ করে তা কিন্তু এক। একক জায়গার কথা চিন্তা করে আমাদের ভ্রমণ একমুখী হলেই পৃথিবী মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠবে ।
আশার কথা হল মানুষের দ্বন্দ্বের জায়গাগুলো সৃষ্ট,আর মৈত্রীর জায়গাগুলো প্রাকৃতিক। মানুষ যত চৈতন্যের কাছাকাছি যাবে ততই মানুষ প্রাকৃতিক হয়ে উঠবে।
প্রাকৃতিক মানুষ কেমন?
প্রাকৃতিক মানুষ অন্তত নিজ সম্প্রদায়কে প্রতিযোগী মনে করে না। প্রাকৃতিক মানুষ প্রকৃতির মতো সাহসী, উদার। বেঁচে থাকা তাদের কাছে প্রথম এবং শেষ কথা নয়, বাঁচানো তাদের বেঁচে থাকার মতো জন্মউদ্দেশ্য।
মানুষ প্রথমে অভ্যাস তৈরি করে। পরে অভ্যাস মানুষকে চালিত করে। অভ্যাস সব সময় চাহিদাকে সামনে রেখে গঠিত হয় এমন নয়, চাহিদার আয়োজনকে ফাঁকি দিয়েও সে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়ে থাকে । অভ্যাস জন্মগত নয়, জন্মমাত্র মানুষের অভ্যাস থাকে। শব্দ উচ্চারণের অভ্যাসে ভাষার জন্ম। ভাষার জন্মের শুরুর দিকে বর্ণ বলে কিছু ছিল না , ছিল না ভাষার লিখিত রূপ। ভাষা কেবল ভাব বিনিময়ের হাতিয়ার। ভাবনার সাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে ভাববলয়। সমাজ, জাতি, পরিবার, গঠনে ভাববলয় অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনের স্রোত ভেসে দৃশ্যায়িত হয় বর্ণপরিবার। মুখে মুখে উচ্চারিত শব্দকে বৈজ্ঞানিক করার প্রচেষ্টা। মুখের উচ্চারিত শব্দমালা গাছের পাতায়, খাতায়, গুহায় সংগৃহীত হতে থাকে।সূর্য যেহেতু পৃথিবীর সকল প্রান্তে সমানভাবে কিরণ দেয় না, সেহেতু সব এলাকার মানুষের মানসিক বিস্তার এক নয়।
শব্দ কিংবা শব্দমালা মানসিকতার একক। তাই শব্দের জাতীয় পরিচয়ে মানুষের মধ্যে জন্ম হয় জাতিগত বিভেদ। ধর্ম তখনো মূখ্য ছিল না। জাতিগত বিভেদকে নিজস্ব অধীনে সফল রাখার তাগিদে তৈরি হয় ধর্মের ঢামাঢোল।
আর আজ!
ধর্মের পার্থক্য সবচেয়ে বড় পার্থক্য! ধর্মের কারণে আমরা ভুলে গেছি আমাদের জন্মগত পরিচয়-- আমরা মানুষ।
প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে মানুষের আবর্তন-বিবর্তন। প্রয়োজন মানুষের মানবিক গুণের একক। প্রয়োজনের জায়গা থেকে মানুষ পশু শিকার করে, একই প্রয়োজনের জায়গা থেকে মানুষ পশুপরিবারে সন্ত্রাস হিসেবে তালিকাভুক্ত। 'প্রয়োজন' শব্দটি যখন মানুষের নিজ পরিবারের দিকে ছুটে আসছে তখনই 'বিপ্লব' হচ্ছে 'বিদ্রোহ', 'বিদ্রোহ' হচ্ছে 'বিপ্লব' ।
তারপরও আমরা প্রয়োজনের একটা মান নির্ধারণের চেষ্টা করি। প্রয়োজনকে তালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই যাতে পাগলা ঘোড়া লাগামছাড়া না হয়। আর প্রয়োজনের প্রায়োগিক মানদণ্ড `মানুষ মানুষের জন্য', `জীবন জীবনের জন্য'। তালিকা নির্ধারনে ব্যক্তিরুচির চেয়ে যখন ভোক্তারুচি মূখ্য হয়ে উঠে তখনই প্রদর্শিত সিনেমার নাম `হুমকি', `বিশৃঙ্খলা', `ভাত দে হারামজাদা '।
সময়ের প্রাসঙ্গিকতায় মানুষের শেকড়মুখী প্রয়োজন দুই ধরনের
এক- বেঁচে থাকার প্রয়োজন
দুই- বিকশিত হওয়ার প্রয়োজন
বিকশিত প্রতিভা'র জায়গা থেকে মানুষ মূলত মানুষ। মানুষ খুব করে বিকশিত হতে থাকে যখন সে ভাবনার আদান-প্রদান যন্ত্রের সাথে পরিচিত হয়। ভাবনার আদান-প্রদানের যন্ত্রটির নাম 'ভাষা'।
পৃথিবীর প্রত্যেক ভাষার Syntax প্রায় (Sub-verb-object)এক। তাহলে আমরা বলতেই পারি মানুষের মানসিক গাঠনিক পর্যায়টা এক। আজকে মৌলবাদী বলতে আমরা যা বুঝি তা সৃষ্ট মৌলবাদী, প্রকৃত মৌলবাদীর জায়গায় মানুষ কখনো মানুষের শত্রু হতে পারে না। তাই মানুষ যে কোন উপায়ে মানুষের বিরুদ্ধে যখন রাজনীতি করে তা কখনো রাজনীতির পর্যায়ভুক্ত না। মানুষের বিরুদ্ধে যা কিছু যাবে তাই লিটলবয়, ফ্যাটম্যান, মানব অস্থিত্বের ধ্বংসের মরণাস্ত্র।
মানুষের মানসিক বিস্তার এক না হলেও মানসিক বিস্তারের কোষ যে পরিবেশ থেকে শক্তি লাভ করে তা কিন্তু এক। একক জায়গার কথা চিন্তা করে আমাদের ভ্রমণ একমুখী হলেই পৃথিবী মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠবে ।
আশার কথা হল মানুষের দ্বন্দ্বের জায়গাগুলো সৃষ্ট,আর মৈত্রীর জায়গাগুলো প্রাকৃতিক। মানুষ যত চৈতন্যের কাছাকাছি যাবে ততই মানুষ প্রাকৃতিক হয়ে উঠবে।
প্রাকৃতিক মানুষ কেমন?
প্রাকৃতিক মানুষ অন্তত নিজ সম্প্রদায়কে প্রতিযোগী মনে করে না। প্রাকৃতিক মানুষ প্রকৃতির মতো সাহসী, উদার। বেঁচে থাকা তাদের কাছে প্রথম এবং শেষ কথা নয়, বাঁচানো তাদের বেঁচে থাকার মতো জন্মউদ্দেশ্য।
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
নায়ক
যখন সে সিংহাসনে তখন সে রাজা
যখন সে যুদ্ধের ময়দানে তখন সে সৈনিক
যখন সে মঞ্চে তখন সে বক্তা
যখন সে মাঠে তখন সে খেলোয়াড়
যখন সে রাজনীতিবিদ তখন সে দূরদর্শী
যখন সে ছাত্র তখন সে বিনয়ী
যখন সে প্রেমিক তখন সে শিশু
আমি এমন একজন মানুষ চাই
আমরা এমন এক নায়ক চাই
আমাদের এমন এক নেতা প্রয়োজন
যখন সে যুদ্ধের ময়দানে তখন সে সৈনিক
যখন সে মঞ্চে তখন সে বক্তা
যখন সে মাঠে তখন সে খেলোয়াড়
যখন সে রাজনীতিবিদ তখন সে দূরদর্শী
যখন সে ছাত্র তখন সে বিনয়ী
যখন সে প্রেমিক তখন সে শিশু
আমি এমন একজন মানুষ চাই
আমরা এমন এক নায়ক চাই
আমাদের এমন এক নেতা প্রয়োজন
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
দরবার
হাওনের আগে দরবারের পরে
এটি আঞ্চলিক প্রচলিত কথা। খাবারের আগে কেন যেতে হবে? কারণ পরে গেলে ভালো খাবার পাওয়া যাবে না। দরবারের শেষে আলোচনা জমে বেশ। আলোচনা জমে ওঠার চেয়ে বড় কথা অল্প সময়ে সমাধান জানা যাবে। অর্থাৎ চা স্টলের হিংসাত্মক আলোচনা করার বিষয় কে বা কি হয়ে উঠবে তা স্পষ্ট হবে।
দরবার একটি সামাজিক বিচারালয় যেখান থেকে সামাজিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। সামষ্টিক সমস্যা সমাধানের শিক্ষা দরবারে চর্চিত হয়ে থাকে। কতটুকু সুস্থ চর্চা হয় এই প্রশ্ন করাই যেতে পারে। তবে গ্রামীণ মানুষের গ্রামীণ বিচারালয় যে দরবার এই ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা না।
প্রচলিত কথাটির মধ্য দিয়ে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট যে এখানে খাবারের জন্য প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেক মানুষকে প্রতিযোগী মনে করে। এখনো মৌলিক চাহিদার ব্যাপারে যে সম্প্রদায় একে অন্যকে প্রতিযোগী মনে করে তারা কীভাবে আন্তর্জাতিক মানুষ হয়ে ওঠবে?
জন্ম-মৃত্যু-খাদ্য এই তিন চক্রনেমি গ্রামীণ সমাজের ভাগ্য। ফলে দেখা যায় একদিন ভালো কোনো খাবারের ব্যবস্থা হলে পেটে-পীঠে এক সাথে সংগ্রহ করে।
আর দরবারের কর্তা হয়ে ওঠে তারাই যাদের আর্থিক সক্ষমতা আছে। কর্তা বাবুর আদেশ আবশ্যিকভাবে অন্যদের মেনে নিতে হয়। কারণ কর্তা বাবুর আদেশের সাথে যে হুকুম মান্যকারীদের অর্থনৈতিক ভাগ্য জড়িত।
এটি আঞ্চলিক প্রচলিত কথা। খাবারের আগে কেন যেতে হবে? কারণ পরে গেলে ভালো খাবার পাওয়া যাবে না। দরবারের শেষে আলোচনা জমে বেশ। আলোচনা জমে ওঠার চেয়ে বড় কথা অল্প সময়ে সমাধান জানা যাবে। অর্থাৎ চা স্টলের হিংসাত্মক আলোচনা করার বিষয় কে বা কি হয়ে উঠবে তা স্পষ্ট হবে।
দরবার একটি সামাজিক বিচারালয় যেখান থেকে সামাজিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। সামষ্টিক সমস্যা সমাধানের শিক্ষা দরবারে চর্চিত হয়ে থাকে। কতটুকু সুস্থ চর্চা হয় এই প্রশ্ন করাই যেতে পারে। তবে গ্রামীণ মানুষের গ্রামীণ বিচারালয় যে দরবার এই ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা না।
প্রচলিত কথাটির মধ্য দিয়ে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট যে এখানে খাবারের জন্য প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেক মানুষকে প্রতিযোগী মনে করে। এখনো মৌলিক চাহিদার ব্যাপারে যে সম্প্রদায় একে অন্যকে প্রতিযোগী মনে করে তারা কীভাবে আন্তর্জাতিক মানুষ হয়ে ওঠবে?
জন্ম-মৃত্যু-খাদ্য এই তিন চক্রনেমি গ্রামীণ সমাজের ভাগ্য। ফলে দেখা যায় একদিন ভালো কোনো খাবারের ব্যবস্থা হলে পেটে-পীঠে এক সাথে সংগ্রহ করে।
আর দরবারের কর্তা হয়ে ওঠে তারাই যাদের আর্থিক সক্ষমতা আছে। কর্তা বাবুর আদেশ আবশ্যিকভাবে অন্যদের মেনে নিতে হয়। কারণ কর্তা বাবুর আদেশের সাথে যে হুকুম মান্যকারীদের অর্থনৈতিক ভাগ্য জড়িত।
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
প্রশ্ন
এখানে প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ। কারণ এই শহরের প্রধান দরজায় প্রেম আর বিশ্বাস তালা হয়ে ঝুলে আছে। মৃত্যুই একমাত্র চাবি যার মাধ্যমে তালা খুলবার প্রতিশ্রুতি আছে।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)