বুধবার, ৬ মে, ২০১৫

আন্ধারে

সুখী হতে চায় যারা সুখী হবে
আমি না হয় চাপা পড়ে যাবো কোনো এক গভীর আন্ধারে
আন্ধারফুল গন্ধ ছড়ায় অমলিন
বিদীর্ণ হাহাকারে যদি কোনো রাত নামে
বিধ্বস্ত পথিক রাস্তাপাশে পাবে আমার দেখা
আমি তখন আন্ধারফুল গন্ধ ছড়াই ছোপ ছোপ বিমল ক্লান্তি রেখায় 

সোমবার, ৪ মে, ২০১৫

প্রজাপতি ...

পৌরাণিকসত্য অবচেতন এলাকার কথা বলে। আজকের আমরা আগামীকালের পৌরাণিক প্রাণি হয়ে উঠি চিন্তা থেকে চেতনায়।  পৌরাণিকসত্য বলে তুমি ছিলে আমারই অংশ, আমিও তোমার।
জিউসের খুব ঈর্ষা হচ্ছিল। দেবতার ক্ষমতার কাছে  আমরা নগন্য। অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেল আমাদের। জ্ঞান ফিরে দেখি আমারই আরেকটি অংশ আমার সাথে নেই। তারপর থেকে তোমাকে খুঁজতে শুরু করি।  নিউজিল্যান্ড থেকে নরওয়ে, নরওয়ে থেকে আরশে আজিম, কোথাও তোমার দেখা নেই। আশাহীন, ভাষাহীন চলতে থাকি একা একা কালের পর কাল, ছায়ার পর ছায়া। তুমিও বসা পৃথিবীর এক কোণায় আমারই প্রতীক্ষায়। কতবার তোমার ছায়াকে দেখেছে আমার প্রতীক্ষার চোখ। তোমার কায়াতে যেদিন প্রথম বারের মতো চোখ পড়ল সেইদিন প্রথম বারের মতো পরিপূর্ণ অনুভব করলাম প্রাণের শিহরণ। আমার অন্তরআল্লা নাযিল করল প্রথম আয়াত--

এতো দিন কোথায় ছিলে?
কোথায় ছিলে প্রজাপতি !

প্রান্তিক রেলওয়ে স্টশনের শুন্যতায় তখন তুমি আর আমি। আমরা আর শুন্যতা মিলে এক চাঁদের কথা ভাবলাম, অনেক রকম জোছনাস্বপ্ন জন্মে নিয়েছিল আমাদের ভাবনায় । আমাদের চারটি চোখ তখন পৃথিবীর গভীর গিরিখাত, আমরা ছিলাম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলর গ্রাউন্ড ফ্লোরে। পুরাতন অনুভূতি চমৎকারভাবে ইন্সটল হলো দেহের প্রত্যেক ভাঁজে।
আজকে আমি পূর্ণাঙ্গ মানুষ, তুমিও।
অর্ধেক মানবী তুমি নও,
অর্ধেক ছিলে এক কালে।

রবিবার, ৩ মে, ২০১৫

সম্পর্ক

সম্পর্ক ভেঙে গেলে থেমে যায়, থেমে যায় কাঁচুমাচু কৌতূহল, থেমে যায় নীলঘরের শপথ, দয়িতাদহন।
আকাশ ভেঙে গেলে আরেকটি আকাশ,
নদী ভেঙে গেলে আরেকটি নদী।
আকাশ আর নদীর মাঝখানে সহজিয়া গদি। 

ধূপছায়া

ভালোবেসে হোক, ঘৃণা করে হোক, এখনো কেউ আমার কথা ভাবে জেনে গেলে ভালো লাগে।  বুদ্ধির শেকড়ে ওঠে ঘাসফড়িঙের নাচ। এক বচ্ছর থেকে এক হাজার বচ্ছর ঘৃণা কিংবা তৃণ হয়ে থাকলেও পা জানে না মনের খবর।
ফ্যালফ্যাল করে দৃষ্টি ফেলি তারাদের উপর।
ক্রমানুসারে বেড়ে চলে দূরত্বের নাচন।
আমাদের চির অচেনা পৃথিবীতে ভুল যার নাম ভালো থাকুক তারা,
ফুল যার নাম ভালো থাকুক তারা
কালো কার্পেট পদলেহনে ব্যস্ত থাকুক
ব্যস্ত থাকুক ঘৃণার ধূপছায়া, লাল আর নীলের শহর যেখানে জমা থাকে ছদ্মবেশের উঠা- নামা।
আর আমি?
জেলির মতো নরম কোষপ্রাণ হয়ে বসে আছি আদমের দেহের আঙিনায়।

বাইলসা

বাইলসা = বালতি
হাবান = সাবান
কৈরকা = মুরগি
আহেক = আসো, এসো

ওটি = ঐখানে। এটি = এখানে

মাইদেনি= সকাল বেলার খাবার
বাইডেক = আঙিনা
ইলেদ্যা= ইচ্ছা

দোহান = দোকান। দোহানদার = দোকানদার

হরকা = সরকার
হইন্ধা = সন্ধ্যা
চই = হাঁস
ছপ= ঝোপ
আরা = বাঁশবাগান
যাহেক = যাও, যাওয়া
মাইদেন = সকাল
পাগাল= ধারালো দা
কেদ = কাদা
কান্দন = কাঁদা

ছেরা = নাতির প্রতি সম্বোধন
ছেরি = নাতনির প্রতি সম্বোধন

পুনাই = বাচ্চা
পুনা = প্রাণির বাচ্চা
হিয়্যাল = শিয়াল
ঠাহুর = ঠাকুর
বরাক = মুষলধারে বৃষ্টি

নামিল্যা/ নাম্নি = পেটের অসুখ, লুজ মোশন

পানঠি = লাঠি
বিআইততা = বিবাহিত
আবিআইততা = অবিবাহিত
হয়োর = শ্বশুর
হোয়রি = শ্বাশুড়ী

আন্নে  আইসকেন = আপনি আসবেন

সুবারি = সুপারি
কাডল= কাঁঠাল 

শুক্রবার, ১ মে, ২০১৫

ধর্ম

শুদ্ধতার কোনো সঠিক গন্তব্য নেই। শুদ্ধতা এক ভ্রমণের নাম। শুদ্ধতার পথে প্রত্যেক মানুষ পথিক মাত্র। শুদ্ধতার পথে প্রামাণিক কোনো স্টেশন আজো আবিষ্কৃত হয়নি। তারপরও ধর্ম শুদ্ধতার স্টেশন বা প্রতিষ্ঠান হিসাবে জনপ্রিয়।

ধর্ম এবং উগ্রতা আলাদা ধারণা। ধর্ম হল একটি বিশ্বাস যা মানুষ ধারণ করে। ধার্মিক বিশ্বাস করে শান্তিময় পৃথিবীর। ধার্মিক জানে কীভাবে শান্তিতে থাকতে হয় এবং অন্যকে রাখতে হয়।
উগ্রতা ব্যক্তিগত। অজ্ঞতা উগ্রতার জন্মস্থান।

আবু জাহেলের নাম মূলত আবুল হেকাম। হেকাম অর্থ জ্ঞানী, প্রাজ্ঞ। আবু জাহেল যখন হযরত মোহাম্মদের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেনি তখনই তার নামের গুরুত্ব কমে যায়। আবু জাহেলের বাড়িতে আজ টয়লেট যেখানে প্রস্রাব করলে পুণ্য হয়। হযরত মোহাম্মদ আবু জাহেলের বাড়িতে প্রত্যেক দিন কয়েকবার করে যেতেন।  আয়াত নাযিল হলো তার বাড়িতে গিয়ে ফায়দা নেই। কারণ আল্লাহ তার দিলে মোহর মেরে দিয়েছেন, শ্রবণযন্ত্র হ্রাস করে দিয়েছেন। আবু জাহেলও নিজের সবোর্চ্চ প্রয়াস দিয়ে হযরত মোহাম্মদ এবং তাঁর অনুসারীদের আক্রমণ, অত্যাচার করার চেষ্টা করেছে, অত্যাচার করেছে। কিন্তু হযরত মোহাম্মদ এবং তাঁর অনুসারীরা গ্রহণ করেছেন অহিংস নীতি। ইসলাম মনে করে, ইসলাম তরবারি দিয়ে জয়লাভ করেনি। ইসলাম জয়লাভ করেছে প্রেমে, ইসলাম জয়লাভ করেছে তার মানবিক নীতিমালা দিয়ে।

মুসলমানদের সংবিধানের নাম কুরান। কুরানের প্রথম সুরা `বাকারা' যার অর্থ গাভী, পশু। কুরানের সর্বশেষ সুরা `নিসা' যার অর্থ মানুষ। ইসলাম মনে করে, কুরান পাঠের মধ্য দিয়ে পশু মানুষে পরিণত হবে। অর্থাৎ পাশবিক চরিত্র মানবিক হয়ে উঠবে। কাউকে পেছন থেকে আক্রমণ করার শিক্ষা ইসলাম দেয় না। ইসলাম আক্রমণ প্রতিহত করে প্রেমে, আক্রমণ প্রতিহত করে যুক্তিতে।

হযরত মোহাম্মাদের নবুওয়াতী সময়েও ব্লগার ছিল যাদেরকে কুরানি কায়দায় বলা হত আ'শুরা। ইসলাম সেইসব আ'শুরাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের জন্যও ইসলামের তরবারি সচল ছিল । তবে তরবারি তাদের কেল্লা কাটেনি, কেটেছে তাদের মন।

প্রত্যেক দেশে, প্রত্যেক জাতিতে ধর্ম লোকাচার হয়ে প্রবেশ করে এবং চর্চিত হয়ে থাকে। ফলে ব্যক্তিচিন্তা ধর্মের ইঞ্জিন চালনা করে। তাতে ফলাফল একটি হয়,
ফলাফলটির নাম দূর্ঘটনা।

হযরত মোহাম্মদ রোজা ভঙ্গের কথা বলেছেন খেজুর দিয়ে। কারণ খেজুর মরুভূমিতে সহজলভ্য। বাংলাদেশে খেজুর সহজলভ্য নয়। তাই বাংলাদেশে ইফতার করা উত্তম পানি দিয়ে। কারণ পানি বাংলাদেশে সহজলভ্য। দূর্ঘটনা ঘটে যখন বাংলাদেশও খেজুর দিয়ে ইফতার করার অতি উত্তম স্লোগান দেয়া হয়।

আরে ভাই, কেন ভুলে যায় মানুষের প্রয়োজনে কুরান, ইসলাম, ধর্ম। সেই মানুষের ক্ষতি করে কোনো ধর্মের গান সমাজে শান্তি দিতে পারে না, পারবে না।

ইয়াসরিব যার আভিধানিক অর্থ ভূতের রাজ্য। সেই ভূতের রাজ্যে হযরত মোহাম্মদ মনে করলেন প্রেমের গান শোনানোর প্রয়োজন। প্রয়োজন থেকে হিজরত। হিজরত করে তিনি প্রচার করলেন প্রেমগানের উদারা, মুদারা, তারা। ইয়াসরিবে দেখা দিল সাম্যের মিছিল। ইয়াসরিব হয়ে গেল মদিনা।
ভূতকে মানুষ করার জন্যই তো ধর্ম, ভূতকে ধবংস করার জন্য এটম বোমা তৈরি হতে পারে কিন্তু ধর্ম না। তারপরও আমার মনে একটি জিজ্ঞাসা থেকে যায় --
ওম শান্তি ওম
সবাই যদি শান্তি চায়, বানায় কেন বোম

বিবাহ

বিবাহ দাম্পত্য যৌনতার স্বীকৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। যেখানে যৌনতাও ব্যক্তিগত থাকে না সেখানে `ব্যক্তিগত' কথাটি খুবই হাস্যকর। বিবাহের দিন তাই যৌনতার জন্মদিন।