— সবচেয়ে গরিব মানুষ কে, বলতে পারো?
— সবচেয়ে গরিব তো সে, যার সঙ্গে মানুষ সম্পর্ক করে কোনো এক প্রয়োজনের আশায়।
— না, সবচেয়ে গরিব তো সেই মানুষ, যে নিজেই প্রয়োজনকে সামনে রেখে সম্পর্ক নির্মাণ করে।
— তাহলে কি কোনো সম্পর্ক আছে, যা প্রয়োজন ছাড়া?
— আছে। তবে আগে একটি দৃশ্য কল্পনা করো। ধরো, নদীর ওপারে তোমার মা দাঁড়িয়ে আছেন, আর এপারে তুমি— তোমার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তোমাকে নদী পার হতে হবে। এখন তোমার একটি নৌকা লাগতে পারে, অথবা একটি সেতু। এই যে নৌকা বা সেতু— এগুলো কিন্তু তোমার প্রয়োজন নয়, এগুলো তোমার আয়োজন। তোমার প্রকৃত প্রয়োজন হলো—মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ। যারা আয়োজনকে প্রয়োজন বানায়— যারা অভিনয় করে, মিথ্যা কথা বলে আয়োজনকে প্রয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তারাই ব্যক্তিগত জীবনবোধে সবচেয়ে গরিব।
— আর কোনো গরীব আছে আপনার দৃষ্টিতে?
— আছে।
— সে কে?
— সে হলো সেই মানুষ, যে কারো উপকার করে, তারপর তার আশেপাশে ঘুরতে থাকে,বারবার মনে করিয়ে দেয়—“আমি তোমার উপকার করেছি।”
— তাহলে তার কী করা উচিত?
— যদি ক্ষমতা থাকে, তবে কারো উপকার করো তাকে না জানিয়ে। যদি ক্ষমতা থাকে, তবে উপকার করে তার কাছ থেকে অনেক দূরে চলে যাও। উপকার করে কাউকে কৃতজ্ঞতার দাস বানিয়ে ফেলো না।
— বুঝলাম।
— অর্থাৎ, যে উপকার করে বিনিময় চায়, আর যে নারী বা পুরুষ সান্নিধ্যের বিনিময়ে অর্থমূল্য দাবি করে—তারা একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে— দুজনেই বিনিময় চায়; দুজনেই সম্পর্ককে রূপান্তর করেছে লেনদেনে।
— তাহলে প্রকৃত ধনী কে?
— যে ভালোবাসে বিনিময়হীনভাবে। যে দেয়, কিন্তু মনে রাখে না। যে পাশে থাকে, কিন্তু মালিকানা দাবি করে না। সেই মানুষই প্রকৃত অর্থে ধনী।